উন্নয়ন শুধু সড়কে নয়, মানুষের জীবনমানেই আসল পরিবর্তন: বরিশালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান”
নিজস্ব সংবাদ :
উন্নয়নের প্রকৃত অর্থ শুধু সড়ক, সেতু বা ফ্লাইওভার নির্মাণে সীমাবদ্ধ নয়; স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা, শিশু চিকিৎসা, পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা এবং মানুষের সামগ্রিক জীবনমান উন্নয়নই একটি রাষ্ট্রের অগ্রগতির মূল ভিত্তি বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
সোমবার (১৩ জুলাই) বিকেলে বরিশাল শিল্পকলা একাডেমিতে স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের সঙ্গে আয়োজিত সাংগঠনিক সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছরের অব্যবস্থাপনায় দেশের অর্থনীতি, স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও প্রশাসনিক কাঠামো দুর্বল হয়ে পড়েছিল। এমন পরিস্থিতিতে দায়িত্ব গ্রহণের পর সরকার পরিকল্পিতভাবে একের পর এক প্রতিশ্রুত কর্মসূচি বাস্তবায়ন শুরু করেছে।
তিনি বলেন, স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়নে উপজেলা পর্যায়ের ৫১ শয্যার হাসপাতালকে ১০১ শয্যায় উন্নীত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন এলাকায় এক হাজার শিশু হাসপাতাল স্থাপনের পরিকল্পনাও সরকারের রয়েছে। শিক্ষা খাতের সংকট তুলে ধরে তিনি বলেন, দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনার কারণে শিক্ষার মান ও আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার প্রভাব উচ্চশিক্ষিতদের বেকারত্বেও পড়েছে।
সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী জানান, নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড বিতরণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। দায়িত্ব নেওয়ার পর রমজান মাসে নিত্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে সরকার সফল হয়েছিল বলেও দাবি করেন তিনি। তবে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধিতে বাংলাদেশকে অতিরিক্ত প্রায় ২৫ হাজার কোটি টাকা ব্যয় করতে হয়েছে বলে জানান তিনি।
পূর্ববর্তী সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে ব্যয়ের সমালোচনা করে তিনি অভিযোগ করেন, অনেক বড় প্রকল্পে অস্বাভাবিক ব্যয় হয়েছে, যা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। একই সঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, অর্থনীতিবিদ ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্যের প্রকাশিত শ্বেতপত্রে গত ১৭ বছরে বিপুল অর্থ বিদেশে পাচারের তথ্য উঠে এসেছে।
জলাবদ্ধতার প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, শুধু ফ্লাইওভার নির্মাণ করলেই উন্নয়ন নিশ্চিত হয় না। খাল ও ড্রেন রক্ষা এবং আধুনিক পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে না পারলে নগরবাসীকে জলাবদ্ধতার দুর্ভোগ থেকে মুক্তি দেওয়া সম্ভব নয়।
দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি ঐক্য ধরে রাখার আহ্বান জানিয়ে বলেন, দীর্ঘদিনের আন্দোলন-সংগ্রামে যারা দলের পাশে ছিলেন, তাদের মূল্যায়ন করা হবে। একই সঙ্গে দলের ভেতরে অনুপ্রবেশকারীদের ঠেকাতে তৃণমূল নেতাকর্মীদের সতর্ক থাকার নির্দেশ দেন।
স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি জানান, সাংগঠনিক প্রস্তুতি সম্পন্ন হওয়ার পর বর্ষা শেষে নির্বাচন নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তিনি স্থানীয় পর্যায়ে আলোচনা ও সমন্বয়ের মাধ্যমে প্রার্থী নির্ধারণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
আসন্ন হিন্দু সম্প্রদায়ের ধর্মীয় উৎসবকে সামনে রেখে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কোনো ধরনের উসকানি বা অপ্রীতিকর ঘটনা যেন না ঘটে, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।
বক্তব্যের শেষদিকে তিনি বলেন, জনপ্রিয়তার জন্য অবাস্তব প্রতিশ্রুতি দেওয়া হবে না। বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা নিয়েই সরকার এগোবে। ঐক্য, শৃঙ্খলা ও সাংগঠনিক শক্তিকে বিএনপির সবচেয়ে বড় সম্পদ উল্লেখ করে তিনি আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।