ঢাকা ০৭:৫৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জুয়েলারি দোকানের শাটার ভেঙে স্বর্ণ ব্যবসায়ীর গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার

নিজস্ব সংবাদ :

গাজীপুর মহানগরের ভূষিরমিল এলাকায় একটি জুয়েলারি দোকান থেকে আবুল কালাম আজাদ (৪২) নামে এক স্বর্ণ ব্যবসায়ীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। রোববার বিকেলে সাদিয়া জুয়েলার্সের শাটারের তালা ভেঙে দোকানের ভেতর থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

নিহত আবুল কালাম আজাদ কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলার ভোলাইন গ্রামের নোনা মিয়ার ছেলে। তিনি গাজীপুরের ভূষিরমিল এলাকার আব্দুল গনি রোডে অবস্থিত সাদিয়া জুয়েলার্সের মালিক ছিলেন।

স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, শুক্রবার রাতে প্রতিদিনের মতো দোকানের ভেতরেই ঘুমিয়ে পড়েন আবুল কালাম। সাধারণত পরদিন সকাল ৯টার মধ্যে দোকান খুলে ব্যবসা শুরু করতেন তিনি। কিন্তু রোববার সকাল গড়িয়ে দুপুর হলেও দোকান বন্ধ থাকায় আশপাশের ব্যবসায়ীদের মধ্যে সন্দেহ দেখা দেয়।

পরে নিহতের ভাই মো. কামাল উদ্দিনসহ কয়েকজন দোকানের সামনে গিয়ে দেখেন, শাটারে বাইরে থেকে তালা ঝুলছে। সন্দেহ আরও ঘনীভূত হলে তারা তালা ভেঙে দোকানের ভেতরে প্রবেশ করেন। সেখানে মেঝেতে আবুল কালামের মরদেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়। তাঁর গলা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।

খবর পেয়ে গাছা থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।

ঘটনাস্থলে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি), পিবিআইসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা পরিদর্শন করেন। তাঁরা হত্যাকাণ্ডের সম্ভাব্য কারণ ও ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করতে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করেন।

এদিকে দোকান থেকে স্বর্ণালংকার, নগদ টাকা কিংবা অন্য কোনো মালামাল খোয়া গেছে কি না, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করতে পারেনি পুলিশ।

পিবিআই গাজীপুর জেলা পুলিশ সুপার মো. রকিবুল আক্তার জানান, ঘটনাস্থলে পিবিআইয়ের একটি দল তদন্ত কার্যক্রম চালাচ্ছে। তবে রাত ৯টা পর্যন্ত দোকান থেকে কোনো মালামাল লুট হয়েছে কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

গাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. গোলাম রাব্বানী বলেন, ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। হত্যার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে আইনগত প্রক্রিয়া চলছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, পরিকল্পিতভাবে আবুল কালাম আজাদকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে।

পুলিশ জানিয়েছে, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং তদন্তে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যার প্রকৃত কারণ ও ঘটনার বিস্তারিত চিত্র স্পষ্ট হবে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

জুয়েলারি দোকানের শাটার ভেঙে স্বর্ণ ব্যবসায়ীর গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার

আপডেট সময় ০২:৫৭:৪০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬

গাজীপুর মহানগরের ভূষিরমিল এলাকায় একটি জুয়েলারি দোকান থেকে আবুল কালাম আজাদ (৪২) নামে এক স্বর্ণ ব্যবসায়ীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। রোববার বিকেলে সাদিয়া জুয়েলার্সের শাটারের তালা ভেঙে দোকানের ভেতর থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

নিহত আবুল কালাম আজাদ কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলার ভোলাইন গ্রামের নোনা মিয়ার ছেলে। তিনি গাজীপুরের ভূষিরমিল এলাকার আব্দুল গনি রোডে অবস্থিত সাদিয়া জুয়েলার্সের মালিক ছিলেন।

স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, শুক্রবার রাতে প্রতিদিনের মতো দোকানের ভেতরেই ঘুমিয়ে পড়েন আবুল কালাম। সাধারণত পরদিন সকাল ৯টার মধ্যে দোকান খুলে ব্যবসা শুরু করতেন তিনি। কিন্তু রোববার সকাল গড়িয়ে দুপুর হলেও দোকান বন্ধ থাকায় আশপাশের ব্যবসায়ীদের মধ্যে সন্দেহ দেখা দেয়।

পরে নিহতের ভাই মো. কামাল উদ্দিনসহ কয়েকজন দোকানের সামনে গিয়ে দেখেন, শাটারে বাইরে থেকে তালা ঝুলছে। সন্দেহ আরও ঘনীভূত হলে তারা তালা ভেঙে দোকানের ভেতরে প্রবেশ করেন। সেখানে মেঝেতে আবুল কালামের মরদেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়। তাঁর গলা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।

খবর পেয়ে গাছা থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।

ঘটনাস্থলে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি), পিবিআইসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা পরিদর্শন করেন। তাঁরা হত্যাকাণ্ডের সম্ভাব্য কারণ ও ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করতে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করেন।

এদিকে দোকান থেকে স্বর্ণালংকার, নগদ টাকা কিংবা অন্য কোনো মালামাল খোয়া গেছে কি না, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করতে পারেনি পুলিশ।

পিবিআই গাজীপুর জেলা পুলিশ সুপার মো. রকিবুল আক্তার জানান, ঘটনাস্থলে পিবিআইয়ের একটি দল তদন্ত কার্যক্রম চালাচ্ছে। তবে রাত ৯টা পর্যন্ত দোকান থেকে কোনো মালামাল লুট হয়েছে কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

গাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. গোলাম রাব্বানী বলেন, ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। হত্যার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে আইনগত প্রক্রিয়া চলছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, পরিকল্পিতভাবে আবুল কালাম আজাদকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে।

পুলিশ জানিয়েছে, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং তদন্তে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যার প্রকৃত কারণ ও ঘটনার বিস্তারিত চিত্র স্পষ্ট হবে।