ঢাকা ০২:১১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নেপালে আকস্মিক বন্যা-ভূমিধসে মৃত্যু বেড়ে ১৬২, নিখোঁজ প্রায় ৪০০ পর্যটক

কাগজের খবর ডেস্ক:

নেপালে আকস্মিক বন্যা

নেপালে আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৬২ জনে দাঁড়িয়েছে। এ ঘটনায় ৪০৩ পর্যটক নিখোঁজ রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ৩৪১ জনই বিদেশি নাগরিক। উদ্ধার অভিযান অব্যাহত থাকায় মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

নিখোঁজদের মধ্যে বিদেশি পর্যটক, নিরাপত্তাকর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ রয়েছেন। বুধবার সকালে ভোতেকোশি নদীতে আকস্মিক বন্যায় দেশটির তিনটি জেলা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। খবর কাঠামান্ডু পোস্ট।

নেপালি পুলিশের দেওয়া সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, নিহতদের মধ্যে ৬৪ জনের মরদেহ চিতওয়ান জেলার ভাটির দিকের বিভিন্ন এলাকা থেকে এবং ২৬ জনের মরদেহ নাওয়ালপরাসি ইস্ট এলাকায় উদ্ধার করা হয়েছে। নিখোঁজদের মধ্যে ২৮ জন পুলিশ সদস্যও রয়েছেন।

প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, নেপাল-চীন সীমান্তের কাছে লহেন্দে নদীর প্রবাহ একটি তুষারধসে সৃষ্ট ধ্বংসস্তূপে আটকে যায়। পরে সেই পানি ও ধ্বংসাবশেষের বিশাল স্রোত ভোতেকোশি নদীতে নেমে এসে ভয়াবহ বন্যার সৃষ্টি করে। ওই এলাকায় বৃষ্টিপাত না থাকায় স্থানীয় বাসিন্দারা কোনো ধরনের আগাম সতর্কতা পাননি।

এদিকে চীনের তিব্বতেও ভূমিধসে নিখোঁজের সংখ্যা বেড়েছে। রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম সিসিটিভি জানিয়েছে, তিব্বতের গিরং কাউন্টিতে ভূমিধসে নিখোঁজের সংখ্যা বেড়ে ৫৫৮ জনে দাঁড়িয়েছে। তাঁদের মধ্যে ২৬০ জন বিদেশি নাগরিক। তবে সেখানে মৃতের সংখ্যা তিনজনই রয়েছে।

চীন ও নেপালের মধ্যে পর্যটক ও যানবাহন চলাচলের অন্যতম প্রধান পথ গিরং সীমান্ত। বুধবার দুই দেশের যৌথ সীমান্ত এলাকায় ভূমিধস শুরু হওয়ার পরপরই রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম সেখানে ব্যাপক প্রাণহানির খবর জানিয়েছিল।

নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ এ প্রাণহানিতে শোক জানিয়েছেন। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে প্রায় আট টন ত্রাণসামগ্রী পাঠানো হয়েছে।

শুরুতে ভূমিকম্পের কারণে বন্যার সৃষ্টি হয়েছে বলে ধারণা করা হলেও মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানিয়েছে, হিমবাহ ধস ও ধ্বংসাবশেষের তীব্র প্রবাহের কারণেই ওই কম্পন অনুভূত হয়েছিল।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

নেপালে আকস্মিক বন্যা-ভূমিধসে মৃত্যু বেড়ে ১৬২, নিখোঁজ প্রায় ৪০০ পর্যটক

আপডেট সময় ০৪:৪৩:২৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬

নেপালে আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৬২ জনে দাঁড়িয়েছে। এ ঘটনায় ৪০৩ পর্যটক নিখোঁজ রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ৩৪১ জনই বিদেশি নাগরিক। উদ্ধার অভিযান অব্যাহত থাকায় মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

নিখোঁজদের মধ্যে বিদেশি পর্যটক, নিরাপত্তাকর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ রয়েছেন। বুধবার সকালে ভোতেকোশি নদীতে আকস্মিক বন্যায় দেশটির তিনটি জেলা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। খবর কাঠামান্ডু পোস্ট।

নেপালি পুলিশের দেওয়া সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, নিহতদের মধ্যে ৬৪ জনের মরদেহ চিতওয়ান জেলার ভাটির দিকের বিভিন্ন এলাকা থেকে এবং ২৬ জনের মরদেহ নাওয়ালপরাসি ইস্ট এলাকায় উদ্ধার করা হয়েছে। নিখোঁজদের মধ্যে ২৮ জন পুলিশ সদস্যও রয়েছেন।

প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, নেপাল-চীন সীমান্তের কাছে লহেন্দে নদীর প্রবাহ একটি তুষারধসে সৃষ্ট ধ্বংসস্তূপে আটকে যায়। পরে সেই পানি ও ধ্বংসাবশেষের বিশাল স্রোত ভোতেকোশি নদীতে নেমে এসে ভয়াবহ বন্যার সৃষ্টি করে। ওই এলাকায় বৃষ্টিপাত না থাকায় স্থানীয় বাসিন্দারা কোনো ধরনের আগাম সতর্কতা পাননি।

এদিকে চীনের তিব্বতেও ভূমিধসে নিখোঁজের সংখ্যা বেড়েছে। রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম সিসিটিভি জানিয়েছে, তিব্বতের গিরং কাউন্টিতে ভূমিধসে নিখোঁজের সংখ্যা বেড়ে ৫৫৮ জনে দাঁড়িয়েছে। তাঁদের মধ্যে ২৬০ জন বিদেশি নাগরিক। তবে সেখানে মৃতের সংখ্যা তিনজনই রয়েছে।

চীন ও নেপালের মধ্যে পর্যটক ও যানবাহন চলাচলের অন্যতম প্রধান পথ গিরং সীমান্ত। বুধবার দুই দেশের যৌথ সীমান্ত এলাকায় ভূমিধস শুরু হওয়ার পরপরই রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম সেখানে ব্যাপক প্রাণহানির খবর জানিয়েছিল।

নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ এ প্রাণহানিতে শোক জানিয়েছেন। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে প্রায় আট টন ত্রাণসামগ্রী পাঠানো হয়েছে।

শুরুতে ভূমিকম্পের কারণে বন্যার সৃষ্টি হয়েছে বলে ধারণা করা হলেও মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানিয়েছে, হিমবাহ ধস ও ধ্বংসাবশেষের তীব্র প্রবাহের কারণেই ওই কম্পন অনুভূত হয়েছিল।