ঢাকা ১১:৫৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ভল্টের টাকায় গরুর খামার, ১৪ মাসে উধাও ৪ কোটি ৩৮ লাখ

নিজস্ব সংবাদ :

চট্টগ্রাম নগরীর অগ্রণী ব্যাংক পিএলসির লালদিঘী পূর্ব কর্পোরেট শাখার ভল্ট থেকে ৪ কোটি ৩৮ লাখ টাকা আত্মসাতের ঘটনায় তদন্তে বেরিয়ে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। পুলিশের ভাষ্য, এ ঘটনায় কোনো বাইরের চক্র নয়, ব্যাংকেরই সিনিয়র কর্মকর্তা ও ক্যাশ ইনচার্জ মো. কামরুল হোসেন (৪১) জড়িত। তার সহযোগী হিসেবে ব্যবসায়ী মো. জাফরুল্লাহ তানভীর (২৫) অর্থ সরানো ও বিনিয়োগে সহায়তা করেন বলে তদন্তে উঠে এসেছে।

মামলার পর দুজনকেই গ্রেফতার করেছে পুলিশ। পরে আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দিয়েছেন তারা।

মামলার এজাহার ও তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ২০২৫ সালের ১ জুন থেকে চলতি বছরের ৯ আগস্ট পর্যন্ত প্রায় ১৪ মাস ধরে ধাপে ধাপে ব্যাংকের অর্থ সরানো হয়। টাকা আত্মসাতের ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হতো অভিনব কৌশল।

এক হাজার টাকার নোটের বান্ডিল তৈরির সময় এর ভেতরে ঢুকিয়ে দেওয়া হতো ১০০ টাকা বা তার চেয়ে কম মূল্যমানের নোট। ফলে বাইরে থেকে বান্ডিল স্বাভাবিক মনে হলেও প্রকৃত হিসাবে ঘাটতি থেকে যেত। ভল্টের দায়িত্বে থাকা কামরুল নিজেই অর্থের হিসাব ও সংরক্ষণ করতেন। এ কারণে দীর্ঘ সময় ধরে বড় অঙ্কের এই ঘাটতি ধরা পড়েনি বলে জানিয়েছে পুলিশ।

আত্মসাতের টাকায় গড়ে ওঠে গরুর খামার

তদন্তে আরও জানা গেছে, ব্যাংক থেকে সরানো অর্থের একটি অংশ ব্যবসায়ী তানভীরের মাধ্যমে স্থানান্তর করা হতো। পরে সেই অর্থের একটি অংশ দিয়ে হাটহাজারীর উত্তর বুড়িশ্চর এলাকায় ‘ইশরাত অ্যাগ্রো’ নামে একটি গরুর খামার গড়ে তোলেন কামরুল হোসেন।

খামারটির ব্যবস্থাপনা ও দেখাশোনার দায়িত্বে ছিলেন তানভীর। পুলিশের দাবি, ব্যাংক থেকে আত্মসাৎ করা অর্থের সঙ্গে এই খামারের বিনিয়োগের যোগসূত্র পাওয়া গেছে।

এ ঘটনায় অগ্রণী ব্যাংকের জেনারেল ম্যানেজার মোস্তাক আহমেদ বাদী হয়ে নগরের কোতোয়ালী থানায় মামলা করেন। গ্রেফতারের পর কামরুল ও তানভীরকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

পুলিশ বলছে, প্রাথমিক তদন্তে দীর্ঘ ১৪ মাস ধরে পরিকল্পিতভাবে অর্থ সরানোর প্রমাণ পাওয়া গেছে। আত্মসাৎ করা অর্থ দিয়ে তারা আরও কোনো সম্পদ বা ব্যবসা গড়ে তুলেছেন কি না, পাশাপাশি ব্যাংকের অন্য কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারী এতে জড়িত ছিলেন কি না—সেসব বিষয়ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

ভল্টের টাকায় গরুর খামার, ১৪ মাসে উধাও ৪ কোটি ৩৮ লাখ

আপডেট সময় ০৩:০৩:২৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬

চট্টগ্রাম নগরীর অগ্রণী ব্যাংক পিএলসির লালদিঘী পূর্ব কর্পোরেট শাখার ভল্ট থেকে ৪ কোটি ৩৮ লাখ টাকা আত্মসাতের ঘটনায় তদন্তে বেরিয়ে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। পুলিশের ভাষ্য, এ ঘটনায় কোনো বাইরের চক্র নয়, ব্যাংকেরই সিনিয়র কর্মকর্তা ও ক্যাশ ইনচার্জ মো. কামরুল হোসেন (৪১) জড়িত। তার সহযোগী হিসেবে ব্যবসায়ী মো. জাফরুল্লাহ তানভীর (২৫) অর্থ সরানো ও বিনিয়োগে সহায়তা করেন বলে তদন্তে উঠে এসেছে।

মামলার পর দুজনকেই গ্রেফতার করেছে পুলিশ। পরে আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দিয়েছেন তারা।

মামলার এজাহার ও তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ২০২৫ সালের ১ জুন থেকে চলতি বছরের ৯ আগস্ট পর্যন্ত প্রায় ১৪ মাস ধরে ধাপে ধাপে ব্যাংকের অর্থ সরানো হয়। টাকা আত্মসাতের ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হতো অভিনব কৌশল।

এক হাজার টাকার নোটের বান্ডিল তৈরির সময় এর ভেতরে ঢুকিয়ে দেওয়া হতো ১০০ টাকা বা তার চেয়ে কম মূল্যমানের নোট। ফলে বাইরে থেকে বান্ডিল স্বাভাবিক মনে হলেও প্রকৃত হিসাবে ঘাটতি থেকে যেত। ভল্টের দায়িত্বে থাকা কামরুল নিজেই অর্থের হিসাব ও সংরক্ষণ করতেন। এ কারণে দীর্ঘ সময় ধরে বড় অঙ্কের এই ঘাটতি ধরা পড়েনি বলে জানিয়েছে পুলিশ।

আত্মসাতের টাকায় গড়ে ওঠে গরুর খামার

তদন্তে আরও জানা গেছে, ব্যাংক থেকে সরানো অর্থের একটি অংশ ব্যবসায়ী তানভীরের মাধ্যমে স্থানান্তর করা হতো। পরে সেই অর্থের একটি অংশ দিয়ে হাটহাজারীর উত্তর বুড়িশ্চর এলাকায় ‘ইশরাত অ্যাগ্রো’ নামে একটি গরুর খামার গড়ে তোলেন কামরুল হোসেন।

খামারটির ব্যবস্থাপনা ও দেখাশোনার দায়িত্বে ছিলেন তানভীর। পুলিশের দাবি, ব্যাংক থেকে আত্মসাৎ করা অর্থের সঙ্গে এই খামারের বিনিয়োগের যোগসূত্র পাওয়া গেছে।

এ ঘটনায় অগ্রণী ব্যাংকের জেনারেল ম্যানেজার মোস্তাক আহমেদ বাদী হয়ে নগরের কোতোয়ালী থানায় মামলা করেন। গ্রেফতারের পর কামরুল ও তানভীরকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

পুলিশ বলছে, প্রাথমিক তদন্তে দীর্ঘ ১৪ মাস ধরে পরিকল্পিতভাবে অর্থ সরানোর প্রমাণ পাওয়া গেছে। আত্মসাৎ করা অর্থ দিয়ে তারা আরও কোনো সম্পদ বা ব্যবসা গড়ে তুলেছেন কি না, পাশাপাশি ব্যাংকের অন্য কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারী এতে জড়িত ছিলেন কি না—সেসব বিষয়ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।