দুই বছরের মধ্যে জ্বালানি সংকট কাটাতে সরকারের রোডম্যাপ: প্রতিমন্ত্রী অমিত
নিজস্ব প্রতিবেদক
আগামী দুই বছরের মধ্যে দেশের জ্বালানি খাতের বিদ্যমান সংকট থেকে পুরোপুরি বেরিয়ে আসার লক্ষ্য নিয়ে সরকার সমন্বিত পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।
মঙ্গলবার রাজধানীর ঢাকা ক্লাবে ফোরাম ফর এনার্জি রিপোর্টার্স বাংলাদেশ (এফইআরবি) আয়োজিত ‘জ্বালানি খাতের সংকট: সম্ভাবনা ও উত্তরণের উপায়’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী স্বীকার করেন, দেশে বিদ্যুৎ ও গ্যাসের চাহিদা দ্রুত বাড়লেও সেই অনুপাতে সরবরাহ নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। তিনি বলেন, “চাহিদা ও সরবরাহের মধ্যে যে ব্যবধান তৈরি হয়েছে, তা জনগণের ভোগান্তির কারণ হয়েছে। এ পরিস্থিতির জন্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে আমি দুঃখ প্রকাশ করছি।”
গ্যাস সংকটের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি জানান, দেশের একটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল (এফএসআরইউ) কারিগরি ত্রুটির কারণে পুরো সক্ষমতায় চালু নেই। আংশিকভাবে কার্যক্রম শুরু হলেও পূর্ণ মেরামতের জন্য বর্তমানে চালু থাকা উৎপাদন ব্যবস্থাও সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে হতে পারে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সঙ্গে আলোচনা চলছে বলে জানান তিনি।
নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসঙ্গে অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, সরকার আগামী সাড়ে চার বছরের মধ্যে ১০ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সৌর, বায়ু ও অন্যান্য নবায়নযোগ্য উৎস থেকে উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। একই সঙ্গে দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান ও উত্তোলন বাড়াতে বাপেক্সের সক্ষমতা বৃদ্ধি করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সেমিনারে উপস্থিত জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা বলেন, কেবল আমদানিনির্ভর এলএনজির ওপর নির্ভর করে দীর্ঘমেয়াদি সমাধান সম্ভব নয়। গ্যাসের ব্যবহার দক্ষ করা, বিকল্প জ্বালানির প্রসার, অপচয় রোধ এবং খাতের অনিয়ম ও দুর্নীতি বন্ধ না করলে সংকট আরও তীব্র হতে পারে।
তারা সতর্ক করে বলেন, জ্বালানি খাতে কাঙ্ক্ষিত সংস্কার না এলে ভবিষ্যতে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি শিল্প ও অর্থনীতিতেও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
অনুষ্ঠানে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ উপদেষ্টা ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, জ্বালানি বিশেষজ্ঞ, ব্যবসায়ী প্রতিনিধি এবং সংশ্লিষ্ট খাতের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

























