ঢাকা ০৫:৩১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

‘আমি হেল্পলেস’—ফেসবুক লাইভে কান্নায় ভেঙে পড়লেন জ্যোতিকা জ্যোতি

নিজস্ব সংবাদ :

দীর্ঘদিন অভিনয়ের কাজ না পাওয়া, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ধারাবাহিক ট্রল এবং পেশাগতভাবে একঘরে করে রাখার অভিযোগ তুলে আবেগঘন ফেসবুক লাইভ করেছেন অভিনেত্রী জ্যোতিকা জ্যোতি। সোমবার সন্ধ্যায় নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে লাইভে এসে তিনি বলেন, গত প্রায় দুই বছর ধরে নতুন কোনও অভিনয়ের প্রস্তাব পাচ্ছেন না এবং এতে তিনি মানসিক ও আর্থিক—দুই ধরনের সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন।

লাইভে কান্নাজড়িত কণ্ঠে অভিনেত্রী অভিযোগ করেন, একটি প্রভাবশালী মহল পরিকল্পিতভাবে তাকে কাজের সুযোগ থেকে দূরে সরিয়ে রেখেছে। যদিও তিনি কারও নাম উল্লেখ করেননি, তবে তার ভাষ্য—বিভিন্ন গ্রুপিং ও রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে অনেকেই তাকে নিয়ে কাজ করতে ভয় পান।

তিনি বলেন, ‘আমি হেল্পলেস। আমি আর ঘুরে দাঁড়াতে পারব কি না জানি না।’ একপর্যায়ে হতাশা প্রকাশ করে বলেন, ‘এই বাংলাদেশে জন্ম নিয়েই ভুল করেছি।’

জ্যোতিকা জ্যোতির দাবি, ২০২৪ সালের পর থেকে সামাজিক মাধ্যমে তাকে ঘিরে অপপ্রচার, ব্যক্তিগত আক্রমণ ও কটূক্তি অনেক বেড়ে যায়। পাশাপাশি একাধিক মামলার মুখোমুখি হওয়ার কথাও উল্লেখ করেন তিনি। এসব ঘটনার কারণে দীর্ঘ সময় স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করতেও সমস্যায় পড়তে হয়েছে বলে জানান।

অভিনেত্রীর কথায়, কাজ না থাকায় আর্থিক সংকট দিন দিন তীব্র হয়েছে। কখনও কখনও বাবা-মায়ের কাছ থেকে সহায়তা নিতে হচ্ছে, যা তাকে মানসিকভাবে আরও ভেঙে দিচ্ছে। তিনি বলেন, ‘আমি কারও কাছে গিয়ে কাজ চাইতে পারি না, আপস করেও কাজ করতে পারি না। আমার জীবনটা নরকের মতো হয়ে গেছে।’

লাইভে তিনি বর্তমান সরকারের প্রতিও দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। চলমান পরিস্থিতির একটি স্থায়ী সমাধান চান তিনি, যাতে আবার স্বাভাবিক জীবন ও পেশাগত কর্মকাণ্ডে ফিরতে পারেন।

উল্লেখ্য, জ্যোতিকা জ্যোতির রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে অতীতেও আলোচনা হয়েছে। আওয়ামী লীগ-সমর্থক শিল্পী হিসেবে পরিচিত এই অভিনেত্রী ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিভিন্ন বিতর্ক ও সমালোচনার মুখে পড়েন। একই বছরের সেপ্টেম্বরে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে তার কর্মস্থল ঘিরেও আলোচনা তৈরি হয়েছিল। সে সময়ও তিনি ফেসবুক লাইভে এসে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করেছিলেন।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

‘আমি হেল্পলেস’—ফেসবুক লাইভে কান্নায় ভেঙে পড়লেন জ্যোতিকা জ্যোতি

আপডেট সময় ০৩:১৬:৩৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৪ অগাস্ট ২০২৬

দীর্ঘদিন অভিনয়ের কাজ না পাওয়া, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ধারাবাহিক ট্রল এবং পেশাগতভাবে একঘরে করে রাখার অভিযোগ তুলে আবেগঘন ফেসবুক লাইভ করেছেন অভিনেত্রী জ্যোতিকা জ্যোতি। সোমবার সন্ধ্যায় নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে লাইভে এসে তিনি বলেন, গত প্রায় দুই বছর ধরে নতুন কোনও অভিনয়ের প্রস্তাব পাচ্ছেন না এবং এতে তিনি মানসিক ও আর্থিক—দুই ধরনের সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন।

লাইভে কান্নাজড়িত কণ্ঠে অভিনেত্রী অভিযোগ করেন, একটি প্রভাবশালী মহল পরিকল্পিতভাবে তাকে কাজের সুযোগ থেকে দূরে সরিয়ে রেখেছে। যদিও তিনি কারও নাম উল্লেখ করেননি, তবে তার ভাষ্য—বিভিন্ন গ্রুপিং ও রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে অনেকেই তাকে নিয়ে কাজ করতে ভয় পান।

তিনি বলেন, ‘আমি হেল্পলেস। আমি আর ঘুরে দাঁড়াতে পারব কি না জানি না।’ একপর্যায়ে হতাশা প্রকাশ করে বলেন, ‘এই বাংলাদেশে জন্ম নিয়েই ভুল করেছি।’

জ্যোতিকা জ্যোতির দাবি, ২০২৪ সালের পর থেকে সামাজিক মাধ্যমে তাকে ঘিরে অপপ্রচার, ব্যক্তিগত আক্রমণ ও কটূক্তি অনেক বেড়ে যায়। পাশাপাশি একাধিক মামলার মুখোমুখি হওয়ার কথাও উল্লেখ করেন তিনি। এসব ঘটনার কারণে দীর্ঘ সময় স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করতেও সমস্যায় পড়তে হয়েছে বলে জানান।

অভিনেত্রীর কথায়, কাজ না থাকায় আর্থিক সংকট দিন দিন তীব্র হয়েছে। কখনও কখনও বাবা-মায়ের কাছ থেকে সহায়তা নিতে হচ্ছে, যা তাকে মানসিকভাবে আরও ভেঙে দিচ্ছে। তিনি বলেন, ‘আমি কারও কাছে গিয়ে কাজ চাইতে পারি না, আপস করেও কাজ করতে পারি না। আমার জীবনটা নরকের মতো হয়ে গেছে।’

লাইভে তিনি বর্তমান সরকারের প্রতিও দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। চলমান পরিস্থিতির একটি স্থায়ী সমাধান চান তিনি, যাতে আবার স্বাভাবিক জীবন ও পেশাগত কর্মকাণ্ডে ফিরতে পারেন।

উল্লেখ্য, জ্যোতিকা জ্যোতির রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে অতীতেও আলোচনা হয়েছে। আওয়ামী লীগ-সমর্থক শিল্পী হিসেবে পরিচিত এই অভিনেত্রী ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিভিন্ন বিতর্ক ও সমালোচনার মুখে পড়েন। একই বছরের সেপ্টেম্বরে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে তার কর্মস্থল ঘিরেও আলোচনা তৈরি হয়েছিল। সে সময়ও তিনি ফেসবুক লাইভে এসে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করেছিলেন।