ঢাকা ০২:১৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নেপাল-তিব্বত সীমান্তে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা, নিহত ৯৫; নিখোঁজ শত শত

নিজস্ব সংবাদ :

নেপাল ও চীনের তিব্বত সীমান্তসংলগ্ন হিমালয় এলাকায় পাহাড় ধস ও বরফধসের পর সৃষ্ট আকস্মিক বন্যায় ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত অন্তত ৯৫ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। নিখোঁজ রয়েছেন কয়েকশ মানুষ, যাদের মধ্যে পর্যটক ও বিভিন্ন দেশের নাগরিকও রয়েছেন।

বুধবার (২৬ আগস্ট) প্রকাশিত বিভিন্ন ভিডিও ও স্থানীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, প্রবল পানির স্রোতে নেপালের রাসুয়া জেলার একাধিক বসতি, সড়ক ও জলবিদ্যুৎ প্রকল্প ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নদীর পানি দ্রুত বেড়ে যাওয়ায় কয়েকটি গ্রাম কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।

নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিশির খানাল সংসদে জানিয়েছেন, দুর্যোগের আগে ওই এলাকায় ৪ দশমিক ৪ মাত্রার একটি ভূমিকম্প হয়েছিল। এর সঙ্গে বরফধসের যোগসূত্র থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তবে বন্যার প্রকৃত কারণ নিশ্চিত করতে আরও তদন্ত প্রয়োজন।

নেপালের পর্যটন কর্তৃপক্ষের প্রাথমিক হিসাবে, দুর্গত এলাকা থেকে অন্তত ৩৮৪ জন পর্যটক ও ভ্রমণকারী নিখোঁজ রয়েছেন। নিখোঁজদের মধ্যে ১০৫ জন ভারতীয়, ৯৩ জন নেপালি, তিনজন মার্কিন ও ১২ জন ব্রিটিশ নাগরিক রয়েছেন। দক্ষিণ কোরিয়ার অন্তত আট নাগরিকেরও সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না বলে জানিয়েছে দেশটির সংবাদ সংস্থা ইয়োনহাপ।

নেপালের এক পুলিশ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, প্রবল বৃষ্টি ও আকস্মিক বন্যার পর এখন পর্যন্ত ২২টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তবে দুর্গম এলাকায় যোগাযোগব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় হতাহতের প্রকৃত সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

স্থানীয় কর্মকর্তারা জানান, বুধবার সকাল ৯টার দিকে সীমান্তবর্তী এলাকায় ভোটেকোশি নদীর পানির প্রবাহ অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়। অল্প সময়ের মধ্যেই তীব্র স্রোত আশপাশের গ্রাম, গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও কয়েকটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে আঘাত হানে।

নেপাল সরকারের মুখপাত্র সস্মিত পোখরেল জানান, দুর্গম এলাকায় উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম চালাতে ভারত ও চীনের কাছে প্রয়োজনীয় সহায়তা চাওয়া হয়েছে। সেনাবাহিনী ও পুলিশকে উদ্ধার অভিযানে নামানো হয়েছে।

দুর্যোগের কারণে রাসুয়া জেলার সিয়াপ্রু বেসি ও তিমুরে এলাকায় উদ্ধার অভিযানও ব্যাহত হচ্ছে। নদীর পানি বেড়ে যাওয়ায় উদ্ধারকারী হেলিকপ্টারগুলো অনেক জায়গায় নিরাপদে অবতরণ করতে পারছে না। স্থানীয়দের দাবি, কয়েকটি বসতি পানির নিচে চলে গেছে।

স্থানীয় স্বাস্থ্যকর্মী তুলা বাহাদুর বিকে জানান, নদীর তীরবর্তী কয়েকটি বসতি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাঁর নিজের পরিবারের পাঁচ সদস্যও এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। এদিকে রাসুয়া জেলা প্রশাসক নরেন্দ্র পরিয়ার নদীর তীর ও নিচু এলাকার বাসিন্দাদের দ্রুত উঁচু ও নিরাপদ স্থানে চলে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।

চীনের তিব্বত অংশেও পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। সরকারি বার্তা সংস্থা সিনহুয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নেপাল সীমান্তের কাছে শিগাতসে অঞ্চলের গাইরং বন্দরে ভূমিধসে সড়ক যোগাযোগ, বিদ্যুৎ ও অন্যান্য অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

চীন ৫৭৪ জন উদ্ধারকারীকে দুর্গত এলাকায় পাঠিয়েছে। তবে রাস্তায় কয়েক ফুট পুরু কাদা ও পলি জমে থাকায় উদ্ধারকারীদের ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে বেগ পেতে হচ্ছে।

চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিনপিং নিখোঁজদের উদ্ধারে দ্রুত ও সর্বাত্মক অভিযান চালানোর নির্দেশ দিয়েছেন। একই সঙ্গে সম্ভাব্য দ্বিতীয় দফার বিপর্যয় এড়াতে পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণের কথাও বলা হয়েছে।

জার্মান রিসার্চ সেন্টার ফর জিওসায়েন্সেসের তথ্য অনুযায়ী, আকস্মিক বন্যার কয়েক মিনিট আগে ওই এলাকায় ৪ দশমিক ৪ মাত্রার ভূমিকম্প রেকর্ড করা হয়েছিল। আন্তর্জাতিক সংস্থা আইসিআইএমওডির প্রতিনিধি চিয়াংগং ঝাংয়ের মতে, লেন্দে নদীতে বরফ ও পাথরের ধস নেমে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহে বাধা তৈরি হওয়ার পর পানির চাপ বেড়ে এই বিপর্যয় ঘটতে পারে। এতে উজানে নতুন করে বন্যার আশঙ্কাও রয়েছে।

এদিকে নেপালের নদীগুলোর পানি ভারতের দিকে প্রবাহিত হওয়ায় উত্তর প্রদেশ ও বিহারেও সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

বন্যার প্রভাব পড়েছে নেপালের বিদ্যুৎ খাতেও। দেশটির জ্বালানি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, কয়েকটি জলবিদ্যুৎকেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় প্রায় ৪৩০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন বন্ধ রয়েছে, যা দেশের মোট উৎপাদনের প্রায় ১২ শতাংশ।

নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ জানিয়েছেন, উদ্ধার অভিযানে সেনাবাহিনী ও পুলিশ কাজ করছে। নদীর আশপাশের বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পাশাপাশি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও নেপালের পাশে থাকার ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি দেশটিকে প্রয়োজনীয় মানবিক সহায়তা দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন এবং দুই দেশের উদ্ধারকারী দলের মধ্যে সমন্বয়ের কথা জানিয়েছেন।

ভোটেকোশি নদী তিব্বত থেকে উৎপন্ন হয়ে নেপালে ত্রিশূলী নদীর সঙ্গে মিলিত হয়েছে। পরে এই নদী ভারতের ভূখণ্ডে গান্ধক নামে প্রবাহিত হয়। এর আগেও তিব্বতের একটি হিমবাহসংলগ্ন হ্রদ ভেঙে একই নদীপথে ভয়াবহ বন্যা হয়েছিল। সেই ঘটনায় নয়জন নিহত এবং ২৪ জন নিখোঁজ হয়েছিলেন।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

নেপাল-তিব্বত সীমান্তে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা, নিহত ৯৫; নিখোঁজ শত শত

আপডেট সময় ০৫:২৬:০৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬

নেপাল ও চীনের তিব্বত সীমান্তসংলগ্ন হিমালয় এলাকায় পাহাড় ধস ও বরফধসের পর সৃষ্ট আকস্মিক বন্যায় ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত অন্তত ৯৫ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। নিখোঁজ রয়েছেন কয়েকশ মানুষ, যাদের মধ্যে পর্যটক ও বিভিন্ন দেশের নাগরিকও রয়েছেন।

বুধবার (২৬ আগস্ট) প্রকাশিত বিভিন্ন ভিডিও ও স্থানীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, প্রবল পানির স্রোতে নেপালের রাসুয়া জেলার একাধিক বসতি, সড়ক ও জলবিদ্যুৎ প্রকল্প ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নদীর পানি দ্রুত বেড়ে যাওয়ায় কয়েকটি গ্রাম কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।

নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিশির খানাল সংসদে জানিয়েছেন, দুর্যোগের আগে ওই এলাকায় ৪ দশমিক ৪ মাত্রার একটি ভূমিকম্প হয়েছিল। এর সঙ্গে বরফধসের যোগসূত্র থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তবে বন্যার প্রকৃত কারণ নিশ্চিত করতে আরও তদন্ত প্রয়োজন।

নেপালের পর্যটন কর্তৃপক্ষের প্রাথমিক হিসাবে, দুর্গত এলাকা থেকে অন্তত ৩৮৪ জন পর্যটক ও ভ্রমণকারী নিখোঁজ রয়েছেন। নিখোঁজদের মধ্যে ১০৫ জন ভারতীয়, ৯৩ জন নেপালি, তিনজন মার্কিন ও ১২ জন ব্রিটিশ নাগরিক রয়েছেন। দক্ষিণ কোরিয়ার অন্তত আট নাগরিকেরও সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না বলে জানিয়েছে দেশটির সংবাদ সংস্থা ইয়োনহাপ।

নেপালের এক পুলিশ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, প্রবল বৃষ্টি ও আকস্মিক বন্যার পর এখন পর্যন্ত ২২টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তবে দুর্গম এলাকায় যোগাযোগব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় হতাহতের প্রকৃত সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

স্থানীয় কর্মকর্তারা জানান, বুধবার সকাল ৯টার দিকে সীমান্তবর্তী এলাকায় ভোটেকোশি নদীর পানির প্রবাহ অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়। অল্প সময়ের মধ্যেই তীব্র স্রোত আশপাশের গ্রাম, গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও কয়েকটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে আঘাত হানে।

নেপাল সরকারের মুখপাত্র সস্মিত পোখরেল জানান, দুর্গম এলাকায় উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম চালাতে ভারত ও চীনের কাছে প্রয়োজনীয় সহায়তা চাওয়া হয়েছে। সেনাবাহিনী ও পুলিশকে উদ্ধার অভিযানে নামানো হয়েছে।

দুর্যোগের কারণে রাসুয়া জেলার সিয়াপ্রু বেসি ও তিমুরে এলাকায় উদ্ধার অভিযানও ব্যাহত হচ্ছে। নদীর পানি বেড়ে যাওয়ায় উদ্ধারকারী হেলিকপ্টারগুলো অনেক জায়গায় নিরাপদে অবতরণ করতে পারছে না। স্থানীয়দের দাবি, কয়েকটি বসতি পানির নিচে চলে গেছে।

স্থানীয় স্বাস্থ্যকর্মী তুলা বাহাদুর বিকে জানান, নদীর তীরবর্তী কয়েকটি বসতি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাঁর নিজের পরিবারের পাঁচ সদস্যও এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। এদিকে রাসুয়া জেলা প্রশাসক নরেন্দ্র পরিয়ার নদীর তীর ও নিচু এলাকার বাসিন্দাদের দ্রুত উঁচু ও নিরাপদ স্থানে চলে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।

চীনের তিব্বত অংশেও পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। সরকারি বার্তা সংস্থা সিনহুয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নেপাল সীমান্তের কাছে শিগাতসে অঞ্চলের গাইরং বন্দরে ভূমিধসে সড়ক যোগাযোগ, বিদ্যুৎ ও অন্যান্য অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

চীন ৫৭৪ জন উদ্ধারকারীকে দুর্গত এলাকায় পাঠিয়েছে। তবে রাস্তায় কয়েক ফুট পুরু কাদা ও পলি জমে থাকায় উদ্ধারকারীদের ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে বেগ পেতে হচ্ছে।

চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিনপিং নিখোঁজদের উদ্ধারে দ্রুত ও সর্বাত্মক অভিযান চালানোর নির্দেশ দিয়েছেন। একই সঙ্গে সম্ভাব্য দ্বিতীয় দফার বিপর্যয় এড়াতে পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণের কথাও বলা হয়েছে।

জার্মান রিসার্চ সেন্টার ফর জিওসায়েন্সেসের তথ্য অনুযায়ী, আকস্মিক বন্যার কয়েক মিনিট আগে ওই এলাকায় ৪ দশমিক ৪ মাত্রার ভূমিকম্প রেকর্ড করা হয়েছিল। আন্তর্জাতিক সংস্থা আইসিআইএমওডির প্রতিনিধি চিয়াংগং ঝাংয়ের মতে, লেন্দে নদীতে বরফ ও পাথরের ধস নেমে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহে বাধা তৈরি হওয়ার পর পানির চাপ বেড়ে এই বিপর্যয় ঘটতে পারে। এতে উজানে নতুন করে বন্যার আশঙ্কাও রয়েছে।

এদিকে নেপালের নদীগুলোর পানি ভারতের দিকে প্রবাহিত হওয়ায় উত্তর প্রদেশ ও বিহারেও সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

বন্যার প্রভাব পড়েছে নেপালের বিদ্যুৎ খাতেও। দেশটির জ্বালানি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, কয়েকটি জলবিদ্যুৎকেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় প্রায় ৪৩০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন বন্ধ রয়েছে, যা দেশের মোট উৎপাদনের প্রায় ১২ শতাংশ।

নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ জানিয়েছেন, উদ্ধার অভিযানে সেনাবাহিনী ও পুলিশ কাজ করছে। নদীর আশপাশের বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পাশাপাশি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও নেপালের পাশে থাকার ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি দেশটিকে প্রয়োজনীয় মানবিক সহায়তা দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন এবং দুই দেশের উদ্ধারকারী দলের মধ্যে সমন্বয়ের কথা জানিয়েছেন।

ভোটেকোশি নদী তিব্বত থেকে উৎপন্ন হয়ে নেপালে ত্রিশূলী নদীর সঙ্গে মিলিত হয়েছে। পরে এই নদী ভারতের ভূখণ্ডে গান্ধক নামে প্রবাহিত হয়। এর আগেও তিব্বতের একটি হিমবাহসংলগ্ন হ্রদ ভেঙে একই নদীপথে ভয়াবহ বন্যা হয়েছিল। সেই ঘটনায় নয়জন নিহত এবং ২৪ জন নিখোঁজ হয়েছিলেন।