ঢাকা ০৮:০১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বই ছাপায় সংকটের ঘনঘটা, বছরের শুরুতে শিক্ষার্থীদের হাতে বই পাওয়া নিয়ে শঙ্কা

নিজস্ব সংবাদ :

আগামী ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের বিনা মূল্যের পাঠ্যবই ছাপানোর কার্যক্রম শুরু হলেও নানা জটিলতায় সময়মতো শিক্ষার্থীদের হাতে বই পৌঁছে দেওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। কাগজের সংকট, তীব্র গ্যাস-সংকট, লোডশেডিং, নিম্নমানের কাগজ ব্যবহারের অভিযোগ এবং দরপত্রে সীমিত প্রতিযোগিতা—সব মিলিয়ে বই ছাপার পুরো প্রক্রিয়াই চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে।

সংশ্লিষ্ট ছাপাখানা মালিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গ্যাসের সংকটে দেশের কাগজ উৎপাদনকারী অনেক কারখানার সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। ফলে বাজারে কাগজের সরবরাহেও চাপ তৈরি হয়েছে। এর সঙ্গে বিদ্যুতের ঘন ঘন আসা-যাওয়ায় বই ছাপার কাজ ব্যাহত হচ্ছে।

প্রাক্-প্রাথমিকের ৩০টি লটে বই ছাপার দায়িত্ব পেয়েছে ১১টি প্রতিষ্ঠান। কয়েকটি প্রেস ইতোমধ্যে মুদ্রণকাজ শুরু করেছে। তবে কাগজ সংগ্রহ ও নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ না থাকায় উৎপাদন কাঙ্ক্ষিত গতিতে এগোচ্ছে না।

ছাপাখানা মালিকদের ভাষ্য, পাঠ্যবই মুদ্রণের বড় একটি অংশের প্রেস রাজধানীর বাইরে অবস্থিত। এসব প্রতিষ্ঠানের ভারী মেশিন চালাতে নিয়মিত বিদ্যুৎ প্রয়োজন। লোডশেডিংয়ের কারণে প্রতিদিনের উৎপাদন সময় কমে যাচ্ছে। ফলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করা কঠিন হয়ে পড়তে পারে।

নিম্নমানের কাগজ নিয়ে কঠোর এনসিটিবি

বইয়ের মান নিয়েও দেখা দিয়েছে নতুন উদ্বেগ। অভিযোগ রয়েছে, অতিরিক্ত মুনাফার আশায় কিছু প্রতিষ্ঠান নির্ধারিত মানের চেয়ে নিম্নমানের কাগজ ব্যবহার করছে। এরই মধ্যে পরিদর্শনকারী সংস্থার পরীক্ষায় দুটি প্রতিষ্ঠানের ১৩২ টন কাগজ বাতিল করা হয়েছে। এর মধ্যে আনন্দ প্রিন্টার্সের ১১০ টন এবং অনুপম প্রিন্টার্সের ২২ টন কাগজ রয়েছে।

এনসিটিবির সদস্য (পাঠ্যপুস্তক) অধ্যাপক আবু নাসের টুকু জানিয়েছেন, পাঠ্যবইয়ের মানের বিষয়ে এবার কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না। নিম্নমানের কাগজ বা মুদ্রণসংক্রান্ত অনিয়ম ধরা পড়লে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হবে। পরপর তিনবার শোকজ হলে চুক্তি বাতিলের বিধান কার্যকর করা হবে।

পরিদর্শনকারী প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারাও জানিয়েছেন, নির্ধারিত মান পূরণ না করায় কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের কাগজ অনুমোদন দেওয়া হয়নি। বিশেষ করে ব্রাইটনেস, জিএসএম, পুরুত্ব, অপাসিটি এবং বার্স্টিং ফ্যাক্টরের মতো গুরুত্বপূর্ণ মানদণ্ডে ঘাটতি পাওয়া গেছে।

কাগজ সরবরাহ নিয়ে ছাপাখানা ও মিল মালিকদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি অভিযোগও রয়েছে। প্রেস মালিকদের দাবি, তাদের কাছে মিল থেকেই নিম্নমানের কাগজ সরবরাহ করা হয়েছে। বিপরীতে মিল মালিকদের অভিযোগ, কম খরচে কাগজ সরবরাহের জন্য প্রেস মালিকদের পক্ষ থেকেই চাপ দেওয়া হয়েছিল।

বড় কাজ ঘিরে সীমিত প্রতিযোগিতার অভিযোগ

২০২৭ শিক্ষাবর্ষে প্রায় ৩০ কোটি ৬১ লাখ পাঠ্যবই ছাপা, বাঁধাই ও সরবরাহের জন্য ৫৯৬টি লটে দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৬০টি লটে মাত্র একটি করে প্রতিষ্ঠান দরপত্রে অংশ নিয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

এনসিটিবি সূত্রের অভিযোগ, বড় কাজের প্রায় ৯০ শতাংশই ৮ থেকে ১০টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ভাগ হয়ে যাওয়ার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। কয়েকটি লটে প্রাক্কলিত ব্যয়ের চেয়েও বেশি দর দেওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। এতে প্রতিযোগিতা কমে যাওয়ার পাশাপাশি সরকারের অতিরিক্ত অর্থ ব্যয়ের আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে।

দেশে ছোট-বড় মিলিয়ে বিপুলসংখ্যক ছাপাখানা থাকলেও সরকারি পাঠ্যবই ছাপার বড় কাজগুলোতে সব প্রতিষ্ঠানের সমানভাবে অংশ নেওয়ার সুযোগ তৈরি হচ্ছে না বলে অভিযোগ রয়েছে। নির্দিষ্ট অভিজ্ঞতা ও সক্ষমতার শর্ত পূরণ করতে না পারায় মাঝারি ও ছোট প্রতিষ্ঠানগুলো দরপত্র প্রতিযোগিতার বাইরে থেকে যাচ্ছে।

কালো তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানও ফিরেছে দরপত্রে

২০২৬ শিক্ষাবর্ষের বই ছাপার সময় নিম্নমানের কাগজ, মুদ্রণ ও বাঁধাইয়ে ত্রুটি এবং নির্ধারিত সময়ে বই সরবরাহে ব্যর্থতার অভিযোগে সাতটি প্রতিষ্ঠানকে এক বছরের জন্য কালো তালিকাভুক্ত করা হয়েছিল।

তবে পরবর্তী সময়ে আবেদন ও বোর্ডের সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে মুচলেকা নিয়ে তাদের কালো তালিকা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। ফলে প্রতিষ্ঠানগুলো ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের বই ছাপার দরপত্রে অংশ নেওয়ার সুযোগ পেয়েছে।

অব্যাহতি পাওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে নাহার প্রিন্টার্স, আমাজন প্রিন্টিং প্রেস, বর্ণমালা প্রেস, পিবিএস প্রিন্টার্স, টাঙ্গাইল অফসেট প্রেস, হাক্কানী প্রিন্টার্স ও সোহাগী প্রিন্টার্স।

ই-টেন্ডারের খরচ নিয়েও প্রশ্ন

পাঠ্যবইয়ের ই-টেন্ডার প্রক্রিয়ায় ব্যয়ের হিসাব নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, শুরুতে প্রতি ফর্মার কস্ট এস্টিমেট ৩ টাকা ১০ পয়সা নির্ধারণ করা হলেও টেন্ডার চলার সময় তা বাড়িয়ে ৩ টাকা ৪০ পয়সা করা হয়।

প্রতি ফর্মায় ৩০ পয়সা করে ব্যয় বাড়ায় বিপুলসংখ্যক বইয়ের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত সরকারি ব্যয়ের পরিমাণ কয়েকশ কোটি টাকা পর্যন্ত হতে পারে বলে সংশ্লিষ্টদের আশঙ্কা।

এনসিটিবির এক কর্মকর্তা জানান, টেন্ডার চলাকালে কস্ট এস্টিমেট পুনর্মূল্যায়ন করে নির্ধারিত অর্থ অপর্যাপ্ত মনে হওয়ায় কর্তৃপক্ষের নির্দেশে প্রতি ফর্মায় আরও ৩০ পয়সা যোগ করা হয়েছে।

সব মিলিয়ে গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট, কাগজের ঘাটতি, নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহারের অভিযোগ, দরপত্রে সীমিত প্রতিযোগিতা এবং ব্যয় বৃদ্ধির মতো বিষয়গুলো ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের বিনা মূল্যের পাঠ্যবই ছাপার কার্যক্রমকে বড় পরীক্ষার মুখে ফেলেছে। এখন মূল চ্যালেঞ্জ হচ্ছে নির্ধারিত সময়ে মানসম্মত বই ছাপিয়ে বছরের শুরুতেই দেশের শিক্ষার্থীদের হাতে তা পৌঁছে দেওয়া।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

বই ছাপায় সংকটের ঘনঘটা, বছরের শুরুতে শিক্ষার্থীদের হাতে বই পাওয়া নিয়ে শঙ্কা

আপডেট সময় ০২:৩৭:০১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৬

আগামী ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের বিনা মূল্যের পাঠ্যবই ছাপানোর কার্যক্রম শুরু হলেও নানা জটিলতায় সময়মতো শিক্ষার্থীদের হাতে বই পৌঁছে দেওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। কাগজের সংকট, তীব্র গ্যাস-সংকট, লোডশেডিং, নিম্নমানের কাগজ ব্যবহারের অভিযোগ এবং দরপত্রে সীমিত প্রতিযোগিতা—সব মিলিয়ে বই ছাপার পুরো প্রক্রিয়াই চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে।

সংশ্লিষ্ট ছাপাখানা মালিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গ্যাসের সংকটে দেশের কাগজ উৎপাদনকারী অনেক কারখানার সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। ফলে বাজারে কাগজের সরবরাহেও চাপ তৈরি হয়েছে। এর সঙ্গে বিদ্যুতের ঘন ঘন আসা-যাওয়ায় বই ছাপার কাজ ব্যাহত হচ্ছে।

প্রাক্-প্রাথমিকের ৩০টি লটে বই ছাপার দায়িত্ব পেয়েছে ১১টি প্রতিষ্ঠান। কয়েকটি প্রেস ইতোমধ্যে মুদ্রণকাজ শুরু করেছে। তবে কাগজ সংগ্রহ ও নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ না থাকায় উৎপাদন কাঙ্ক্ষিত গতিতে এগোচ্ছে না।

ছাপাখানা মালিকদের ভাষ্য, পাঠ্যবই মুদ্রণের বড় একটি অংশের প্রেস রাজধানীর বাইরে অবস্থিত। এসব প্রতিষ্ঠানের ভারী মেশিন চালাতে নিয়মিত বিদ্যুৎ প্রয়োজন। লোডশেডিংয়ের কারণে প্রতিদিনের উৎপাদন সময় কমে যাচ্ছে। ফলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করা কঠিন হয়ে পড়তে পারে।

নিম্নমানের কাগজ নিয়ে কঠোর এনসিটিবি

বইয়ের মান নিয়েও দেখা দিয়েছে নতুন উদ্বেগ। অভিযোগ রয়েছে, অতিরিক্ত মুনাফার আশায় কিছু প্রতিষ্ঠান নির্ধারিত মানের চেয়ে নিম্নমানের কাগজ ব্যবহার করছে। এরই মধ্যে পরিদর্শনকারী সংস্থার পরীক্ষায় দুটি প্রতিষ্ঠানের ১৩২ টন কাগজ বাতিল করা হয়েছে। এর মধ্যে আনন্দ প্রিন্টার্সের ১১০ টন এবং অনুপম প্রিন্টার্সের ২২ টন কাগজ রয়েছে।

এনসিটিবির সদস্য (পাঠ্যপুস্তক) অধ্যাপক আবু নাসের টুকু জানিয়েছেন, পাঠ্যবইয়ের মানের বিষয়ে এবার কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না। নিম্নমানের কাগজ বা মুদ্রণসংক্রান্ত অনিয়ম ধরা পড়লে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হবে। পরপর তিনবার শোকজ হলে চুক্তি বাতিলের বিধান কার্যকর করা হবে।

পরিদর্শনকারী প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারাও জানিয়েছেন, নির্ধারিত মান পূরণ না করায় কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের কাগজ অনুমোদন দেওয়া হয়নি। বিশেষ করে ব্রাইটনেস, জিএসএম, পুরুত্ব, অপাসিটি এবং বার্স্টিং ফ্যাক্টরের মতো গুরুত্বপূর্ণ মানদণ্ডে ঘাটতি পাওয়া গেছে।

কাগজ সরবরাহ নিয়ে ছাপাখানা ও মিল মালিকদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি অভিযোগও রয়েছে। প্রেস মালিকদের দাবি, তাদের কাছে মিল থেকেই নিম্নমানের কাগজ সরবরাহ করা হয়েছে। বিপরীতে মিল মালিকদের অভিযোগ, কম খরচে কাগজ সরবরাহের জন্য প্রেস মালিকদের পক্ষ থেকেই চাপ দেওয়া হয়েছিল।

বড় কাজ ঘিরে সীমিত প্রতিযোগিতার অভিযোগ

২০২৭ শিক্ষাবর্ষে প্রায় ৩০ কোটি ৬১ লাখ পাঠ্যবই ছাপা, বাঁধাই ও সরবরাহের জন্য ৫৯৬টি লটে দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৬০টি লটে মাত্র একটি করে প্রতিষ্ঠান দরপত্রে অংশ নিয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

এনসিটিবি সূত্রের অভিযোগ, বড় কাজের প্রায় ৯০ শতাংশই ৮ থেকে ১০টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ভাগ হয়ে যাওয়ার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। কয়েকটি লটে প্রাক্কলিত ব্যয়ের চেয়েও বেশি দর দেওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। এতে প্রতিযোগিতা কমে যাওয়ার পাশাপাশি সরকারের অতিরিক্ত অর্থ ব্যয়ের আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে।

দেশে ছোট-বড় মিলিয়ে বিপুলসংখ্যক ছাপাখানা থাকলেও সরকারি পাঠ্যবই ছাপার বড় কাজগুলোতে সব প্রতিষ্ঠানের সমানভাবে অংশ নেওয়ার সুযোগ তৈরি হচ্ছে না বলে অভিযোগ রয়েছে। নির্দিষ্ট অভিজ্ঞতা ও সক্ষমতার শর্ত পূরণ করতে না পারায় মাঝারি ও ছোট প্রতিষ্ঠানগুলো দরপত্র প্রতিযোগিতার বাইরে থেকে যাচ্ছে।

কালো তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানও ফিরেছে দরপত্রে

২০২৬ শিক্ষাবর্ষের বই ছাপার সময় নিম্নমানের কাগজ, মুদ্রণ ও বাঁধাইয়ে ত্রুটি এবং নির্ধারিত সময়ে বই সরবরাহে ব্যর্থতার অভিযোগে সাতটি প্রতিষ্ঠানকে এক বছরের জন্য কালো তালিকাভুক্ত করা হয়েছিল।

তবে পরবর্তী সময়ে আবেদন ও বোর্ডের সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে মুচলেকা নিয়ে তাদের কালো তালিকা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। ফলে প্রতিষ্ঠানগুলো ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের বই ছাপার দরপত্রে অংশ নেওয়ার সুযোগ পেয়েছে।

অব্যাহতি পাওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে নাহার প্রিন্টার্স, আমাজন প্রিন্টিং প্রেস, বর্ণমালা প্রেস, পিবিএস প্রিন্টার্স, টাঙ্গাইল অফসেট প্রেস, হাক্কানী প্রিন্টার্স ও সোহাগী প্রিন্টার্স।

ই-টেন্ডারের খরচ নিয়েও প্রশ্ন

পাঠ্যবইয়ের ই-টেন্ডার প্রক্রিয়ায় ব্যয়ের হিসাব নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, শুরুতে প্রতি ফর্মার কস্ট এস্টিমেট ৩ টাকা ১০ পয়সা নির্ধারণ করা হলেও টেন্ডার চলার সময় তা বাড়িয়ে ৩ টাকা ৪০ পয়সা করা হয়।

প্রতি ফর্মায় ৩০ পয়সা করে ব্যয় বাড়ায় বিপুলসংখ্যক বইয়ের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত সরকারি ব্যয়ের পরিমাণ কয়েকশ কোটি টাকা পর্যন্ত হতে পারে বলে সংশ্লিষ্টদের আশঙ্কা।

এনসিটিবির এক কর্মকর্তা জানান, টেন্ডার চলাকালে কস্ট এস্টিমেট পুনর্মূল্যায়ন করে নির্ধারিত অর্থ অপর্যাপ্ত মনে হওয়ায় কর্তৃপক্ষের নির্দেশে প্রতি ফর্মায় আরও ৩০ পয়সা যোগ করা হয়েছে।

সব মিলিয়ে গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট, কাগজের ঘাটতি, নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহারের অভিযোগ, দরপত্রে সীমিত প্রতিযোগিতা এবং ব্যয় বৃদ্ধির মতো বিষয়গুলো ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের বিনা মূল্যের পাঠ্যবই ছাপার কার্যক্রমকে বড় পরীক্ষার মুখে ফেলেছে। এখন মূল চ্যালেঞ্জ হচ্ছে নির্ধারিত সময়ে মানসম্মত বই ছাপিয়ে বছরের শুরুতেই দেশের শিক্ষার্থীদের হাতে তা পৌঁছে দেওয়া।