ঢাকা ০১:৪৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ডলারের দাম কমায় বৈদেশিক মুদ্রার বাজারে স্বস্তি

কাগজের খবর ডেস্ক:

বৈদেশিক মুদ্রার বাজারে স্বস্তি

ডলারের সরবরাহ স্বাভাবিক থাকায় দেশের বৈদেশিক মুদ্রার বাজারে ধীরে ধীরে স্বস্তি ফিরতে শুরু করেছে। এর প্রভাবে আন্তঃব্যাংক ও বাণিজ্যিক ব্যাংকের বাজারে মার্কিন ডলারের দাম কমেছে। আমদানি ব্যয়ের চাপ কিছুটা কমে আসা এবং প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্স প্রবাহে শক্তিশালী প্রবৃদ্ধিকে এ স্বস্তির প্রধান কারণ হিসেবে দেখছেন খাতসংশ্লিষ্টরা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ১৬ আগস্ট আন্তঃব্যাংক বাজারে প্রতি মার্কিন ডলারের দাম কমে দাঁড়িয়েছে ১২২ টাকা ৬৩ পয়সায়। একই দিনে স্পট মার্কেটে প্রতি ডলার বিক্রি হয়েছে ১২৩ টাকায়। ১৫ দিন আগেও এর দাম ছিল ১২৩ টাকা ৮২ পয়সা।

এদিকে, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের লেনদেন ও ঋণপত্রের (এলসি) দায় পরিশোধে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে প্রতি ডলারের জন্য দিতে হচ্ছে ১২৩ টাকা শূন্য ৫ পয়সা। মাসের শুরুতে এ দর ছিল ১২৩ টাকা ৯৫ পয়সা। অর্থাৎ মাসের ব্যবধানে এ ক্ষেত্রেও ডলারের দাম কমেছে ৯০ পয়সা।

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ ও উত্তেজনার সময় আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় জ্বালানি, সারসহ বিভিন্ন পণ্যের আমদানি ব্যয় বেড়ে গিয়েছিল। এতে দেশে ডলারের চাহিদাও বাড়ে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে বড় ধরনের আমদানি দায় পরিশোধের চাপ কিছুটা কমেছে। একই সময়ে রেমিট্যান্স প্রবাহ ভালো থাকায় বাজারে বৈদেশিক মুদ্রার সরবরাহও স্বাভাবিক রয়েছে। ফলে ডলারের চাহিদা ও সরবরাহের মধ্যে ভারসাম্য ফিরতে শুরু করায় দামও কমতির দিকে রয়েছে।

তবে ব্যাংকিং চ্যানেলে ডলারের দাম কমলেও এর প্রভাব এখনো খোলা বাজার বা কার্ব মার্কেটে পড়েনি। রোববার রাজধানীর মতিঝিলের বিভিন্ন মানি এক্সচেঞ্জ ঘুরে দেখা গেছে, সাধারণ গ্রাহকদের কাছ থেকে প্রতি ডলার ১২৬ টাকা ৬০ পয়সা থেকে ১২৬ টাকা ৭০ পয়সায় কিনেছে প্রতিষ্ঠানগুলো। আর বিক্রি করেছে ১২৭ টাকা ২০ পয়সা থেকে ১২৭ টাকা ৩০ পয়সার মধ্যে।

রেমিট্যান্সের এ প্রবাহ বৈদেশিক মুদ্রার বাজারে সরবরাহ বাড়ানোর পাশাপাশি ব্যাংকগুলোর আমদানি দায় পরিশোধের সক্ষমতাও বাড়াচ্ছে। ফলে আমদানিকারকদের ডলার সংগ্রহের চাপ আগের তুলনায় কিছুটা কমেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

ডলারের দাম কমায় বৈদেশিক মুদ্রার বাজারে স্বস্তি

আপডেট সময় ০৭:৪৬:০০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬

ডলারের সরবরাহ স্বাভাবিক থাকায় দেশের বৈদেশিক মুদ্রার বাজারে ধীরে ধীরে স্বস্তি ফিরতে শুরু করেছে। এর প্রভাবে আন্তঃব্যাংক ও বাণিজ্যিক ব্যাংকের বাজারে মার্কিন ডলারের দাম কমেছে। আমদানি ব্যয়ের চাপ কিছুটা কমে আসা এবং প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্স প্রবাহে শক্তিশালী প্রবৃদ্ধিকে এ স্বস্তির প্রধান কারণ হিসেবে দেখছেন খাতসংশ্লিষ্টরা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ১৬ আগস্ট আন্তঃব্যাংক বাজারে প্রতি মার্কিন ডলারের দাম কমে দাঁড়িয়েছে ১২২ টাকা ৬৩ পয়সায়। একই দিনে স্পট মার্কেটে প্রতি ডলার বিক্রি হয়েছে ১২৩ টাকায়। ১৫ দিন আগেও এর দাম ছিল ১২৩ টাকা ৮২ পয়সা।

এদিকে, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের লেনদেন ও ঋণপত্রের (এলসি) দায় পরিশোধে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে প্রতি ডলারের জন্য দিতে হচ্ছে ১২৩ টাকা শূন্য ৫ পয়সা। মাসের শুরুতে এ দর ছিল ১২৩ টাকা ৯৫ পয়সা। অর্থাৎ মাসের ব্যবধানে এ ক্ষেত্রেও ডলারের দাম কমেছে ৯০ পয়সা।

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ ও উত্তেজনার সময় আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় জ্বালানি, সারসহ বিভিন্ন পণ্যের আমদানি ব্যয় বেড়ে গিয়েছিল। এতে দেশে ডলারের চাহিদাও বাড়ে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে বড় ধরনের আমদানি দায় পরিশোধের চাপ কিছুটা কমেছে। একই সময়ে রেমিট্যান্স প্রবাহ ভালো থাকায় বাজারে বৈদেশিক মুদ্রার সরবরাহও স্বাভাবিক রয়েছে। ফলে ডলারের চাহিদা ও সরবরাহের মধ্যে ভারসাম্য ফিরতে শুরু করায় দামও কমতির দিকে রয়েছে।

তবে ব্যাংকিং চ্যানেলে ডলারের দাম কমলেও এর প্রভাব এখনো খোলা বাজার বা কার্ব মার্কেটে পড়েনি। রোববার রাজধানীর মতিঝিলের বিভিন্ন মানি এক্সচেঞ্জ ঘুরে দেখা গেছে, সাধারণ গ্রাহকদের কাছ থেকে প্রতি ডলার ১২৬ টাকা ৬০ পয়সা থেকে ১২৬ টাকা ৭০ পয়সায় কিনেছে প্রতিষ্ঠানগুলো। আর বিক্রি করেছে ১২৭ টাকা ২০ পয়সা থেকে ১২৭ টাকা ৩০ পয়সার মধ্যে।

রেমিট্যান্সের এ প্রবাহ বৈদেশিক মুদ্রার বাজারে সরবরাহ বাড়ানোর পাশাপাশি ব্যাংকগুলোর আমদানি দায় পরিশোধের সক্ষমতাও বাড়াচ্ছে। ফলে আমদানিকারকদের ডলার সংগ্রহের চাপ আগের তুলনায় কিছুটা কমেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।