ঢাকা ০১:৪৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ব্যবসা-বিনিয়োগের সব বাধা দূর করার অঙ্গীকার অর্থমন্ত্রীর

নিজস্ব সংবাদ :

দেশে ব্যবসা ও বিনিয়োগের পরিবেশ আরও সহজ ও গতিশীল করতে বিদ্যমান সব ধরনের প্রতিবন্ধকতা দূর করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেছেন, দেশীয় বিনিয়োগের পরিধি না বাড়লে কাঙ্ক্ষিত বিদেশি বিনিয়োগও আকর্ষণ করা সম্ভব নয়। তাই ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ তৈরিকে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে।

শনিবার (২২ আগস্ট) রাজধানীতে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) আয়োজিত ‘২০২৬ অর্থবছরের দ্বি-বার্ষিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি: প্রেক্ষিত রাজস্ব ও মুদ্রানীতি এবং বেসরকারি খাতের প্রত্যাশা’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

অর্থমন্ত্রী বলেন, ব্যবসা পরিচালনায় অপ্রয়োজনীয় নিয়ন্ত্রণ ও বিধিনিষেধ কমানোর বিষয়টি বলা যতটা সহজ, বাস্তবে তা বাস্তবায়ন করা ততটা সহজ নয়। তবে সরকার এ বিষয়ে আন্তরিকভাবে কাজ করছে। ব্যবসা ও বিনিয়োগের পথে কোনো বাধা থাকলে তা চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ব্যবসায়ীদের অভিযোগ ও সমস্যাগুলো সরাসরি শনাক্ত করে দ্রুত সমাধানের উদ্যোগ হিসেবে একটি বিশেষ ওয়েবসাইট চালুর পরিকল্পনার কথাও জানান আমির খসরু। এর মাধ্যমে ব্যবসায়ীদের সমস্যাগুলো সরকারের নজরে এনে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে বলে জানান তিনি।

বিদ্যুৎ ও গ্যাসের সংকট প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী বলেন, একদিনে এ সমস্যার সমাধান করা সম্ভব নয়। জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রয়োজন। এ লক্ষ্যেই সরকার আগামী দিনের জন্য প্রায় তিন মাসের জ্বালানি মজুত গড়ে তোলার পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে।

উদ্যোক্তাদের সহায়তায় সরকার ৬০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছে বলেও জানান তিনি। নির্ধারিত যোগ্যতা ও শর্ত পূরণ করলে ব্যবসায়ীরা এ অর্থায়ন সুবিধা পাবেন। তবে ঋণ বা প্রণোদনা বিতরণে কোনো ধরনের রাজনৈতিক প্রভাব বরদাশত করা হবে না বলে স্পষ্ট করেন অর্থমন্ত্রী।

ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের জন্য ‘ক্রিয়েটিভ ইকোনমি’ নামে একটি নতুন উদ্যোগ নেওয়ার কথাও তুলে ধরেন তিনি। এই প্রকল্পের মাধ্যমে উদ্যোক্তাদের অর্থায়ন, দক্ষতা বৃদ্ধি, পণ্যের নকশা উন্নয়ন এবং বাজার সম্প্রসারণে সহযোগিতা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, সরকার এমন একটি অর্থনৈতিক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে চায় যেখানে পৃষ্ঠপোষকতার পরিবর্তে প্রতিযোগিতা, সক্ষমতা ও সুশাসন গুরুত্ব পাবে। দেশকে পৃষ্ঠপোষকতানির্ভর অর্থনীতি থেকে একটি গণতান্ত্রিক ও অংশগ্রহণমূলক অর্থনীতির দিকে নেওয়ার লক্ষ্যেই কাজ চলছে।

তিনি আরও বলেন, সরকারের উন্নয়ন কার্যক্রম দীর্ঘমেয়াদে টেকসই করতে কর-জিডিপি অনুপাত বাড়ানোর বিকল্প নেই। কর ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও দক্ষতা নিশ্চিত করতে প্রযুক্তিনির্ভর অটোমেশন চালুর ওপরও জোর দেন তিনি।

ব্যাংকঋণের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমিয়ে ব্যবসা ও শিল্পে বিকল্প অর্থায়নের সুযোগ বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথাও বলেন অর্থমন্ত্রী। পুঁজিবাজারকে আরও শক্তিশালী করতে সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ নিচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, নতুন কয়েক ধরনের বন্ড চালুর বিষয়ও সক্রিয়ভাবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকটের প্রভাবে সরকারের জ্বালানি ব্যয়ে অতিরিক্ত প্রায় ৪ থেকে ৫ বিলিয়ন ডলার ব্যয় হয়েছে বলেও সেমিনারে জানান তিনি।

জ্বালানি খাতে সরকারের অগ্রাধিকার তুলে ধরে অর্থমন্ত্রী বলেন, বিভিন্ন ধরনের জ্বালানি উৎসের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো জরুরি। পাশাপাশি নবায়নযোগ্য জ্বালানি, বিশেষ করে সৌরবিদ্যুতের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এ খাতে বিনিয়োগ উৎসাহিত করতে বাজেটে বিভিন্ন সুবিধা রাখা হয়েছে উল্লেখ করে উদ্যোক্তাদের বিনিয়োগে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।

সেমিনারে অর্থনীতিবিদ ও ব্যবসায়ী নেতারা দেশের ব্যবসা পরিচালনার ব্যয় বৃদ্ধি, উচ্চ সুদের হার, জ্বালানি সংকট, বিনিয়োগে ধীরগতি এবং বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ কমে যাওয়াকে অর্থনীতির বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে চিহ্নিত করেন।

অনুষ্ঠানে পিপিআরসির নির্বাহী চেয়ারম্যান ও ব্র্যাকের চেয়ারম্যান ড. হোসেন জিল্লুর রহমান, আইসিসি বাংলাদেশের সভাপতি মাহবুবুর রহমান, পিআরআইয়ের চেয়ারম্যান ড. জায়েদি সাত্তার এবং সিপিডির সম্মানিত ফেলো অধ্যাপক ড. মোস্তাফিজুর রহমানসহ বিভিন্ন পর্যায়ের অর্থনীতিবিদ, ব্যবসায়ী নেতা ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

ব্যবসা-বিনিয়োগের সব বাধা দূর করার অঙ্গীকার অর্থমন্ত্রীর

আপডেট সময় ০৩:৩৩:১৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২২ অগাস্ট ২০২৬

দেশে ব্যবসা ও বিনিয়োগের পরিবেশ আরও সহজ ও গতিশীল করতে বিদ্যমান সব ধরনের প্রতিবন্ধকতা দূর করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেছেন, দেশীয় বিনিয়োগের পরিধি না বাড়লে কাঙ্ক্ষিত বিদেশি বিনিয়োগও আকর্ষণ করা সম্ভব নয়। তাই ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ তৈরিকে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে।

শনিবার (২২ আগস্ট) রাজধানীতে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) আয়োজিত ‘২০২৬ অর্থবছরের দ্বি-বার্ষিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি: প্রেক্ষিত রাজস্ব ও মুদ্রানীতি এবং বেসরকারি খাতের প্রত্যাশা’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

অর্থমন্ত্রী বলেন, ব্যবসা পরিচালনায় অপ্রয়োজনীয় নিয়ন্ত্রণ ও বিধিনিষেধ কমানোর বিষয়টি বলা যতটা সহজ, বাস্তবে তা বাস্তবায়ন করা ততটা সহজ নয়। তবে সরকার এ বিষয়ে আন্তরিকভাবে কাজ করছে। ব্যবসা ও বিনিয়োগের পথে কোনো বাধা থাকলে তা চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ব্যবসায়ীদের অভিযোগ ও সমস্যাগুলো সরাসরি শনাক্ত করে দ্রুত সমাধানের উদ্যোগ হিসেবে একটি বিশেষ ওয়েবসাইট চালুর পরিকল্পনার কথাও জানান আমির খসরু। এর মাধ্যমে ব্যবসায়ীদের সমস্যাগুলো সরকারের নজরে এনে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে বলে জানান তিনি।

বিদ্যুৎ ও গ্যাসের সংকট প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী বলেন, একদিনে এ সমস্যার সমাধান করা সম্ভব নয়। জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রয়োজন। এ লক্ষ্যেই সরকার আগামী দিনের জন্য প্রায় তিন মাসের জ্বালানি মজুত গড়ে তোলার পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে।

উদ্যোক্তাদের সহায়তায় সরকার ৬০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছে বলেও জানান তিনি। নির্ধারিত যোগ্যতা ও শর্ত পূরণ করলে ব্যবসায়ীরা এ অর্থায়ন সুবিধা পাবেন। তবে ঋণ বা প্রণোদনা বিতরণে কোনো ধরনের রাজনৈতিক প্রভাব বরদাশত করা হবে না বলে স্পষ্ট করেন অর্থমন্ত্রী।

ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের জন্য ‘ক্রিয়েটিভ ইকোনমি’ নামে একটি নতুন উদ্যোগ নেওয়ার কথাও তুলে ধরেন তিনি। এই প্রকল্পের মাধ্যমে উদ্যোক্তাদের অর্থায়ন, দক্ষতা বৃদ্ধি, পণ্যের নকশা উন্নয়ন এবং বাজার সম্প্রসারণে সহযোগিতা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, সরকার এমন একটি অর্থনৈতিক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে চায় যেখানে পৃষ্ঠপোষকতার পরিবর্তে প্রতিযোগিতা, সক্ষমতা ও সুশাসন গুরুত্ব পাবে। দেশকে পৃষ্ঠপোষকতানির্ভর অর্থনীতি থেকে একটি গণতান্ত্রিক ও অংশগ্রহণমূলক অর্থনীতির দিকে নেওয়ার লক্ষ্যেই কাজ চলছে।

তিনি আরও বলেন, সরকারের উন্নয়ন কার্যক্রম দীর্ঘমেয়াদে টেকসই করতে কর-জিডিপি অনুপাত বাড়ানোর বিকল্প নেই। কর ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও দক্ষতা নিশ্চিত করতে প্রযুক্তিনির্ভর অটোমেশন চালুর ওপরও জোর দেন তিনি।

ব্যাংকঋণের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমিয়ে ব্যবসা ও শিল্পে বিকল্প অর্থায়নের সুযোগ বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথাও বলেন অর্থমন্ত্রী। পুঁজিবাজারকে আরও শক্তিশালী করতে সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ নিচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, নতুন কয়েক ধরনের বন্ড চালুর বিষয়ও সক্রিয়ভাবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকটের প্রভাবে সরকারের জ্বালানি ব্যয়ে অতিরিক্ত প্রায় ৪ থেকে ৫ বিলিয়ন ডলার ব্যয় হয়েছে বলেও সেমিনারে জানান তিনি।

জ্বালানি খাতে সরকারের অগ্রাধিকার তুলে ধরে অর্থমন্ত্রী বলেন, বিভিন্ন ধরনের জ্বালানি উৎসের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো জরুরি। পাশাপাশি নবায়নযোগ্য জ্বালানি, বিশেষ করে সৌরবিদ্যুতের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এ খাতে বিনিয়োগ উৎসাহিত করতে বাজেটে বিভিন্ন সুবিধা রাখা হয়েছে উল্লেখ করে উদ্যোক্তাদের বিনিয়োগে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।

সেমিনারে অর্থনীতিবিদ ও ব্যবসায়ী নেতারা দেশের ব্যবসা পরিচালনার ব্যয় বৃদ্ধি, উচ্চ সুদের হার, জ্বালানি সংকট, বিনিয়োগে ধীরগতি এবং বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ কমে যাওয়াকে অর্থনীতির বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে চিহ্নিত করেন।

অনুষ্ঠানে পিপিআরসির নির্বাহী চেয়ারম্যান ও ব্র্যাকের চেয়ারম্যান ড. হোসেন জিল্লুর রহমান, আইসিসি বাংলাদেশের সভাপতি মাহবুবুর রহমান, পিআরআইয়ের চেয়ারম্যান ড. জায়েদি সাত্তার এবং সিপিডির সম্মানিত ফেলো অধ্যাপক ড. মোস্তাফিজুর রহমানসহ বিভিন্ন পর্যায়ের অর্থনীতিবিদ, ব্যবসায়ী নেতা ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।