ঢাকা ০৫:৫৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিশ্বকাপে প্রথম বড় অঘটন, ইকুয়েডরের কাছে জার্মানির অবিশ্বাস্য হার

নিজস্ব সংবাদ :

চলতি বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত ছিল রেকর্ড গড়া পারফরম্যান্স, তারকাদের ঝলক আর প্রত্যাশিত ফলাফলের ধারাবাহিকতা। বড় কোনো অঘটনের দেখা মেলেনি। তবে বৃহস্পতিবার মেটলাইফ স্টেডিয়ামে সেই অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে ইতিহাস গড়ে ইকুয়েডর। চারবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন জার্মানিকে ২-১ গোলে হারিয়ে টুর্নামেন্টের সবচেয়ে বড় চমক উপহার দেয় দক্ষিণ আমেরিকার দলটি।

৮০ হাজার ৬৬৩ দর্শকের উপস্থিতিতে শুরু থেকেই জমে ওঠে ম্যাচ। দ্বিতীয় মিনিটেই লিরয় সানের গোলে এগিয়ে যায় জার্মানি। শুরুটা দেখে মনে হচ্ছিল সহজ জয়ই অপেক্ষা করছে ইউরোপের পরাশক্তিদের জন্য।

কিন্তু সেই ধারণা ভেঙে দিতে বেশি সময় নেয়নি ইকুয়েডর। মাত্র সাত মিনিট পর নিলসন অ্যাঙ্গুলো দুর্দান্ত এক গোলে সমতা ফেরান। গোলের পর থেকেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে তুলে নেয় তারা। আক্রমণাত্মক ফুটবল আর আত্মবিশ্বাসী খেলায় জার্মান রক্ষণকে বারবার চাপে ফেলে ইকুয়েডর, তখনই বোঝা যাচ্ছিল ম্যাচে বড় কিছু ঘটতে পারে।

অবশেষে ৭৭তম মিনিটে গঞ্জালো প্লাতার গোলেই পূর্ণতা পায় সেই চমক। ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে যাওয়ার পর জার্মানি মরিয়া হয়ে সমতায় ফেরার চেষ্টা চালালেও ইকুয়েডরের সংগঠিত রক্ষণ ভাঙতে পারেনি।

ইতিহাস বলছিল, এর আগে দুইবার মুখোমুখি হয়ে দু’বারই জয় পেয়েছিল জার্মানি—২০০৬ সালের বিশ্বকাপে এবং ২০১৩ সালের একটি প্রীতি ম্যাচে। তাই এই ম্যাচে ইকুয়েডরের জয় ছিল অনেকটাই অপ্রত্যাশিত। ফুটবল বিশ্লেষক থেকে শুরু করে সমর্থক—প্রায় কারও পূর্বাভাসেই এমন ফল ছিল না।

ফুটবলে অঘটন অবশ্য নতুন নয়। ১৯৯০ বিশ্বকাপে তৎকালীন চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে দিয়েছিল ক্যামেরুন, যা আজও বিশ্বকাপ ইতিহাসের অন্যতম বড় চমক হিসেবে স্মরণীয়। সেই তালিকায় এবার যুক্ত হলো ইকুয়েডরের এই ঐতিহাসিক জয়ও।

এই জয়ের ফলে ইকুয়েডর দ্বিতীয় রাউন্ডে ওঠার পথে বড় সুবিধা পেল। অন্যদিকে জার্মানিরও এখনও নকআউট পর্বে ওঠার সুযোগ রয়েছে। তবে বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের জন্য এই পরাজয় নিঃসন্দেহে বড় ধাক্কা এবং টুর্নামেন্টে তাদের আত্মবিশ্বাসে আঘাত হানবে।

ম্যাচটির আরেকটি উল্লেখযোগ্য দিক ছিল রেফারিং। পুরো ম্যাচ পরিচালনা করেন নারী রেফারি টরি পেনসো। গুরুত্বপূর্ণ এই লড়াই দক্ষতা ও আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে পরিচালনা করে তিনি ফুটবলপ্রেমীদের প্রশংসা কুড়িয়েছেন।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

বিশ্বকাপে প্রথম বড় অঘটন, ইকুয়েডরের কাছে জার্মানির অবিশ্বাস্য হার

আপডেট সময় ০৫:২৯:০৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬

চলতি বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত ছিল রেকর্ড গড়া পারফরম্যান্স, তারকাদের ঝলক আর প্রত্যাশিত ফলাফলের ধারাবাহিকতা। বড় কোনো অঘটনের দেখা মেলেনি। তবে বৃহস্পতিবার মেটলাইফ স্টেডিয়ামে সেই অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে ইতিহাস গড়ে ইকুয়েডর। চারবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন জার্মানিকে ২-১ গোলে হারিয়ে টুর্নামেন্টের সবচেয়ে বড় চমক উপহার দেয় দক্ষিণ আমেরিকার দলটি।

৮০ হাজার ৬৬৩ দর্শকের উপস্থিতিতে শুরু থেকেই জমে ওঠে ম্যাচ। দ্বিতীয় মিনিটেই লিরয় সানের গোলে এগিয়ে যায় জার্মানি। শুরুটা দেখে মনে হচ্ছিল সহজ জয়ই অপেক্ষা করছে ইউরোপের পরাশক্তিদের জন্য।

কিন্তু সেই ধারণা ভেঙে দিতে বেশি সময় নেয়নি ইকুয়েডর। মাত্র সাত মিনিট পর নিলসন অ্যাঙ্গুলো দুর্দান্ত এক গোলে সমতা ফেরান। গোলের পর থেকেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে তুলে নেয় তারা। আক্রমণাত্মক ফুটবল আর আত্মবিশ্বাসী খেলায় জার্মান রক্ষণকে বারবার চাপে ফেলে ইকুয়েডর, তখনই বোঝা যাচ্ছিল ম্যাচে বড় কিছু ঘটতে পারে।

অবশেষে ৭৭তম মিনিটে গঞ্জালো প্লাতার গোলেই পূর্ণতা পায় সেই চমক। ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে যাওয়ার পর জার্মানি মরিয়া হয়ে সমতায় ফেরার চেষ্টা চালালেও ইকুয়েডরের সংগঠিত রক্ষণ ভাঙতে পারেনি।

ইতিহাস বলছিল, এর আগে দুইবার মুখোমুখি হয়ে দু’বারই জয় পেয়েছিল জার্মানি—২০০৬ সালের বিশ্বকাপে এবং ২০১৩ সালের একটি প্রীতি ম্যাচে। তাই এই ম্যাচে ইকুয়েডরের জয় ছিল অনেকটাই অপ্রত্যাশিত। ফুটবল বিশ্লেষক থেকে শুরু করে সমর্থক—প্রায় কারও পূর্বাভাসেই এমন ফল ছিল না।

ফুটবলে অঘটন অবশ্য নতুন নয়। ১৯৯০ বিশ্বকাপে তৎকালীন চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে দিয়েছিল ক্যামেরুন, যা আজও বিশ্বকাপ ইতিহাসের অন্যতম বড় চমক হিসেবে স্মরণীয়। সেই তালিকায় এবার যুক্ত হলো ইকুয়েডরের এই ঐতিহাসিক জয়ও।

এই জয়ের ফলে ইকুয়েডর দ্বিতীয় রাউন্ডে ওঠার পথে বড় সুবিধা পেল। অন্যদিকে জার্মানিরও এখনও নকআউট পর্বে ওঠার সুযোগ রয়েছে। তবে বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের জন্য এই পরাজয় নিঃসন্দেহে বড় ধাক্কা এবং টুর্নামেন্টে তাদের আত্মবিশ্বাসে আঘাত হানবে।

ম্যাচটির আরেকটি উল্লেখযোগ্য দিক ছিল রেফারিং। পুরো ম্যাচ পরিচালনা করেন নারী রেফারি টরি পেনসো। গুরুত্বপূর্ণ এই লড়াই দক্ষতা ও আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে পরিচালনা করে তিনি ফুটবলপ্রেমীদের প্রশংসা কুড়িয়েছেন।