ঢাকা ০৩:০৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইউরিক অ্যাসিড বেড়ে গেলে কী খাবেন, কী এড়িয়ে চলবেন? জেনে নিন চিকিৎসকদের পরামর্শ

নিজস্ব সংবাদ :

লাইফস্টাইল ডেস্ক:

বর্তমানে অনেক মানুষের কাছেই পরিচিত একটি স্বাস্থ্যসমস্যার নাম ইউরিক অ্যাসিড বেড়ে যাওয়া। রক্তে ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা বেশি হলে তা শরীরে বিভিন্ন ধরনের জটিলতা তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে জয়েন্টে ব্যথা, ফোলা, গাউট, এমনকি দীর্ঘমেয়াদে কিডনিতেও প্রভাব ফেলতে পারে।

তবে ইউরিক অ্যাসিড নিয়ে সবচেয়ে বড় বিভ্রান্তি হলো—কোন খাবার খাওয়া যাবে আর কোনটি এড়িয়ে চলতে হবে। অনেকেই প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত খাদ্যনিয়ন্ত্রণ করেন, আবার কেউ বিষয়টিকে গুরুত্বই দেন না। বিশেষজ্ঞদের মতে, সঠিক খাদ্যাভ্যাস ও স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনই ইউরিক অ্যাসিড নিয়ন্ত্রণে সবচেয়ে কার্যকর উপায়।

ইউরিক অ্যাসিড কেন বাড়ে?

আমাদের শরীরে পিউরিন (Purine) নামের একটি উপাদান ভেঙে ইউরিক অ্যাসিড তৈরি হয়। সাধারণত কিডনি প্রস্রাবের মাধ্যমে এটি শরীর থেকে বের করে দেয়। কিন্তু ইউরিক অ্যাসিড বেশি তৈরি হলে বা কিডনি ঠিকমতো তা বের করতে না পারলে রক্তে এর মাত্রা বেড়ে যায়।

যেসব খাবার বেশি খাওয়া উচিত

ইউরিক অ্যাসিড নিয়ন্ত্রণে রাখতে খাদ্যতালিকায় রাখতে পারেন—

  • প্রচুর পানি (প্রতিদিন পর্যাপ্ত পরিমাণে)
  • শসা, লাউ, ঝিঙা, করলা, পটলসহ বিভিন্ন শাকসবজি
  • আপেল, কমলা, মাল্টা, পেয়ারা, চেরি ও অন্যান্য তাজা ফল
  • লো-ফ্যাট বা ফ্যাটমুক্ত দুধ ও দই
  • ওটস, লাল চাল, আটার রুটি ও অন্যান্য পূর্ণ শস্যজাতীয় খাবার
  • বাদাম ও বীজজাতীয় খাবার (পরিমিত পরিমাণে)

যেসব খাবার সীমিত বা এড়িয়ে চলা ভালো

বিশেষজ্ঞরা কিছু খাবার কম খাওয়ার পরামর্শ দেন, যেমন—

  • গরু, খাসি ও ভেড়ার অতিরিক্ত লাল মাংস
  • কলিজা, মগজ, কিডনির মতো অঙ্গপ্রত্যঙ্গের মাংস
  • সারডিন, অ্যাঙ্কোভি ও কিছু সামুদ্রিক মাছ
  • অতিরিক্ত চিনি ও ফ্রুক্টোজযুক্ত কোমল পানীয়
  • অতিরিক্ত মদ্যপান, বিশেষ করে বিয়ার
  • অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত (প্রসেসড) খাবার

যা মনে রাখা জরুরি

অনেকেই মনে করেন ডাল, পালং শাক বা ফুলকপি খেলেই ইউরিক অ্যাসিড বেড়ে যায়। তবে বর্তমান গবেষণা বলছে, উদ্ভিজ্জ উৎসের পিউরিন সাধারণত প্রাণিজ উৎসের মতো ঝুঁকি তৈরি করে না। তাই চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া এসব পুষ্টিকর খাবার সম্পূর্ণ বাদ দেওয়ার প্রয়োজন হয় না।

জীবনযাপনে যেসব পরিবর্তন আনবেন

  • ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখুন।
  • প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট হাঁটা বা হালকা ব্যায়াম করুন।
  • পর্যাপ্ত পানি পান করুন।
  • দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকবেন না।
  • পর্যাপ্ত ঘুম নিশ্চিত করুন।

কখন চিকিৎসকের কাছে যাবেন?

যদি হঠাৎ পায়ের বুড়ো আঙুল বা অন্য কোনো জয়েন্টে তীব্র ব্যথা, ফোলা ও লালচে ভাব দেখা দেয়, অথবা ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা বারবার বেশি আসে, তাহলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। নিজে থেকে ওষুধ শুরু বা বন্ধ করা ঠিক নয়।

শেষ কথা

ইউরিক অ্যাসিড বেড়ে গেলেই সব ধরনের প্রোটিন বা পুষ্টিকর খাবার বাদ দেওয়ার প্রয়োজন নেই। বরং সুষম খাদ্য, পর্যাপ্ত পানি পান, নিয়মিত ব্যায়াম এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী জীবনযাপন করলে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ইউরিক অ্যাসিড নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। তাই গুজব বা প্রচলিত ধারণার ওপর নয়, বৈজ্ঞানিক তথ্য ও বিশেষজ্ঞের পরামর্শের ওপরই ভরসা রাখুন।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

ইউরিক অ্যাসিড বেড়ে গেলে কী খাবেন, কী এড়িয়ে চলবেন? জেনে নিন চিকিৎসকদের পরামর্শ

আপডেট সময় ০৩:২৭:২১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬

লাইফস্টাইল ডেস্ক:

বর্তমানে অনেক মানুষের কাছেই পরিচিত একটি স্বাস্থ্যসমস্যার নাম ইউরিক অ্যাসিড বেড়ে যাওয়া। রক্তে ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা বেশি হলে তা শরীরে বিভিন্ন ধরনের জটিলতা তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে জয়েন্টে ব্যথা, ফোলা, গাউট, এমনকি দীর্ঘমেয়াদে কিডনিতেও প্রভাব ফেলতে পারে।

তবে ইউরিক অ্যাসিড নিয়ে সবচেয়ে বড় বিভ্রান্তি হলো—কোন খাবার খাওয়া যাবে আর কোনটি এড়িয়ে চলতে হবে। অনেকেই প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত খাদ্যনিয়ন্ত্রণ করেন, আবার কেউ বিষয়টিকে গুরুত্বই দেন না। বিশেষজ্ঞদের মতে, সঠিক খাদ্যাভ্যাস ও স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনই ইউরিক অ্যাসিড নিয়ন্ত্রণে সবচেয়ে কার্যকর উপায়।

ইউরিক অ্যাসিড কেন বাড়ে?

আমাদের শরীরে পিউরিন (Purine) নামের একটি উপাদান ভেঙে ইউরিক অ্যাসিড তৈরি হয়। সাধারণত কিডনি প্রস্রাবের মাধ্যমে এটি শরীর থেকে বের করে দেয়। কিন্তু ইউরিক অ্যাসিড বেশি তৈরি হলে বা কিডনি ঠিকমতো তা বের করতে না পারলে রক্তে এর মাত্রা বেড়ে যায়।

যেসব খাবার বেশি খাওয়া উচিত

ইউরিক অ্যাসিড নিয়ন্ত্রণে রাখতে খাদ্যতালিকায় রাখতে পারেন—

  • প্রচুর পানি (প্রতিদিন পর্যাপ্ত পরিমাণে)
  • শসা, লাউ, ঝিঙা, করলা, পটলসহ বিভিন্ন শাকসবজি
  • আপেল, কমলা, মাল্টা, পেয়ারা, চেরি ও অন্যান্য তাজা ফল
  • লো-ফ্যাট বা ফ্যাটমুক্ত দুধ ও দই
  • ওটস, লাল চাল, আটার রুটি ও অন্যান্য পূর্ণ শস্যজাতীয় খাবার
  • বাদাম ও বীজজাতীয় খাবার (পরিমিত পরিমাণে)

যেসব খাবার সীমিত বা এড়িয়ে চলা ভালো

বিশেষজ্ঞরা কিছু খাবার কম খাওয়ার পরামর্শ দেন, যেমন—

  • গরু, খাসি ও ভেড়ার অতিরিক্ত লাল মাংস
  • কলিজা, মগজ, কিডনির মতো অঙ্গপ্রত্যঙ্গের মাংস
  • সারডিন, অ্যাঙ্কোভি ও কিছু সামুদ্রিক মাছ
  • অতিরিক্ত চিনি ও ফ্রুক্টোজযুক্ত কোমল পানীয়
  • অতিরিক্ত মদ্যপান, বিশেষ করে বিয়ার
  • অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত (প্রসেসড) খাবার

যা মনে রাখা জরুরি

অনেকেই মনে করেন ডাল, পালং শাক বা ফুলকপি খেলেই ইউরিক অ্যাসিড বেড়ে যায়। তবে বর্তমান গবেষণা বলছে, উদ্ভিজ্জ উৎসের পিউরিন সাধারণত প্রাণিজ উৎসের মতো ঝুঁকি তৈরি করে না। তাই চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া এসব পুষ্টিকর খাবার সম্পূর্ণ বাদ দেওয়ার প্রয়োজন হয় না।

জীবনযাপনে যেসব পরিবর্তন আনবেন

  • ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখুন।
  • প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট হাঁটা বা হালকা ব্যায়াম করুন।
  • পর্যাপ্ত পানি পান করুন।
  • দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকবেন না।
  • পর্যাপ্ত ঘুম নিশ্চিত করুন।

কখন চিকিৎসকের কাছে যাবেন?

যদি হঠাৎ পায়ের বুড়ো আঙুল বা অন্য কোনো জয়েন্টে তীব্র ব্যথা, ফোলা ও লালচে ভাব দেখা দেয়, অথবা ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা বারবার বেশি আসে, তাহলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। নিজে থেকে ওষুধ শুরু বা বন্ধ করা ঠিক নয়।

শেষ কথা

ইউরিক অ্যাসিড বেড়ে গেলেই সব ধরনের প্রোটিন বা পুষ্টিকর খাবার বাদ দেওয়ার প্রয়োজন নেই। বরং সুষম খাদ্য, পর্যাপ্ত পানি পান, নিয়মিত ব্যায়াম এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী জীবনযাপন করলে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ইউরিক অ্যাসিড নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। তাই গুজব বা প্রচলিত ধারণার ওপর নয়, বৈজ্ঞানিক তথ্য ও বিশেষজ্ঞের পরামর্শের ওপরই ভরসা রাখুন।