ঢাকা ০৫:২০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিশ্বকাপ শেষে এএফএ সভাপতিকে ঘিরে তোলপাড়, ৩০০ মিলিয়ন ডলারের লেনদেন তদন্তে এফবিআই—অভিযোগ অস্বীকার আর্জেন্টিনার

নিজস্ব সংবাদ :

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ শেষ করে আর্জেন্টিনা দলের দেশে ফেরার প্রস্তুতির মধ্যেই দেশটির ফুটবল প্রশাসনে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে একটি আর্থিক তদন্তের খবর। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ৩০০ মিলিয়ন ডলারেরও বেশি মূল্যের স্পন্সরশিপ ও আর্থিক লেনদেনের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা (এফবিআই) অনুসন্ধান চালাচ্ছে। সেই তদন্তের অংশ হিসেবেই আর্জেন্টাইন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (এএফএ) সভাপতি ক্লদিও ‘চিকি’ তাপিয়ার সঙ্গে কথা বলা হয়েছে বলে দাবি করা হয়।

আর্জেন্টিনার সংবাদমাধ্যম ইনফোবায়ে জানায়, বিশ্বকাপ শেষে বুয়েন্স আইরেসে ফেরার আগে বিমানবন্দরে এএফএ সভাপতি ক্লদিও তাপিয়া এবং সংস্থার কোষাধ্যক্ষ পাবলো তোভিগিনোকে প্রায় ৩০ মিনিট জিজ্ঞাসাবাদ করেন মার্কিন ফেডারেল এজেন্টরা। একই প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, তদন্তের অংশ হিসেবে তাপিয়ার মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে এবং তাকে অল্প সময়ের জন্য হেফাজতেও নেওয়া হয়েছিল।

তবে এসব অভিযোগ স্পষ্টভাবে নাকচ করেছে আর্জেন্টাইন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন। এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে সংস্থাটি জানায়, ক্লদিও তাপিয়া বা পাবলো তোভিগিনোকে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো আদালত সাক্ষ্য দেওয়ার নির্দেশ দেয়নি এবং তারা তদন্তের সরাসরি লক্ষ্যবস্তু নন।

এএফএ আরও জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের একটি গ্র্যান্ড জুরির সামনে সাক্ষ্য দেওয়ার জন্য তৃতীয় একজন ব্যক্তিকে তলব করা হয়েছে। ওই ব্যক্তি এএফএর কয়েকজন কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য ব্যক্তির বিষয়ে তথ্য দিতে পারেন। তবে তার পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি।

আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের তথ্যমতে, তদন্তের আওতায় রয়েছে এএফএর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ৩০০ মিলিয়ন ডলারেরও বেশি মূল্যের কয়েকটি বাণিজ্যিক চুক্তি এবং অর্থ স্থানান্তর। যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাংকিং ব্যবস্থার মাধ্যমে সম্পন্ন হওয়া এসব লেনদেনে অর্থপাচার বা আর্থিক অনিয়মের কোনো উপাদান রয়েছে কি না, সেটিই খতিয়ে দেখছে মার্কিন কর্তৃপক্ষ।

প্রতিবেদনগুলোতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, তদন্তকারীদের হাতে থাকা ব্যাংকিং নথিতে কয়েকটি মার্কিন আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বিপুল অঙ্কের অর্থ লেনদেনের তথ্য রয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, অর্থের একটি অংশ নির্দিষ্ট সময়ের জন্য কিছু ব্যাংক হিসাবে রাখা হয় এবং পরে অন্যত্র স্থানান্তর করা হয়। এসব লেনদেনের উদ্দেশ্য ও বৈধতা যাচাই করতেই তদন্ত চলছে বলে দাবি করা হয়েছে।

যদিও বিষয়টি নিয়ে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা চলছে, এএফএ তাদের আগের অবস্থানেই অনড়। সংস্থাটির ভাষ্য, সভাপতি ক্লদিও তাপিয়া বা কোষাধ্যক্ষ পাবলো তোভিগিনোর বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বিচারিক নির্দেশ, অভিযোগ বা আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ফলে তদন্ত ঘিরে যেসব দাবি প্রকাশিত হয়েছে, সেগুলোর অনেক বিষয়ই এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হয়নি।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

বিশ্বকাপ শেষে এএফএ সভাপতিকে ঘিরে তোলপাড়, ৩০০ মিলিয়ন ডলারের লেনদেন তদন্তে এফবিআই—অভিযোগ অস্বীকার আর্জেন্টিনার

আপডেট সময় ০৪:৩৭:২৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ শেষ করে আর্জেন্টিনা দলের দেশে ফেরার প্রস্তুতির মধ্যেই দেশটির ফুটবল প্রশাসনে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে একটি আর্থিক তদন্তের খবর। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ৩০০ মিলিয়ন ডলারেরও বেশি মূল্যের স্পন্সরশিপ ও আর্থিক লেনদেনের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা (এফবিআই) অনুসন্ধান চালাচ্ছে। সেই তদন্তের অংশ হিসেবেই আর্জেন্টাইন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (এএফএ) সভাপতি ক্লদিও ‘চিকি’ তাপিয়ার সঙ্গে কথা বলা হয়েছে বলে দাবি করা হয়।

আর্জেন্টিনার সংবাদমাধ্যম ইনফোবায়ে জানায়, বিশ্বকাপ শেষে বুয়েন্স আইরেসে ফেরার আগে বিমানবন্দরে এএফএ সভাপতি ক্লদিও তাপিয়া এবং সংস্থার কোষাধ্যক্ষ পাবলো তোভিগিনোকে প্রায় ৩০ মিনিট জিজ্ঞাসাবাদ করেন মার্কিন ফেডারেল এজেন্টরা। একই প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, তদন্তের অংশ হিসেবে তাপিয়ার মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে এবং তাকে অল্প সময়ের জন্য হেফাজতেও নেওয়া হয়েছিল।

তবে এসব অভিযোগ স্পষ্টভাবে নাকচ করেছে আর্জেন্টাইন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন। এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে সংস্থাটি জানায়, ক্লদিও তাপিয়া বা পাবলো তোভিগিনোকে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো আদালত সাক্ষ্য দেওয়ার নির্দেশ দেয়নি এবং তারা তদন্তের সরাসরি লক্ষ্যবস্তু নন।

এএফএ আরও জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের একটি গ্র্যান্ড জুরির সামনে সাক্ষ্য দেওয়ার জন্য তৃতীয় একজন ব্যক্তিকে তলব করা হয়েছে। ওই ব্যক্তি এএফএর কয়েকজন কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য ব্যক্তির বিষয়ে তথ্য দিতে পারেন। তবে তার পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি।

আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের তথ্যমতে, তদন্তের আওতায় রয়েছে এএফএর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ৩০০ মিলিয়ন ডলারেরও বেশি মূল্যের কয়েকটি বাণিজ্যিক চুক্তি এবং অর্থ স্থানান্তর। যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাংকিং ব্যবস্থার মাধ্যমে সম্পন্ন হওয়া এসব লেনদেনে অর্থপাচার বা আর্থিক অনিয়মের কোনো উপাদান রয়েছে কি না, সেটিই খতিয়ে দেখছে মার্কিন কর্তৃপক্ষ।

প্রতিবেদনগুলোতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, তদন্তকারীদের হাতে থাকা ব্যাংকিং নথিতে কয়েকটি মার্কিন আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বিপুল অঙ্কের অর্থ লেনদেনের তথ্য রয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, অর্থের একটি অংশ নির্দিষ্ট সময়ের জন্য কিছু ব্যাংক হিসাবে রাখা হয় এবং পরে অন্যত্র স্থানান্তর করা হয়। এসব লেনদেনের উদ্দেশ্য ও বৈধতা যাচাই করতেই তদন্ত চলছে বলে দাবি করা হয়েছে।

যদিও বিষয়টি নিয়ে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা চলছে, এএফএ তাদের আগের অবস্থানেই অনড়। সংস্থাটির ভাষ্য, সভাপতি ক্লদিও তাপিয়া বা কোষাধ্যক্ষ পাবলো তোভিগিনোর বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বিচারিক নির্দেশ, অভিযোগ বা আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ফলে তদন্ত ঘিরে যেসব দাবি প্রকাশিত হয়েছে, সেগুলোর অনেক বিষয়ই এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হয়নি।