ঢাকা ০১:৩৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬, ১৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নবম পে স্কেল এখন চূড়ান্ত ধাপে, মন্ত্রিসভার অনুমোদনের পরই আসতে পারে প্রজ্ঞাপন

নিজস্ব সংবাদ :

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের আলোচিত নবম পে স্কেল বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া এখন শেষ পর্যায়ে পৌঁছেছে। অর্থ বিভাগের প্রয়োজনীয় আনুষঙ্গিক কাজ সম্পন্ন হওয়ার পর প্রস্তাবটি মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করা হবে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর ভাষ্য, মন্ত্রিসভার অনুমোদন মিললেই নতুন বেতন কাঠামো কার্যকরের জন্য প্রজ্ঞাপন জারি করা হতে পারে।

জানা গেছে, নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের আর্থিক প্রভাব ও প্রশাসনিক বিষয়গুলো নিয়ে অর্থ বিভাগ কাজ করছে। সুপারিশগুলো প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে বলে অর্থ মন্ত্রণালয়ের একাধিক সূত্র জানিয়েছে।

গত ১২ থেকে ১৬ জুলাই আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) একটি প্রতিনিধিদল ঢাকা সফর করে অর্থমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করে। বৈঠকে তারা রাজস্ব আহরণ বাড়ানো, সামাজিক নিরাপত্তা কার্যক্রম এবং সম্ভাব্য অতিরিক্ত ব্যয়ের অর্থায়নের উৎস সম্পর্কে জানতে চায়। তবে নতুন পে স্কেল বাস্তবায়নে আইএমএফের কোনো সরাসরি আপত্তি নেই বলে সরকারি সূত্র দাবি করেছে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, আইএমএফ মূলত সরকারের আর্থিক সক্ষমতা ও ব্যয় ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে জানতে চেয়েছে। অতিরিক্ত ব্যয়ের অর্থ কোথা থেকে আসবে, সেটিই ছিল আলোচনার অন্যতম বিষয়।

নতুন বেতন কাঠামোর সুপারিশ তৈরির জন্য গত ২১ এপ্রিল মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির নেতৃত্বে ১০ সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়। কমিটিতে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব, অর্থ, জনপ্রশাসন, আইন, প্রতিরক্ষা, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য বিভাগের সচিব, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার এবং হিসাব মহানিয়ন্ত্রক সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

বুধবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, নবম পে স্কেল বাস্তবায়নের কাজ সরকারের নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুযায়ী এগিয়ে চলছে। বিভিন্ন গণমাধ্যমে নানা ধরনের খবর প্রকাশিত হলেও সরকার নিজস্ব প্রশাসনিক ও আর্থিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই সিদ্ধান্ত নেবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

আইএমএফ ঋণ কর্মসূচির সঙ্গে নতুন পে স্কেলের কোনো সম্পর্ক আছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, বেতন কাঠামো বাস্তবায়ন সরকারের নিজস্ব বিষয় এবং এটি আইএমএফ ঋণ কর্মসূচির সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত নয়।

তিনি আরও জানান, প্রয়োজনীয় কাজ শেষ হলে প্রজ্ঞাপন জারি করতে খুব বেশি সময় লাগবে না। তবে বিষয়টি নিয়ে ঘন ঘন মন্তব্য করতে তিনি অনাগ্রহ প্রকাশ করেন।

উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের জানুয়ারি থেকে শুরু হওয়া ৫৫০ কোটি ডলারের আইএমএফ ঋণ কর্মসূচির পাঁচটি কিস্তি পাওয়ার পর পরবর্তী অর্থ ছাড় এখনো অপেক্ষমাণ রয়েছে। একই সঙ্গে ৪০০ কোটি ডলারের বেশি নতুন ঋণ কর্মসূচি নিয়েও আলোচনা চলছে। আগামী অক্টোবরে ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠিতব্য বিশ্বব্যাংক-আইএমএফ বার্ষিক সভায় এ আলোচনা আরও অগ্রসর হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

যদিও সরকার এখনো নবম পে স্কেল কার্যকরের নির্দিষ্ট তারিখ ঘোষণা করেনি। তবে সংশ্লিষ্ট মহলের ধারণা, সুপারিশ চূড়ান্ত করা, মন্ত্রিসভার অনুমোদন এবং প্রজ্ঞাপন জারির প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলেই সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য বহুল প্রতীক্ষিত নবম বেতন কাঠামোর আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসতে পারে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

নবম পে স্কেল এখন চূড়ান্ত ধাপে, মন্ত্রিসভার অনুমোদনের পরই আসতে পারে প্রজ্ঞাপন

আপডেট সময় ০৫:৫১:২৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের আলোচিত নবম পে স্কেল বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া এখন শেষ পর্যায়ে পৌঁছেছে। অর্থ বিভাগের প্রয়োজনীয় আনুষঙ্গিক কাজ সম্পন্ন হওয়ার পর প্রস্তাবটি মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করা হবে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর ভাষ্য, মন্ত্রিসভার অনুমোদন মিললেই নতুন বেতন কাঠামো কার্যকরের জন্য প্রজ্ঞাপন জারি করা হতে পারে।

জানা গেছে, নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের আর্থিক প্রভাব ও প্রশাসনিক বিষয়গুলো নিয়ে অর্থ বিভাগ কাজ করছে। সুপারিশগুলো প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে বলে অর্থ মন্ত্রণালয়ের একাধিক সূত্র জানিয়েছে।

গত ১২ থেকে ১৬ জুলাই আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) একটি প্রতিনিধিদল ঢাকা সফর করে অর্থমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করে। বৈঠকে তারা রাজস্ব আহরণ বাড়ানো, সামাজিক নিরাপত্তা কার্যক্রম এবং সম্ভাব্য অতিরিক্ত ব্যয়ের অর্থায়নের উৎস সম্পর্কে জানতে চায়। তবে নতুন পে স্কেল বাস্তবায়নে আইএমএফের কোনো সরাসরি আপত্তি নেই বলে সরকারি সূত্র দাবি করেছে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, আইএমএফ মূলত সরকারের আর্থিক সক্ষমতা ও ব্যয় ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে জানতে চেয়েছে। অতিরিক্ত ব্যয়ের অর্থ কোথা থেকে আসবে, সেটিই ছিল আলোচনার অন্যতম বিষয়।

নতুন বেতন কাঠামোর সুপারিশ তৈরির জন্য গত ২১ এপ্রিল মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির নেতৃত্বে ১০ সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়। কমিটিতে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব, অর্থ, জনপ্রশাসন, আইন, প্রতিরক্ষা, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য বিভাগের সচিব, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার এবং হিসাব মহানিয়ন্ত্রক সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

বুধবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, নবম পে স্কেল বাস্তবায়নের কাজ সরকারের নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুযায়ী এগিয়ে চলছে। বিভিন্ন গণমাধ্যমে নানা ধরনের খবর প্রকাশিত হলেও সরকার নিজস্ব প্রশাসনিক ও আর্থিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই সিদ্ধান্ত নেবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

আইএমএফ ঋণ কর্মসূচির সঙ্গে নতুন পে স্কেলের কোনো সম্পর্ক আছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, বেতন কাঠামো বাস্তবায়ন সরকারের নিজস্ব বিষয় এবং এটি আইএমএফ ঋণ কর্মসূচির সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত নয়।

তিনি আরও জানান, প্রয়োজনীয় কাজ শেষ হলে প্রজ্ঞাপন জারি করতে খুব বেশি সময় লাগবে না। তবে বিষয়টি নিয়ে ঘন ঘন মন্তব্য করতে তিনি অনাগ্রহ প্রকাশ করেন।

উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের জানুয়ারি থেকে শুরু হওয়া ৫৫০ কোটি ডলারের আইএমএফ ঋণ কর্মসূচির পাঁচটি কিস্তি পাওয়ার পর পরবর্তী অর্থ ছাড় এখনো অপেক্ষমাণ রয়েছে। একই সঙ্গে ৪০০ কোটি ডলারের বেশি নতুন ঋণ কর্মসূচি নিয়েও আলোচনা চলছে। আগামী অক্টোবরে ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠিতব্য বিশ্বব্যাংক-আইএমএফ বার্ষিক সভায় এ আলোচনা আরও অগ্রসর হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

যদিও সরকার এখনো নবম পে স্কেল কার্যকরের নির্দিষ্ট তারিখ ঘোষণা করেনি। তবে সংশ্লিষ্ট মহলের ধারণা, সুপারিশ চূড়ান্ত করা, মন্ত্রিসভার অনুমোদন এবং প্রজ্ঞাপন জারির প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলেই সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য বহুল প্রতীক্ষিত নবম বেতন কাঠামোর আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসতে পারে।