এক জালেই ৪৬ মণ ইলিশ, মহিপুরে বিক্রি প্রায় সাড়ে ৪৮ লাখ টাকায়
নিজস্ব প্রতিবেদক
পটুয়াখালীর মৎস্যবন্দর মহিপুরে গভীর সাগর থেকে ধরা পড়া বড় চালানের ইলিশ নিয়ে ফিরেছে একটি মাছধরা ট্রলার। কুয়াকাটা-সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরে ধরা পড়া ৪৬ মণ ইলিশ স্থানীয় আড়তে নিলামে বিক্রি হয়েছে প্রায় ৪৮ লাখ ৫০ হাজার টাকায়, যা সাম্প্রতিক সময়ে জেলেদের জন্য বড় সুখবর হিসেবে দেখা হচ্ছে।
জানা গেছে, ‘এফবি জুনাইদ’ নামের ট্রলারটি পায়রা সমুদ্রবন্দরের শেষ বয়া সংলগ্ন গভীর সমুদ্রে মাছ ধরতে যায়। ট্রলারের মাঝি আলমগীর জানান, বৃহস্পতিবার জাল ফেলার পর একবারেই বিপুল পরিমাণ ইলিশ উঠে আসে। প্রায় ২ হাজার ২০০টি ইলিশ ধরা পড়ে বলে তিনি জানান।
শুক্রবার দুপুরে ট্রলারটি মাছ নিয়ে মহিপুর মৎস্যবন্দরে পৌঁছালে মনোয়ারা ফিশ আড়তে নিলামের আয়োজন করা হয়। সেখানে বড় আকারের ইলিশের দাম ছিল বেশ চড়া।
আড়ত সূত্রে জানা যায়—
- ১ কেজি বা তার বেশি ওজনের ২৪ মণ ইলিশ প্রতি মণ ১ লাখ ১৫ হাজার টাকা দরে বিক্রি হয়ে মোট ২৭ লাখ ৬০ হাজার টাকা আয় হয়।
- ৮০০–৯০০ গ্রাম ওজনের ২২ মণ ইলিশ প্রতি মণ ৯৫ হাজার টাকা দরে বিক্রি হয়ে আসে ২০ লাখ ৯০ হাজার টাকা।
সব মিলিয়ে ৪৬ মণ ইলিশের মোট বিক্রয়মূল্য দাঁড়ায় ৪৮ লাখ ৫০ হাজার টাকা।
ট্রলারের মাঝি আলমগীর বলেন, দীর্ঘদিন ধরে সাগরে মাছ কম পাওয়ায় জেলেরা লোকসানের মুখে ছিলেন। প্রায় পাঁচ বছর পর একসঙ্গে এত বড় পরিমাণ ইলিশ পেয়ে সবাই আনন্দিত।
মনোয়ারা ফিশ আড়তের ব্যবস্থাপক সগির আকন বলেন, এত বড় চালানের ইলিশ একসঙ্গে খুব কমই আসে। বর্তমানে বাজারে ইলিশের চাহিদা ও দাম বেশি থাকায় জেলেরা ভালো মূল্য পেয়েছেন।
এদিকে, ডব্লিউসিএস (WCS) ও ওয়ার্ল্ডফিশের যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত ‘সুস্থ সাগর’ প্রকল্পের গবেষণা সহকারী মো. বখতিয়ার রহমান বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে অধিকাংশ মাছধরা নৌকায় প্রত্যাশিত পরিমাণ ইলিশ মিলছিল না। তাই একটি ট্রলারে একসঙ্গে ৪৬ মণ ইলিশ ধরা পড়া জেলেদের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার করেছে।
তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, একদিনের এই বড় আহরণকে ইলিশের সার্বিক প্রাচুর্যের প্রমাণ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। ধারাবাহিক বৈজ্ঞানিক পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে পরিস্থিতি মূল্যায়ন করা প্রয়োজন। ইলিশের উৎপাদন ধরে রাখতে প্রজনন মৌসুমে মাছ ধরা থেকে বিরত থাকা এবং সংরক্ষণ কার্যক্রম কঠোরভাবে বাস্তবায়ন জরুরি।
কলাপাড়া উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা অপু সাহা বলেন, কিছুদিন আগেও সাগরে ইলিশের সংকট ছিল। এখন জেলেদের জালে ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ ধরা পড়ছে। বৃষ্টিপাত অনুকূলে থাকলে আগামী দিনগুলোতে আরও বেশি ইলিশ পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যা জেলে, আড়তদার ও সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের জন্য ইতিবাচক বার্তা বহন করছে।

























