বিশ্বকাপে বড় অঘটন, টাইব্রেকারে জার্মানিকে বিদায় করে শেষ ষোলোয় প্যারাগুয়ে
২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে বড় অঘটনের জন্ম দিল প্যারাগুয়ে। চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন জার্মানিকে টাইব্রেকারে ৪-৩ ব্যবধানে হারিয়ে শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে দক্ষিণ আমেরিকার দলটি।
নির্ধারিত ৯০ মিনিট ও অতিরিক্ত ৩০ মিনিট শেষে ম্যাচের স্কোর ছিল ১-১। এরপর টাইব্রেকারে প্রথম পাঁচটি শট শেষে দুই দলই তিনবার করে সফল হওয়ায় ফল নির্ধারণ গড়ায় সাডেন ডেথে। সেখানে জার্মানির জনাথন টাহ শট বাইরে মারেন। অন্যদিকে হোসে কানালে ভুল করেননি। তাঁর সফল শটেই নিশ্চিত হয় প্যারাগুয়ের ঐতিহাসিক জয়।
বিশ্বকাপে টাইব্রেকারে জার্মানির অপরাজিত থাকার রেকর্ডও ভেঙে যায় এই ম্যাচে। এর আগে চারবার টাইব্রেকারে অংশ নিয়ে প্রতিবারই জয় পেয়েছিল ইউরোপের পরাশক্তিরা।
প্যারাগুয়ের জয়ের নেপথ্যের সবচেয়ে বড় নায়ক গোলরক্ষক অরলান্দো হিল। পুরো ম্যাচে ছয়টি দুর্দান্ত সেভ করার পাশাপাশি টাইব্রেকারে কাই হাভার্টজ ও নিক ভোল্টেমাডের শট ঠেকিয়ে দলের জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন তিনি।
বোস্টনে অনুষ্ঠিত ম্যাচের প্রথমার্ধে বলের দখল বেশি ছিল জার্মানির। তবে ৪২তম মিনিটে হুলিও এনসিসোর গোলে এগিয়ে যায় প্যারাগুয়ে। বিরতির পর ৫৪তম মিনিটে কাই হাভার্টজের হেডে সমতায় ফেরে জার্মানি।
এরপর গোলের জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে জার্মানরা। ফ্লোরিয়ান ভির্টৎজ, লিরয় সানে ও হাভার্টজ একাধিক সুযোগ তৈরি করলেও প্যারাগুয়ের রক্ষণভাগ এবং গোলরক্ষক হিল দুর্দান্ত দৃঢ়তায় সব আক্রমণ প্রতিহত করেন।
অতিরিক্ত সময়ে জনাথন টাহ হেডে বল জালে পাঠালেও সেটি গোল হিসেবে গণ্য হয়নি। কারণ আক্রমণ শুরুর সময় ভালডেমার আন্টনের ফাউলের অভিযোগে ভিএআরের সহায়তায় গোল বাতিল করেন রেফারি।
টাইব্রেকারে প্রথম শটেই ব্যর্থ হন হাভার্টজ। পরে যোশুয়া কিমিখ ও জামাল মুসিয়ালা গোল করলেও ভোল্টেমাডের শটও ঠেকিয়ে দেন হিল। অন্যদিকে প্যারাগুয়ের চতুর্থ শট বাইরে গেলেও পঞ্চম শট ম্যানুয়েল ন্যয়ার রুখে দেন। ফলে দুই দলের স্কোর সমান হয়ে যায়। কিন্তু সাডেন ডেথে কানালের সফল শট আর জার্মানির ব্যর্থ প্রচেষ্টাই ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করে দেয়।
এই হারের মাধ্যমে ২০১৪ সালের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন জার্মানির বিশ্বকাপ মিশন শেষ হয়ে গেল রাউন্ড অব ৩২-এই। আগের দুই আসরে গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নেওয়ার পর এবারও প্রত্যাশা পূরণ করতে পারল না তারা।
অন্যদিকে ২০১০ সালের পর আবারও বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ দিল প্যারাগুয়ে। শেষ ষোলোতে তাদের প্রতিপক্ষ হবে ফ্রান্স ও সুইডেন ম্যাচের বিজয়ী দল।
























