ঢাকা ১২:৫৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের কাউন্টডাউন শুরু, সেপ্টেম্বরে সংসদেই হতে পারে নির্বাচন; আলোচনায় বিএনপির একাধিক শীর্ষ নেতা

নিজস্ব সংবাদ :

অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে রাষ্ট্রপতির পদ থেকে মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের পর দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। সাংবিধানিক বিধান অনুযায়ী আগামী ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত করতে হবে। নির্বাচন কমিশনের সূত্র বলছে, আগস্টের শেষ দিকে তফসিল ঘোষণা হতে পারে এবং সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহে জাতীয় সংসদের অধিবেশন চলাকালেই নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের সম্ভাবনা রয়েছে।

সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে সংসদ সদস্যদের ভোটে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। তবে একজন বৈধ প্রার্থী থাকলে ভোট ছাড়াই তাকে নির্বাচিত ঘোষণা করার সুযোগ রয়েছে। অতীতের কয়েকটি নির্বাচনেও এমনটি ঘটেছে।

রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব আপাতত পালন করছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। নতুন রাষ্ট্রপতি দায়িত্ব গ্রহণ না করা পর্যন্ত তিনি ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্বে থাকবেন। এ সময় স্পিকারের দায়িত্ব পালন করবেন ডেপুটি স্পিকার।

আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান জানিয়েছেন, সংবিধানের ১২৩(২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী পদত্যাগের ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন সম্পন্ন করতে হবে। ফলে বিশেষ অধিবেশন ডাকার প্রয়োজনীয়তা এখনো তৈরি হয়নি। নিয়মিত সংসদ অধিবেশনেই নির্বাচন আয়োজন সম্ভব বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

নির্বাচন কমিশন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আইন অনুযায়ী তফসিল ঘোষণা করবে। এরপর মনোনয়নপত্র জমা, যাচাই, প্রার্থিতা প্রত্যাহার এবং প্রয়োজন হলে ভোটগ্রহণের সময়সূচি নির্ধারণ করা হবে। ভোটের স্থান হবে জাতীয় সংসদের অধিবেশন কক্ষ এবং ভোটার থাকবেন সংসদ সদস্যরা।

বর্তমান ত্রয়োদশ সংসদে বিএনপির সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় দলটির মনোনীত প্রার্থীর রাষ্ট্রপতি হওয়ার সম্ভাবনাই সবচেয়ে বেশি বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রার্থী চূড়ান্ত করার আগে বিষয়টি বিএনপির স্থায়ী কমিটি এবং পরে সংসদীয় দলের বৈঠকে আলোচনা হবে।

রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতার নাম রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনায় রয়েছে। এর মধ্যে ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, ড. আবদুল মঈন খান ও নজরুল ইসলাম খানের নাম উল্লেখযোগ্য। এছাড়া সাম্প্রতিক সময়ে সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গণি, মানবাধিকারকর্মী আইরিন খান এবং একজন সাবেক প্রধান বিচারপতির নামও বিভিন্ন মহলে আলোচনায় এসেছে। তবে এ বিষয়ে এখনো বিএনপির পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি।

এদিকে মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের পর তাকে বিচারের আওতায় আনার দাবিও তুলেছে কয়েকটি রাজনৈতিক দল। তবে সংবিধানের ৫১ অনুচ্ছেদে রাষ্ট্রপতির দায়মুক্তি নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। সাংবিধানিক বিশেষজ্ঞদের মতে, দায়িত্বে থাকা অবস্থায় রাষ্ট্রপতি নির্দিষ্ট সাংবিধানিক সুরক্ষা ভোগ করলেও পদত্যাগের পর সেই সুরক্ষার সীমা ও প্রযোজ্যতা আইনগতভাবে পৃথকভাবে বিবেচিত হবে।

সব মিলিয়ে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে। এখন নজর নির্বাচন কমিশনের তফসিল ঘোষণা এবং ক্ষমতাসীন দলের চূড়ান্ত মনোনয়নের দিকে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের কাউন্টডাউন শুরু, সেপ্টেম্বরে সংসদেই হতে পারে নির্বাচন; আলোচনায় বিএনপির একাধিক শীর্ষ নেতা

আপডেট সময় ০২:৩৯:২১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬

অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে রাষ্ট্রপতির পদ থেকে মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের পর দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। সাংবিধানিক বিধান অনুযায়ী আগামী ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত করতে হবে। নির্বাচন কমিশনের সূত্র বলছে, আগস্টের শেষ দিকে তফসিল ঘোষণা হতে পারে এবং সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহে জাতীয় সংসদের অধিবেশন চলাকালেই নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের সম্ভাবনা রয়েছে।

সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে সংসদ সদস্যদের ভোটে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। তবে একজন বৈধ প্রার্থী থাকলে ভোট ছাড়াই তাকে নির্বাচিত ঘোষণা করার সুযোগ রয়েছে। অতীতের কয়েকটি নির্বাচনেও এমনটি ঘটেছে।

রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব আপাতত পালন করছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। নতুন রাষ্ট্রপতি দায়িত্ব গ্রহণ না করা পর্যন্ত তিনি ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্বে থাকবেন। এ সময় স্পিকারের দায়িত্ব পালন করবেন ডেপুটি স্পিকার।

আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান জানিয়েছেন, সংবিধানের ১২৩(২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী পদত্যাগের ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন সম্পন্ন করতে হবে। ফলে বিশেষ অধিবেশন ডাকার প্রয়োজনীয়তা এখনো তৈরি হয়নি। নিয়মিত সংসদ অধিবেশনেই নির্বাচন আয়োজন সম্ভব বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

নির্বাচন কমিশন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আইন অনুযায়ী তফসিল ঘোষণা করবে। এরপর মনোনয়নপত্র জমা, যাচাই, প্রার্থিতা প্রত্যাহার এবং প্রয়োজন হলে ভোটগ্রহণের সময়সূচি নির্ধারণ করা হবে। ভোটের স্থান হবে জাতীয় সংসদের অধিবেশন কক্ষ এবং ভোটার থাকবেন সংসদ সদস্যরা।

বর্তমান ত্রয়োদশ সংসদে বিএনপির সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় দলটির মনোনীত প্রার্থীর রাষ্ট্রপতি হওয়ার সম্ভাবনাই সবচেয়ে বেশি বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রার্থী চূড়ান্ত করার আগে বিষয়টি বিএনপির স্থায়ী কমিটি এবং পরে সংসদীয় দলের বৈঠকে আলোচনা হবে।

রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতার নাম রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনায় রয়েছে। এর মধ্যে ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, ড. আবদুল মঈন খান ও নজরুল ইসলাম খানের নাম উল্লেখযোগ্য। এছাড়া সাম্প্রতিক সময়ে সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গণি, মানবাধিকারকর্মী আইরিন খান এবং একজন সাবেক প্রধান বিচারপতির নামও বিভিন্ন মহলে আলোচনায় এসেছে। তবে এ বিষয়ে এখনো বিএনপির পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি।

এদিকে মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের পর তাকে বিচারের আওতায় আনার দাবিও তুলেছে কয়েকটি রাজনৈতিক দল। তবে সংবিধানের ৫১ অনুচ্ছেদে রাষ্ট্রপতির দায়মুক্তি নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। সাংবিধানিক বিশেষজ্ঞদের মতে, দায়িত্বে থাকা অবস্থায় রাষ্ট্রপতি নির্দিষ্ট সাংবিধানিক সুরক্ষা ভোগ করলেও পদত্যাগের পর সেই সুরক্ষার সীমা ও প্রযোজ্যতা আইনগতভাবে পৃথকভাবে বিবেচিত হবে।

সব মিলিয়ে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে। এখন নজর নির্বাচন কমিশনের তফসিল ঘোষণা এবং ক্ষমতাসীন দলের চূড়ান্ত মনোনয়নের দিকে।