ঢাকা ১২:০০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কক্সবাজারের হোটেল কক্ষে পুলিশ সদস্যের মৃত্যু, পা খাটে—রহস্য ঘিরে তদন্ত

নিজস্ব সংবাদ :

কক্সবাজারের বাস টার্মিনাল এলাকার একটি আবাসিক হোটেলের কক্ষ থেকে আতাউল কবির (৪৪) নামে এক পুলিশ সদস্যের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। শুক্রবার (১৪ আগস্ট) বিকেলে ‘দি গ্র্যান্ড ঢাকা’ হোটেলের ৪০১ নম্বর কক্ষ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তিনি টেকনাফের হোয়াইক্যং হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়িতে কর্মরত ছিলেন।

হোটেল সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার রাত ৯টার দিকে আতাউল কবির হোটেলে ওঠেন। শুক্রবার সকাল ১১টার মধ্যে তার চেকআউট করার কথা ছিল। নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও কক্ষ থেকে কোনো সাড়া না পাওয়ায় হোটেল কর্মীরা তাকে ডাকাডাকি করেন। পরে বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হলে হোটেল কর্তৃপক্ষ পুলিশকে খবর দেয়।

খবর পেয়ে কক্সবাজার সদর থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে কক্ষের দরজা খুলে ভেতরে আতাউল কবিরের মরদেহ দেখতে পায়। পরে তার সঙ্গে থাকা জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য যাচাই করে পুলিশ সদস্য হিসেবে পরিচয় নিশ্চিত করা হয়। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

নিহত আতাউল কবির পিরোজপুরের নেছারাবাদ এলাকার আব্দুল খালেক তালুকদারের ছেলে। হোয়াইক্যং হাইওয়ে থানার ওসি নুরুল আবছার জানান, প্রায় এক বছর ধরে আতাউল ওই ফাঁড়িতে দায়িত্ব পালন করছিলেন। ব্যক্তিগত ও পারিবারিক নানা সমস্যায় তিনি দীর্ঘদিন ধরে মানসিক চাপে ছিলেন বলে জানা গেছে। কয়েক মাস আগে বিষয়টি জানতে পেরে তাকে বোঝানোর চেষ্টা করা হয়েছিল বলেও জানান তিনি।

তবে আতাউল কবিরের মৃত্যুর ঘটনাকে ঘিরে কিছু প্রশ্ন উঠেছে। ঘটনাস্থলের ছবি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা চলছে। বিশেষ করে তার পা খাটের ওপর থাকা অবস্থায় মরদেহ উদ্ধারের বিষয়টি নিয়ে অনেকে মৃত্যুর ধরন নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করছেন। যদিও এ ধরনের দৃশ্য দেখে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না। বিষয়টি ফরেনসিক পরীক্ষা ও ময়নাতদন্তের মাধ্যমে পরিষ্কার হওয়ার কথা।

কক্সবাজার সদর থানার ওসি শেখ মোহাম্মদ আলী বলেন, পরিবারের সদস্যদের খবর দেওয়া হয়েছে। তারা কক্সবাজারের পথে রয়েছেন। ঘটনাটি হত্যা নাকি আত্মহত্যা—তা নিশ্চিত হতে পুলিশ তদন্ত করছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং তদন্তের অন্যান্য তথ্য পাওয়ার পরই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।

পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটিকে গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে এবং মৃত্যুর পেছনে অন্য কোনো কারণ বা কারও সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হবে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

কক্সবাজারের হোটেল কক্ষে পুলিশ সদস্যের মৃত্যু, পা খাটে—রহস্য ঘিরে তদন্ত

আপডেট সময় ০৬:২৮:৩৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬

কক্সবাজারের বাস টার্মিনাল এলাকার একটি আবাসিক হোটেলের কক্ষ থেকে আতাউল কবির (৪৪) নামে এক পুলিশ সদস্যের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। শুক্রবার (১৪ আগস্ট) বিকেলে ‘দি গ্র্যান্ড ঢাকা’ হোটেলের ৪০১ নম্বর কক্ষ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তিনি টেকনাফের হোয়াইক্যং হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়িতে কর্মরত ছিলেন।

হোটেল সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার রাত ৯টার দিকে আতাউল কবির হোটেলে ওঠেন। শুক্রবার সকাল ১১টার মধ্যে তার চেকআউট করার কথা ছিল। নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও কক্ষ থেকে কোনো সাড়া না পাওয়ায় হোটেল কর্মীরা তাকে ডাকাডাকি করেন। পরে বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হলে হোটেল কর্তৃপক্ষ পুলিশকে খবর দেয়।

খবর পেয়ে কক্সবাজার সদর থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে কক্ষের দরজা খুলে ভেতরে আতাউল কবিরের মরদেহ দেখতে পায়। পরে তার সঙ্গে থাকা জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য যাচাই করে পুলিশ সদস্য হিসেবে পরিচয় নিশ্চিত করা হয়। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

নিহত আতাউল কবির পিরোজপুরের নেছারাবাদ এলাকার আব্দুল খালেক তালুকদারের ছেলে। হোয়াইক্যং হাইওয়ে থানার ওসি নুরুল আবছার জানান, প্রায় এক বছর ধরে আতাউল ওই ফাঁড়িতে দায়িত্ব পালন করছিলেন। ব্যক্তিগত ও পারিবারিক নানা সমস্যায় তিনি দীর্ঘদিন ধরে মানসিক চাপে ছিলেন বলে জানা গেছে। কয়েক মাস আগে বিষয়টি জানতে পেরে তাকে বোঝানোর চেষ্টা করা হয়েছিল বলেও জানান তিনি।

তবে আতাউল কবিরের মৃত্যুর ঘটনাকে ঘিরে কিছু প্রশ্ন উঠেছে। ঘটনাস্থলের ছবি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা চলছে। বিশেষ করে তার পা খাটের ওপর থাকা অবস্থায় মরদেহ উদ্ধারের বিষয়টি নিয়ে অনেকে মৃত্যুর ধরন নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করছেন। যদিও এ ধরনের দৃশ্য দেখে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না। বিষয়টি ফরেনসিক পরীক্ষা ও ময়নাতদন্তের মাধ্যমে পরিষ্কার হওয়ার কথা।

কক্সবাজার সদর থানার ওসি শেখ মোহাম্মদ আলী বলেন, পরিবারের সদস্যদের খবর দেওয়া হয়েছে। তারা কক্সবাজারের পথে রয়েছেন। ঘটনাটি হত্যা নাকি আত্মহত্যা—তা নিশ্চিত হতে পুলিশ তদন্ত করছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং তদন্তের অন্যান্য তথ্য পাওয়ার পরই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।

পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটিকে গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে এবং মৃত্যুর পেছনে অন্য কোনো কারণ বা কারও সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হবে।