ঢাকা ১০:১২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গাজীপুরে ৫ বছরের শিশুহত্যা: মহির উদ্দিনের মৃত্যুদণ্ড

নিজস্ব সংবাদ :

গাজীপুরের কালিয়াকৈরে পাঁচ বছরের শিশু মুসা আহম্মেদ রাফিকে হত্যার মামলায় মহির উদ্দিন ওরফে মহরকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

সোমবার গাজীপুরের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ ৪র্থ আদালতের বিচারক আলমগীর আল মামুন এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় মামলার একমাত্র আসামি মহির উদ্দিন আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

মহির উদ্দিন কুড়িগ্রামের রৌমারী থানার কোনাচীপাড়া-চুলীয়াচর এলাকার বাসিন্দা। নিহত শিশু মুসা আহম্মেদ রাফি কালিয়াকৈর পৌরসভার কালামপুর উত্তরপাড়া এলাকার বাসিন্দা।

মামলার নথি ও আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০২৩ সালের ২৬ জুন সকাল ১০টার দিকে বাড়ির সামনে খেলতে গিয়ে নিখোঁজ হয় শিশু মুসা। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন জায়গায় খোঁজ করেও তাকে না পেয়ে পুলিশকে বিষয়টি জানান।

পরে ওই দিন সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে স্থানীয়দের সহায়তায় কালামপুরের সোহাগপল্লীর উত্তর পাশে একটি সীমানাপ্রাচীরের ভেতর থেকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তার গলায় ব্যবহৃত বেল্ট বাঁধা ছিল এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়।

এ ঘটনায় শিশুটির বাবা মো. শামীম মীর বাদী হয়ে ২০২৩ সালের ২৭ জুন কালিয়াকৈর থানায় হত্যা মামলা করেন। তদন্ত শেষে পুলিশ মহির উদ্দিনকে একমাত্র আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে।

মামলার বিচারকাজে রাষ্ট্রপক্ষের নয়জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে আদালত মহির উদ্দিনকে দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ড ও জরিমানার আদেশ দেন। রাষ্ট্রপক্ষে মামলা পরিচালনা করেন অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর আরিফুর রহমান এবং আসামিপক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট তমিজ উদ্দিন।

আদালতের আদেশ অনুযায়ী, উচ্চ আদালতের অনুমোদন না পাওয়া পর্যন্ত মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা যাবে না। পাশাপাশি আসামি আইন অনুযায়ী উচ্চতর আদালতে আপিল করার সুযোগ পাবেন।

প্রায় তিন বছর পর মামলাটির রায় হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন নিহত শিশু মুসার পরিবারের সদস্যরা।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

গাজীপুরে ৫ বছরের শিশুহত্যা: মহির উদ্দিনের মৃত্যুদণ্ড

আপডেট সময় ০২:৩৭:০২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬

গাজীপুরের কালিয়াকৈরে পাঁচ বছরের শিশু মুসা আহম্মেদ রাফিকে হত্যার মামলায় মহির উদ্দিন ওরফে মহরকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

সোমবার গাজীপুরের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ ৪র্থ আদালতের বিচারক আলমগীর আল মামুন এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় মামলার একমাত্র আসামি মহির উদ্দিন আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

মহির উদ্দিন কুড়িগ্রামের রৌমারী থানার কোনাচীপাড়া-চুলীয়াচর এলাকার বাসিন্দা। নিহত শিশু মুসা আহম্মেদ রাফি কালিয়াকৈর পৌরসভার কালামপুর উত্তরপাড়া এলাকার বাসিন্দা।

মামলার নথি ও আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০২৩ সালের ২৬ জুন সকাল ১০টার দিকে বাড়ির সামনে খেলতে গিয়ে নিখোঁজ হয় শিশু মুসা। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন জায়গায় খোঁজ করেও তাকে না পেয়ে পুলিশকে বিষয়টি জানান।

পরে ওই দিন সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে স্থানীয়দের সহায়তায় কালামপুরের সোহাগপল্লীর উত্তর পাশে একটি সীমানাপ্রাচীরের ভেতর থেকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তার গলায় ব্যবহৃত বেল্ট বাঁধা ছিল এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়।

এ ঘটনায় শিশুটির বাবা মো. শামীম মীর বাদী হয়ে ২০২৩ সালের ২৭ জুন কালিয়াকৈর থানায় হত্যা মামলা করেন। তদন্ত শেষে পুলিশ মহির উদ্দিনকে একমাত্র আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে।

মামলার বিচারকাজে রাষ্ট্রপক্ষের নয়জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে আদালত মহির উদ্দিনকে দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ড ও জরিমানার আদেশ দেন। রাষ্ট্রপক্ষে মামলা পরিচালনা করেন অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর আরিফুর রহমান এবং আসামিপক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট তমিজ উদ্দিন।

আদালতের আদেশ অনুযায়ী, উচ্চ আদালতের অনুমোদন না পাওয়া পর্যন্ত মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা যাবে না। পাশাপাশি আসামি আইন অনুযায়ী উচ্চতর আদালতে আপিল করার সুযোগ পাবেন।

প্রায় তিন বছর পর মামলাটির রায় হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন নিহত শিশু মুসার পরিবারের সদস্যরা।