ঢাকা ০৮:০১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ড. ইরফানের মৃত্যু নিয়ে রহস্য, পূর্ণাঙ্গ ফরেনসিক অটোপ্সির দাবিতে বুয়েটে মানববন্ধন

নিজস্ব সংবাদ :

বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান এনভিডিয়ার সিনিয়র ডেটা সায়েন্টিস্ট ড. ইরফান আল-হুসাইনির মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটনের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন বুয়েটের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। শনিবার (২২ আগস্ট) বুয়েট প্রাঙ্গণে আয়োজিত এ কর্মসূচি থেকে তাঁর মৃত্যুর নিরপেক্ষ ও পূর্ণাঙ্গ তদন্তের পাশাপাশি দ্রুত ফরেনসিক অটোপ্সির দাবি জানানো হয়।

মানববন্ধনে বুয়েটের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. একরামুল হকসহ কয়েকজন শিক্ষক বক্তব্য দেন। তারা ড. ইরফানের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপের আহ্বান জানান।

মানববন্ধনে দেওয়া প্রেস ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, গত ২২ জুলাই যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজ অ্যাপার্টমেন্ট থেকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করা হয় ড. ইরফানকে। ৯১১-এ কল পাওয়ার পর জরুরি সেবাকর্মীরা তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে স্ট্যানফোর্ড মেডিকেল সেন্টারের আইসিইউতে নয় দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর ৩০ জুলাই তাঁর মৃত্যু হয়।

ইরফান বুয়েটের ইইই বিভাগের ২০১২ ব্যাচের শিক্ষার্থী ছিলেন। তিনি জর্জিয়া টেক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি সম্পন্ন করে এনভিডিয়ায় ডেটা সায়েন্টিস্ট হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন এবং মৃত্যুর মাত্র কয়েক মাস আগে সিনিয়র ডেটা সায়েন্টিস্ট পদে পদোন্নতি পান। মূলত বাসা থেকেই তিনি অফিসের কাজ করতেন।

প্রেস ব্রিফিংয়ে দাবি করা হয়, মৃত্যুর দিন সকাল প্রায় ৯টা পর্যন্ত ইরফান সহকর্মীদের একটি অনলাইন প্রেজেন্টেশন দেন। এরপর সকাল ১০টা ২ মিনিটে তাঁর মোবাইল থেকে কর্মস্থলে একটি বার্তা পাঠানো হয়, যেখানে স্ত্রীর অসুস্থতার কথা উল্লেখ করে দিনের বাকি সময়ের জন্য ছুটি চাওয়া হয়। এর মাত্র ২০ মিনিট পর, সকাল ১০টা ২২ মিনিটে তাঁর বাসা থেকে ৯১১-এ একটি কল করা হয়। ওই কলটি তাঁর স্ত্রী করেছিলেন এবং সেখানে আত্মহত্যার ঘটনা বলে জানানো হয়েছিল বলে মানববন্ধনে দাবি করা হয়।

এই সময়ের ঘটনাপ্রবাহ নিয়েই ইরফানের পরিবার ও সহপাঠীদের মধ্যে নানা প্রশ্ন তৈরি হয়েছে বলে প্রেস ব্রিফিংয়ে উল্লেখ করা হয়। বিশেষ করে সকাল ৯টার পর থেকে ৯১১-এ কল করার সময় পর্যন্ত কী ঘটেছিল, তা তদন্তের মাধ্যমে পরিষ্কার করার দাবি জানানো হয়েছে।

মানববন্ধনে আরও বলা হয়, জরুরি সেবাকর্মীদের তথ্য অনুযায়ী ইরফানের মস্তিষ্কে দীর্ঘ সময় অক্সিজেনের ঘাটতি তৈরি হয়েছিল। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।

ইরফানের মৃত্যুর পর মরদেহ প্রথমে করোনারের কার্যালয়ে নেওয়া হলেও সেখানে কেবল বাহ্যিক পরীক্ষা করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়। এরপর মরদেহ তাঁর স্ত্রীর কাছে হস্তান্তর করা হয়। পূর্ণাঙ্গ অভ্যন্তরীণ ফরেনসিক অটোপ্সি এখনো হয়নি বলেও মানববন্ধনে জানানো হয়।

এদিকে মৃত্যুর পর মরদেহ দাফনের উদ্যোগ এবং পরিবারের সদস্যদের অবহিত করার বিষয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে। প্রেস ব্রিফিংয়ে দাবি করা হয়, ইরফানের নিকটজনদের অনেকে তাঁর দাফনের প্রস্তুতি সম্পর্কে পরে জানতে পারেন। এসব ঘটনা সামগ্রিকভাবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিয়ে পরিবারের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করেছে বলে জানানো হয়।

মানববন্ধনে অংশ নেওয়া শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা বলেন, তদন্ত চলমান থাকলেও ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় আরও দ্রুত ও স্বচ্ছ পদক্ষেপ প্রয়োজন। তাদের মতে, প্রয়োজনীয় আলামত নষ্ট বা হারিয়ে যাওয়ার আগেই মরদেহের পূর্ণাঙ্গ অভ্যন্তরীণ ফরেনসিক পরীক্ষা করা জরুরি।

কর্মসূচি থেকে তিন দফা দাবি তুলে ধরা হয়। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে দ্রুত ড. ইরফানের পূর্ণাঙ্গ ফরেনসিক অটোপ্সি সম্পন্ন করা, মরদেহ তাঁর পিতা-মাতার কাছে হস্তান্তর এবং ডিজিটাল ফরেনসিকসহ একটি নিরপেক্ষ ও পূর্ণাঙ্গ তদন্তের মাধ্যমে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটন।

মানববন্ধনে আরও বলা হয়, তদন্তে যদি আত্মহত্যার বিষয়টি প্রমাণিত হয়, তাহলে কোন পরিস্থিতি বা কারণ তাঁকে এমন সিদ্ধান্তের দিকে ঠেলে দিয়েছিল, সেটিও অনুসন্ধান করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে।

বক্তারা জানান, ড. ইরফানের মৃত্যুর ২১ দিন পেরিয়ে গেলেও মরদেহ এখনো হিমাগারে রয়েছে। তাই দ্রুত আইনগত পদক্ষেপ নিয়ে পূর্ণাঙ্গ ফরেনসিক পরীক্ষা সম্পন্ন এবং তাঁর মৃত্যুর রহস্য উদঘাটনের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর দাবি জানান তারা।

তবে মানববন্ধনে উত্থাপিত অভিযোগ ও দাবিগুলো তদন্তসাপেক্ষ। ড. ইরফানের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এবং ঘটনাপ্রবাহ সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী ও তদন্তকারী কর্তৃপক্ষের তদন্তের ভিত্তিতেই নির্ধারিত হবে।

সৌজন্যে :BUET Media & Communication Club

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

ড. ইরফানের মৃত্যু নিয়ে রহস্য, পূর্ণাঙ্গ ফরেনসিক অটোপ্সির দাবিতে বুয়েটে মানববন্ধন

আপডেট সময় ০৩:৩৯:০৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৬

বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান এনভিডিয়ার সিনিয়র ডেটা সায়েন্টিস্ট ড. ইরফান আল-হুসাইনির মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটনের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন বুয়েটের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। শনিবার (২২ আগস্ট) বুয়েট প্রাঙ্গণে আয়োজিত এ কর্মসূচি থেকে তাঁর মৃত্যুর নিরপেক্ষ ও পূর্ণাঙ্গ তদন্তের পাশাপাশি দ্রুত ফরেনসিক অটোপ্সির দাবি জানানো হয়।

মানববন্ধনে বুয়েটের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. একরামুল হকসহ কয়েকজন শিক্ষক বক্তব্য দেন। তারা ড. ইরফানের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপের আহ্বান জানান।

মানববন্ধনে দেওয়া প্রেস ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, গত ২২ জুলাই যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজ অ্যাপার্টমেন্ট থেকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করা হয় ড. ইরফানকে। ৯১১-এ কল পাওয়ার পর জরুরি সেবাকর্মীরা তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে স্ট্যানফোর্ড মেডিকেল সেন্টারের আইসিইউতে নয় দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর ৩০ জুলাই তাঁর মৃত্যু হয়।

ইরফান বুয়েটের ইইই বিভাগের ২০১২ ব্যাচের শিক্ষার্থী ছিলেন। তিনি জর্জিয়া টেক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি সম্পন্ন করে এনভিডিয়ায় ডেটা সায়েন্টিস্ট হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন এবং মৃত্যুর মাত্র কয়েক মাস আগে সিনিয়র ডেটা সায়েন্টিস্ট পদে পদোন্নতি পান। মূলত বাসা থেকেই তিনি অফিসের কাজ করতেন।

প্রেস ব্রিফিংয়ে দাবি করা হয়, মৃত্যুর দিন সকাল প্রায় ৯টা পর্যন্ত ইরফান সহকর্মীদের একটি অনলাইন প্রেজেন্টেশন দেন। এরপর সকাল ১০টা ২ মিনিটে তাঁর মোবাইল থেকে কর্মস্থলে একটি বার্তা পাঠানো হয়, যেখানে স্ত্রীর অসুস্থতার কথা উল্লেখ করে দিনের বাকি সময়ের জন্য ছুটি চাওয়া হয়। এর মাত্র ২০ মিনিট পর, সকাল ১০টা ২২ মিনিটে তাঁর বাসা থেকে ৯১১-এ একটি কল করা হয়। ওই কলটি তাঁর স্ত্রী করেছিলেন এবং সেখানে আত্মহত্যার ঘটনা বলে জানানো হয়েছিল বলে মানববন্ধনে দাবি করা হয়।

এই সময়ের ঘটনাপ্রবাহ নিয়েই ইরফানের পরিবার ও সহপাঠীদের মধ্যে নানা প্রশ্ন তৈরি হয়েছে বলে প্রেস ব্রিফিংয়ে উল্লেখ করা হয়। বিশেষ করে সকাল ৯টার পর থেকে ৯১১-এ কল করার সময় পর্যন্ত কী ঘটেছিল, তা তদন্তের মাধ্যমে পরিষ্কার করার দাবি জানানো হয়েছে।

মানববন্ধনে আরও বলা হয়, জরুরি সেবাকর্মীদের তথ্য অনুযায়ী ইরফানের মস্তিষ্কে দীর্ঘ সময় অক্সিজেনের ঘাটতি তৈরি হয়েছিল। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।

ইরফানের মৃত্যুর পর মরদেহ প্রথমে করোনারের কার্যালয়ে নেওয়া হলেও সেখানে কেবল বাহ্যিক পরীক্ষা করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়। এরপর মরদেহ তাঁর স্ত্রীর কাছে হস্তান্তর করা হয়। পূর্ণাঙ্গ অভ্যন্তরীণ ফরেনসিক অটোপ্সি এখনো হয়নি বলেও মানববন্ধনে জানানো হয়।

এদিকে মৃত্যুর পর মরদেহ দাফনের উদ্যোগ এবং পরিবারের সদস্যদের অবহিত করার বিষয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে। প্রেস ব্রিফিংয়ে দাবি করা হয়, ইরফানের নিকটজনদের অনেকে তাঁর দাফনের প্রস্তুতি সম্পর্কে পরে জানতে পারেন। এসব ঘটনা সামগ্রিকভাবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিয়ে পরিবারের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করেছে বলে জানানো হয়।

মানববন্ধনে অংশ নেওয়া শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা বলেন, তদন্ত চলমান থাকলেও ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় আরও দ্রুত ও স্বচ্ছ পদক্ষেপ প্রয়োজন। তাদের মতে, প্রয়োজনীয় আলামত নষ্ট বা হারিয়ে যাওয়ার আগেই মরদেহের পূর্ণাঙ্গ অভ্যন্তরীণ ফরেনসিক পরীক্ষা করা জরুরি।

কর্মসূচি থেকে তিন দফা দাবি তুলে ধরা হয়। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে দ্রুত ড. ইরফানের পূর্ণাঙ্গ ফরেনসিক অটোপ্সি সম্পন্ন করা, মরদেহ তাঁর পিতা-মাতার কাছে হস্তান্তর এবং ডিজিটাল ফরেনসিকসহ একটি নিরপেক্ষ ও পূর্ণাঙ্গ তদন্তের মাধ্যমে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটন।

মানববন্ধনে আরও বলা হয়, তদন্তে যদি আত্মহত্যার বিষয়টি প্রমাণিত হয়, তাহলে কোন পরিস্থিতি বা কারণ তাঁকে এমন সিদ্ধান্তের দিকে ঠেলে দিয়েছিল, সেটিও অনুসন্ধান করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে।

বক্তারা জানান, ড. ইরফানের মৃত্যুর ২১ দিন পেরিয়ে গেলেও মরদেহ এখনো হিমাগারে রয়েছে। তাই দ্রুত আইনগত পদক্ষেপ নিয়ে পূর্ণাঙ্গ ফরেনসিক পরীক্ষা সম্পন্ন এবং তাঁর মৃত্যুর রহস্য উদঘাটনের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর দাবি জানান তারা।

তবে মানববন্ধনে উত্থাপিত অভিযোগ ও দাবিগুলো তদন্তসাপেক্ষ। ড. ইরফানের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এবং ঘটনাপ্রবাহ সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী ও তদন্তকারী কর্তৃপক্ষের তদন্তের ভিত্তিতেই নির্ধারিত হবে।

সৌজন্যে :BUET Media & Communication Club