নবম বেতন স্কেলে বড় সুখবর, সর্বোচ্চ ১০০% বাড়ছে সরকারি কর্মচারীদের মূল বেতন
পে-স্কেলের চূড়ান্ত প্রতিবেদনে সচিবদের স্বাক্ষর শেষ
দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর সরকারি কর্মচারীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের পথে আরেক ধাপ এগিয়েছে সরকার। প্রথম থেকে ২০তম গ্রেড পর্যন্ত কর্মচারীদের মূল বেতন সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সুপারিশ চূড়ান্ত করা হয়েছে। দুই ধাপে কার্যকর হওয়ার কথা থাকা এই নতুন কাঠামোর প্রতিবেদনে সচিব কমিটির সব সদস্য ইতোমধ্যে অনুমোদনসূচক স্বাক্ষর করেছেন।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে প্রকাশিত ‘জনগণের সরকারের ১৮০ দিন’ শীর্ষক ই-বুকে নবম জাতীয় বেতন স্কেল নিয়ে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।
নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের প্রস্তুতি হিসেবে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে সরকারি কর্মচারীদের বেতন ও ভাতা খাতে ৮৯ হাজার ৮৩৬ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। পাশাপাশি পেনশন ও গ্র্যাচুইটিসহ সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য মোট বরাদ্দ ধরা হয়েছে ১ লাখ ৪১ হাজার ৪৩৪ কোটি টাকা।
গত ১১ জুন জাতীয় সংসদে বাজেট উপস্থাপনের সময় অর্থমন্ত্রী ঘোষণা দেন, সরকারি কর্মচারীদের জন্য প্রস্তাবিত নতুন বেতন কাঠামো ১ জুলাই থেকে কার্যকর করা হবে। দীর্ঘদিন ধরে একই বেতন কাঠামোর আওতায় থাকা এবং মূল্যস্ফীতির কারণে জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়াকে এই সিদ্ধান্তের অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়।
সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, বাস্তবায়নের প্রথম বছরে মূল বেতন বাড়ানো হবে। পরবর্তী বছর থেকে বাড়িভাড়া, চিকিৎসা ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক ভাতা নতুন কাঠামোর সঙ্গে সমন্বয় করে কার্যকর করার পরিকল্পনা রয়েছে।
নবম জাতীয় বেতন কমিশন গঠনের পেছনে রয়েছে দীর্ঘদিনের অপেক্ষা। অষ্টম জাতীয় বেতন স্কেল চালুর প্রায় এক যুগ পর ২০২৫ সালের জুলাইয়ে সাবেক অর্থসচিব জাকির আহমেদ খানের নেতৃত্বে ২৩ সদস্যের কমিশন গঠন করা হয়। চলতি বছরের জানুয়ারিতে কমিশন তাদের প্রতিবেদন সরকারের কাছে জমা দেয়।
কমিশনের মূল প্রস্তাবে বিদ্যমান ২০টি গ্রেড বহাল রেখে সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন ১০০ থেকে ১৪০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছিল। এতে সর্বনিম্ন মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার প্রস্তাব ছিল।
তবে চূড়ান্ত কাঠামো নির্ধারণে সরকারের উচ্চপর্যায়ের পর্যালোচনার পর মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির নেতৃত্বে গঠিত ১০ সদস্যের কমিটি কাজ শেষ করেছে। কমিটিতে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিবসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের সচিবরা সদস্য হিসেবে ছিলেন।
নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়িত হলে সরকারি কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের আর্থিক চাপ কিছুটা কমবে এবং মূল্যস্ফীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে তাদের জীবনযাত্রার ব্যয় মোকাবিলায় সহায়তা করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

























