ঢাকা ০৫:১৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পর্তুগালে উবার-বোল্ট চালকদের জন্য বাধ্যতামূলক পর্তুগিজ ভাষা, সংকটে হাজারো বাংলাদেশি প্রবাসী

নিজস্ব সংবাদ :

পর্তুগালে রাইড শেয়ারিং খাতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে নতুন আইন অনুমোদন করেছে দেশটির পার্লামেন্ট। নতুন বিধান অনুযায়ী, উবার ও বোল্টের মতো প্ল্যাটফর্মে কাজ করতে হলে চালকদের পর্তুগিজ ভাষায় দক্ষতা অর্জন বাধ্যতামূলক হবে। এই সিদ্ধান্তে সবচেয়ে বেশি উদ্বেগে পড়েছেন লিসবন ও পোর্তোসহ বিভিন্ন শহরে কর্মরত হাজারো বাংলাদেশি অভিবাসী, যাদের প্রধান আয়ের উৎস এই পেশা।

দীর্ঘদিন ধরে তুলনামূলক ভালো আয়ের আশায় অনেক বাংলাদেশি প্রবাসী পর্তুগালে রাইড শেয়ারিং সেবার সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন। কিন্তু নতুন আইনের কারণে তাদের অনেকেই এখন ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তায় ভুগছেন।

গত ১৭ জুলাই দেশটির পার্লামেন্টে সোশ্যাল ডেমোক্রেটিক পার্টি এবং ডানপন্থী শেগা দলের সমর্থনে রাইড শেয়ারিং খাতের সংশোধিত আইন পাস হয়। নতুন আইনে চালকদের জন্য ভাষাজ্ঞানের পাশাপাশি প্রশিক্ষণ ও লাইসেন্স পরীক্ষার মান আরও কঠোর করা হয়েছে।

আইন অনুযায়ী, ড্রাইভিং প্রশিক্ষণের ন্যূনতম সময় ৫০ ঘণ্টা নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া চূড়ান্ত লাইসেন্স পরীক্ষায় ৩০ নম্বরের মধ্যে অন্তত ২৭ নম্বর পেতে হবে। এসব শর্ত পূরণ না করলে রাইড শেয়ারিং সেবায় চালক হিসেবে কাজ করা সম্ভব হবে না।

আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হলো, যাত্রীরা অ্যাপ থেকেই পর্তুগিজ ভাষায় কথা বলতে সক্ষম চালক বেছে নিতে পারবেন। ফলে ভাষা না জানা চালকদের রাইড পাওয়ার সুযোগ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যেতে পারে।

নিরাপত্তা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে প্রতিটি নিবন্ধিত গাড়িতে স্থায়ী ডিজিটাল স্টিকার ব্যবহারের বিধান রাখা হয়েছে। পাশাপাশি যাত্রী ও চালকের নিরাপত্তার জন্য গাড়িতে শুধু ভিডিও রেকর্ডিং ব্যবস্থা থাকবে, তবে অডিও ধারণ করা হবে না।

নতুন এই আইন কার্যকর হলে পর্তুগালে কর্মরত বিদেশি চালকদের দ্রুত ভাষা শেখা এবং নতুন নিয়মের সঙ্গে নিজেদের মানিয়ে নেওয়া ছাড়া বিকল্প থাকবে না। বিশেষ করে বাংলাদেশি প্রবাসীদের জন্য এটি কর্মসংস্থান ধরে রাখার ক্ষেত্রে একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

পর্তুগালে উবার-বোল্ট চালকদের জন্য বাধ্যতামূলক পর্তুগিজ ভাষা, সংকটে হাজারো বাংলাদেশি প্রবাসী

আপডেট সময় ১২:২৮:০১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬

পর্তুগালে রাইড শেয়ারিং খাতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে নতুন আইন অনুমোদন করেছে দেশটির পার্লামেন্ট। নতুন বিধান অনুযায়ী, উবার ও বোল্টের মতো প্ল্যাটফর্মে কাজ করতে হলে চালকদের পর্তুগিজ ভাষায় দক্ষতা অর্জন বাধ্যতামূলক হবে। এই সিদ্ধান্তে সবচেয়ে বেশি উদ্বেগে পড়েছেন লিসবন ও পোর্তোসহ বিভিন্ন শহরে কর্মরত হাজারো বাংলাদেশি অভিবাসী, যাদের প্রধান আয়ের উৎস এই পেশা।

দীর্ঘদিন ধরে তুলনামূলক ভালো আয়ের আশায় অনেক বাংলাদেশি প্রবাসী পর্তুগালে রাইড শেয়ারিং সেবার সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন। কিন্তু নতুন আইনের কারণে তাদের অনেকেই এখন ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তায় ভুগছেন।

গত ১৭ জুলাই দেশটির পার্লামেন্টে সোশ্যাল ডেমোক্রেটিক পার্টি এবং ডানপন্থী শেগা দলের সমর্থনে রাইড শেয়ারিং খাতের সংশোধিত আইন পাস হয়। নতুন আইনে চালকদের জন্য ভাষাজ্ঞানের পাশাপাশি প্রশিক্ষণ ও লাইসেন্স পরীক্ষার মান আরও কঠোর করা হয়েছে।

আইন অনুযায়ী, ড্রাইভিং প্রশিক্ষণের ন্যূনতম সময় ৫০ ঘণ্টা নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া চূড়ান্ত লাইসেন্স পরীক্ষায় ৩০ নম্বরের মধ্যে অন্তত ২৭ নম্বর পেতে হবে। এসব শর্ত পূরণ না করলে রাইড শেয়ারিং সেবায় চালক হিসেবে কাজ করা সম্ভব হবে না।

আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হলো, যাত্রীরা অ্যাপ থেকেই পর্তুগিজ ভাষায় কথা বলতে সক্ষম চালক বেছে নিতে পারবেন। ফলে ভাষা না জানা চালকদের রাইড পাওয়ার সুযোগ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যেতে পারে।

নিরাপত্তা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে প্রতিটি নিবন্ধিত গাড়িতে স্থায়ী ডিজিটাল স্টিকার ব্যবহারের বিধান রাখা হয়েছে। পাশাপাশি যাত্রী ও চালকের নিরাপত্তার জন্য গাড়িতে শুধু ভিডিও রেকর্ডিং ব্যবস্থা থাকবে, তবে অডিও ধারণ করা হবে না।

নতুন এই আইন কার্যকর হলে পর্তুগালে কর্মরত বিদেশি চালকদের দ্রুত ভাষা শেখা এবং নতুন নিয়মের সঙ্গে নিজেদের মানিয়ে নেওয়া ছাড়া বিকল্প থাকবে না। বিশেষ করে বাংলাদেশি প্রবাসীদের জন্য এটি কর্মসংস্থান ধরে রাখার ক্ষেত্রে একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে।