ঢাকা ১২:৩৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নবম পে স্কেলে সর্বনিম্ন বেতন কমানোর শঙ্কা, ক্ষোভ সরকারি কর্মচারীদের

নিজস্ব সংবাদ :

নবম জাতীয় পে স্কেলে সর্বনিম্ন বেতন ২০ হাজার টাকার প্রস্তাব আরও কমিয়ে দেওয়ার আশঙ্কায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ সমিতি। সংগঠনটি জানিয়েছে, প্রস্তাবিত বেতন কমানো হলে তা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। বরং বর্তমান বাজার পরিস্থিতি বিবেচনায় সর্বনিম্ন বেতন আরও বাড়ানোর দাবি জানিয়েছে তারা।

শনিবার (১৫ আগস্ট) সংগঠনের সভাপতি আব্দুল মালেক ও মহাসচিব আশিকুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এসব কথা বলা হয়।

সংগঠনের দাবি, বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী নবম পে স্কেলে নিম্ন গ্রেডের সরকারি কর্মচারীদের বেতন ১০০ শতাংশ বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছে। বর্তমান সর্বনিম্ন মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা হলে দ্বিগুণ করে তা ১৬ হাজার ৫০০ টাকা হয়। অথচ সচিব কমিটির সুপারিশে সর্বনিম্ন বেতন ২০ হাজার টাকা নির্ধারণের কথা বলা হয়েছে। সংগঠনটির মতে, দীর্ঘদিন পর পে স্কেল এলেও এই প্রস্তাব কর্মচারীদের প্রত্যাশার তুলনায় যথেষ্ট নয়।

কল্যাণ সমিতি বলছে, অতীতে বিভিন্ন পে স্কেলে ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মীদের বেতন ১৪০ শতাংশ বা তারও বেশি বাড়ানোর নজির রয়েছে। সেই তুলনায় এবার প্রস্তাবিত বেতন বৃদ্ধি নিম্ন গ্রেডের কর্মচারীদের জন্য সন্তোষজনক নয়।

বিবৃতিতে বলা হয়, প্রায় ১১ বছর পর নতুন পে স্কেল বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। ফলে নিম্ন আয়ের সরকারি কর্মচারীদের জীবনযাত্রার ব্যয়ও অনেক বেড়েছে। বর্তমান বাজারদরের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সংসার চালানো তাদের জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে বলে দাবি করেছে সংগঠনটি।

সংগঠনটির ভাষ্য, ২০২০ ও ২০২৫ সালে দুটি পে স্কেল পাওয়ার কথা থাকলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি। জাতীয় বেতন কমিশন-২০২৫-এর সঙ্গে মতবিনিময়ের সময় কর্মচারীদের পক্ষ থেকে দুটি পে স্কেল সমন্বয় করে সর্বনিম্ন বেতন ৩৫ হাজার টাকা করার দাবি জানানো হয়েছিল। তবে সেই দাবির তুলনায় অনেক কমিয়ে ২০ হাজার টাকা প্রস্তাব করা হয়েছে।

অন্যদিকে সর্বোচ্চ বেতন ১ লাখ ৪০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবি থাকলেও তা বাড়িয়ে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়। এতে সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ বেতনের ব্যবধান আরও বাড়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছে সংগঠনটি।

বাংলাদেশ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ সমিতি বলেছে, সর্বনিম্ন ২০ হাজার টাকার প্রস্তাবও যদি কমিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে নতুন পে স্কেলে বেতন বৃদ্ধি ও জীবনযাত্রার ব্যয়ের মধ্যে বড় ধরনের অসামঞ্জস্য তৈরি হবে। এতে নিম্ন গ্রেডের কর্মচারীদের মধ্যে হতাশা ও আর্থিক চাপ আরও বাড়তে পারে।

এ অবস্থায় সচিব কমিটি ও মন্ত্রিসভার অনুমোদনের সময় সর্বনিম্ন ২০ হাজার টাকার প্রস্তাব আরও বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি। একই সঙ্গে বাজারদরের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দ্রুত নবম জাতীয় পে স্কেলের প্রজ্ঞাপন জারির দাবি জানিয়েছে তারা।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

নবম পে স্কেলে সর্বনিম্ন বেতন কমানোর শঙ্কা, ক্ষোভ সরকারি কর্মচারীদের

আপডেট সময় ০২:৪০:২৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬

নবম জাতীয় পে স্কেলে সর্বনিম্ন বেতন ২০ হাজার টাকার প্রস্তাব আরও কমিয়ে দেওয়ার আশঙ্কায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ সমিতি। সংগঠনটি জানিয়েছে, প্রস্তাবিত বেতন কমানো হলে তা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। বরং বর্তমান বাজার পরিস্থিতি বিবেচনায় সর্বনিম্ন বেতন আরও বাড়ানোর দাবি জানিয়েছে তারা।

শনিবার (১৫ আগস্ট) সংগঠনের সভাপতি আব্দুল মালেক ও মহাসচিব আশিকুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এসব কথা বলা হয়।

সংগঠনের দাবি, বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী নবম পে স্কেলে নিম্ন গ্রেডের সরকারি কর্মচারীদের বেতন ১০০ শতাংশ বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছে। বর্তমান সর্বনিম্ন মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা হলে দ্বিগুণ করে তা ১৬ হাজার ৫০০ টাকা হয়। অথচ সচিব কমিটির সুপারিশে সর্বনিম্ন বেতন ২০ হাজার টাকা নির্ধারণের কথা বলা হয়েছে। সংগঠনটির মতে, দীর্ঘদিন পর পে স্কেল এলেও এই প্রস্তাব কর্মচারীদের প্রত্যাশার তুলনায় যথেষ্ট নয়।

কল্যাণ সমিতি বলছে, অতীতে বিভিন্ন পে স্কেলে ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মীদের বেতন ১৪০ শতাংশ বা তারও বেশি বাড়ানোর নজির রয়েছে। সেই তুলনায় এবার প্রস্তাবিত বেতন বৃদ্ধি নিম্ন গ্রেডের কর্মচারীদের জন্য সন্তোষজনক নয়।

বিবৃতিতে বলা হয়, প্রায় ১১ বছর পর নতুন পে স্কেল বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। ফলে নিম্ন আয়ের সরকারি কর্মচারীদের জীবনযাত্রার ব্যয়ও অনেক বেড়েছে। বর্তমান বাজারদরের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সংসার চালানো তাদের জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে বলে দাবি করেছে সংগঠনটি।

সংগঠনটির ভাষ্য, ২০২০ ও ২০২৫ সালে দুটি পে স্কেল পাওয়ার কথা থাকলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি। জাতীয় বেতন কমিশন-২০২৫-এর সঙ্গে মতবিনিময়ের সময় কর্মচারীদের পক্ষ থেকে দুটি পে স্কেল সমন্বয় করে সর্বনিম্ন বেতন ৩৫ হাজার টাকা করার দাবি জানানো হয়েছিল। তবে সেই দাবির তুলনায় অনেক কমিয়ে ২০ হাজার টাকা প্রস্তাব করা হয়েছে।

অন্যদিকে সর্বোচ্চ বেতন ১ লাখ ৪০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবি থাকলেও তা বাড়িয়ে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়। এতে সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ বেতনের ব্যবধান আরও বাড়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছে সংগঠনটি।

বাংলাদেশ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ সমিতি বলেছে, সর্বনিম্ন ২০ হাজার টাকার প্রস্তাবও যদি কমিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে নতুন পে স্কেলে বেতন বৃদ্ধি ও জীবনযাত্রার ব্যয়ের মধ্যে বড় ধরনের অসামঞ্জস্য তৈরি হবে। এতে নিম্ন গ্রেডের কর্মচারীদের মধ্যে হতাশা ও আর্থিক চাপ আরও বাড়তে পারে।

এ অবস্থায় সচিব কমিটি ও মন্ত্রিসভার অনুমোদনের সময় সর্বনিম্ন ২০ হাজার টাকার প্রস্তাব আরও বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি। একই সঙ্গে বাজারদরের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দ্রুত নবম জাতীয় পে স্কেলের প্রজ্ঞাপন জারির দাবি জানিয়েছে তারা।