এসেক্স উপকূলে ব্রিটিশ-বাংলাদেশি পরিবারের ট্র্যাজেডি: আইসিইউতে ছয় দিন লড়াইয়ের পর শিশুর মৃত্যু, প্রাণহানি বেড়ে ৩
যুক্তরাজ্যের এসেক্স উপকূলে গ্রীষ্মকালীন ছুটি কাটাতে গিয়ে ভয়াবহ দুর্ঘটনার মুখোমুখি হয়েছে একটি ব্রিটিশ-বাংলাদেশি পরিবার। সাগরের আকস্মিক ও প্রবল রিপ টাইডের কবলে পড়ে একই পরিবারের তিন সদস্যের মৃত্যু হয়েছে। সর্বশেষ মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) গভীর রাতে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় সাত বছর বয়সী মুসা আহমদ।
পরিবারের স্বজনদের বরাত দিয়ে জানা গেছে, গত ২২ জুলাই ওয়েস্ট মেরসিয়া সৈকতে পরিবারের সদস্যরা সাগরে নামার কিছুক্ষণের মধ্যেই শক্তিশালী স্রোত তাদের ভাসিয়ে নিয়ে যায়। গুরুতর অবস্থায় উদ্ধার করে মুসাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। ছয় দিন আইসিইউতে চিকিৎসাধীন থাকার পর তার মৃত্যু হয়। শিশুটির জানাজার সময় এখনো নির্ধারণ করা হয়নি।
এর আগে একই ঘটনায় প্রাণ হারান ৪১ বছর বয়সী স্কুলশিক্ষিকা শেলিনা রহমান এবং তার ১৫ বছর বয়সী মেয়ে সামিহা রহমান। তারা দুজনই যুক্তরাজ্যে বসবাসকারী ব্রিটিশ-বাংলাদেশি নাগরিক ছিলেন।
মুসার বাবা শাহিন আহমদ জানান, সেদিন পরিবারের ছয় সদস্য—তিনজন প্রাপ্তবয়স্ক ও তিনজন শিশু—সৈকতের কাছে পানিতে নামেন। হঠাৎ তীব্র স্রোত তৈরি হলে মুহূর্তের মধ্যে সবাই নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন। আনন্দঘন পারিবারিক ভ্রমণ অল্প সময়ের মধ্যেই রূপ নেয় হৃদয়বিদারক দুর্ঘটনায়।
ঘটনার পর পরিবারটি উপকূলীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থার ঘাটতির অভিযোগ তুলেছে। শাহিন আহমদের দাবি, এলাকাটি বিপজ্জনক রিপ টাইডের জন্য পরিচিত হলেও পর্যটকদের সতর্ক করার মতো পর্যাপ্ত সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড ছিল না। দুর্ঘটনার সময় ঘটনাস্থলে কোনো কোস্টগার্ড সদস্য উপস্থিত ছিলেন না বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, জরুরি সেবাদানকারী সংস্থা ও এইচএম কোস্টগার্ড ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে প্রায় ২০ মিনিট সময় নেয়। এর আগেই স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা উদ্ধারকাজে ঝাঁপিয়ে পড়েন। বিশেষভাবে স্থানীয় বাসিন্দা ক্রেগ বোয়ের সাহসিকতার কথা উল্লেখ করে পরিবার জানায়, তিনি নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পানিতে নেমে ভেসে যাওয়া সদস্যদের উদ্ধারের চেষ্টা করেছিলেন।
এই মর্মান্তিক ঘটনায় প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটিতে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। একই পরিবারের তিন সদস্যের মৃত্যুতে স্বজন ও পরিচিতজনরা শোকাহত, আর উপকূলীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে স্থানীয় মহলে।


























