ঢাকা ১২:৩৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কয়েক দিনের ব্যবধানে রিজার্ভে নতুন গতি, বিপিএম-৬ হিসাবেও ৩২ বিলিয়ন ডলার ছাড়াল বাংলাদেশ

নিজস্ব সংবাদ :

দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে টানা ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এক দিনের ব্যবধানে মোট বা গ্রস রিজার্ভ বেড়ে ৩৭ দশমিক ০৬৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে। একই সঙ্গে আইএমএফের আন্তর্জাতিক মানদণ্ড বিপিএম-৬ পদ্ধতিতেও ব্যবহারযোগ্য রিজার্ভ ৩২ বিলিয়ন ডলারের মাইলফলক অতিক্রম করেছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য বলছে, বুধবার (১২ আগস্ট) দেশের গ্রস রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩৭ দশমিক ০৬৬ বিলিয়ন ডলার। এর আগে গত সোমবার (১০ আগস্ট) এই পরিমাণ ছিল ৩৬ দশমিক ৯৬ বিলিয়ন ডলার এবং রোববার (৯ আগস্ট) ছিল ৩৬ দশমিক ৮৬ বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে রিজার্ভে ধারাবাহিক বৃদ্ধি লক্ষ্য করা গেছে।

অন্যদিকে, আইএমএফ স্বীকৃত ব্যালেন্স অব পেমেন্টস অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল ইনভেস্টমেন্ট পজিশন ম্যানুয়াল (বিপিএম-৬) অনুযায়ী দেশের ব্যবহারযোগ্য বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩২ দশমিক ২৬০ বিলিয়ন ডলার। গত সোমবার এই হিসাব অনুযায়ী রিজার্ভ ছিল ৩২ দশমিক ১৫ বিলিয়ন ডলার

অর্থনীতিবিদদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে বাংলাদেশ ব্যাংকের নেওয়া বিভিন্ন নীতিগত পদক্ষেপ ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে। আমদানি ব্যয় নিয়ন্ত্রণ, প্রবাসী আয় প্রবাহ বৃদ্ধি এবং বৈদেশিক লেনদেনে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ রিজার্ভ বৃদ্ধিতে সহায়ক ভূমিকা রাখছে বলে মনে করা হচ্ছে।

বিশ্বব্যাপী কোনো দেশের প্রকৃত বা সহজে ব্যবহারযোগ্য বৈদেশিক মুদ্রার মজুত নির্ধারণে বিপিএম-৬ পদ্ধতিকে সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য আন্তর্জাতিক মানদণ্ড হিসেবে ধরা হয়। এই পদ্ধতিতে এমন সম্পদ বাদ দেওয়া হয়, যা তাৎক্ষণিকভাবে বৈদেশিক লেনদেনে ব্যবহার করা যায় না। ফলে অর্থনীতির বাস্তব সক্ষমতা মূল্যায়নে এই হিসাবকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়।

বাংলাদেশ ব্যাংক বর্তমানে প্রচলিত গ্রস রিজার্ভের পাশাপাশি বিপিএম-৬ ভিত্তিক ব্যবহারযোগ্য রিজার্ভের তথ্যও নিয়মিত প্রকাশ করছে। এতে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার প্রকৃত অবস্থান সম্পর্কে আরও স্বচ্ছ ধারণা পাওয়া যাচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে।

সাম্প্রতিক এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা অব্যাহত থাকলে বৈদেশিক খাতের চাপ কমার পাশাপাশি আমদানি ব্যয় নির্বাহ, বৈদেশিক ঋণ পরিশোধ এবং মুদ্রাবাজারে স্থিতিশীলতা ধরে রাখতে ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

কয়েক দিনের ব্যবধানে রিজার্ভে নতুন গতি, বিপিএম-৬ হিসাবেও ৩২ বিলিয়ন ডলার ছাড়াল বাংলাদেশ

আপডেট সময় ০২:৩০:৪২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬

দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে টানা ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এক দিনের ব্যবধানে মোট বা গ্রস রিজার্ভ বেড়ে ৩৭ দশমিক ০৬৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে। একই সঙ্গে আইএমএফের আন্তর্জাতিক মানদণ্ড বিপিএম-৬ পদ্ধতিতেও ব্যবহারযোগ্য রিজার্ভ ৩২ বিলিয়ন ডলারের মাইলফলক অতিক্রম করেছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য বলছে, বুধবার (১২ আগস্ট) দেশের গ্রস রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩৭ দশমিক ০৬৬ বিলিয়ন ডলার। এর আগে গত সোমবার (১০ আগস্ট) এই পরিমাণ ছিল ৩৬ দশমিক ৯৬ বিলিয়ন ডলার এবং রোববার (৯ আগস্ট) ছিল ৩৬ দশমিক ৮৬ বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে রিজার্ভে ধারাবাহিক বৃদ্ধি লক্ষ্য করা গেছে।

অন্যদিকে, আইএমএফ স্বীকৃত ব্যালেন্স অব পেমেন্টস অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল ইনভেস্টমেন্ট পজিশন ম্যানুয়াল (বিপিএম-৬) অনুযায়ী দেশের ব্যবহারযোগ্য বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩২ দশমিক ২৬০ বিলিয়ন ডলার। গত সোমবার এই হিসাব অনুযায়ী রিজার্ভ ছিল ৩২ দশমিক ১৫ বিলিয়ন ডলার

অর্থনীতিবিদদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে বাংলাদেশ ব্যাংকের নেওয়া বিভিন্ন নীতিগত পদক্ষেপ ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে। আমদানি ব্যয় নিয়ন্ত্রণ, প্রবাসী আয় প্রবাহ বৃদ্ধি এবং বৈদেশিক লেনদেনে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ রিজার্ভ বৃদ্ধিতে সহায়ক ভূমিকা রাখছে বলে মনে করা হচ্ছে।

বিশ্বব্যাপী কোনো দেশের প্রকৃত বা সহজে ব্যবহারযোগ্য বৈদেশিক মুদ্রার মজুত নির্ধারণে বিপিএম-৬ পদ্ধতিকে সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য আন্তর্জাতিক মানদণ্ড হিসেবে ধরা হয়। এই পদ্ধতিতে এমন সম্পদ বাদ দেওয়া হয়, যা তাৎক্ষণিকভাবে বৈদেশিক লেনদেনে ব্যবহার করা যায় না। ফলে অর্থনীতির বাস্তব সক্ষমতা মূল্যায়নে এই হিসাবকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়।

বাংলাদেশ ব্যাংক বর্তমানে প্রচলিত গ্রস রিজার্ভের পাশাপাশি বিপিএম-৬ ভিত্তিক ব্যবহারযোগ্য রিজার্ভের তথ্যও নিয়মিত প্রকাশ করছে। এতে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার প্রকৃত অবস্থান সম্পর্কে আরও স্বচ্ছ ধারণা পাওয়া যাচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে।

সাম্প্রতিক এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা অব্যাহত থাকলে বৈদেশিক খাতের চাপ কমার পাশাপাশি আমদানি ব্যয় নির্বাহ, বৈদেশিক ঋণ পরিশোধ এবং মুদ্রাবাজারে স্থিতিশীলতা ধরে রাখতে ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।