ঢাকা ১২:৩৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রোমে ছুরিকাঘাতে নিহত একই পরিবারের তিনজনের দাফন ৫০ দিন পর নোয়াখালীতে

নিজস্ব সংবাদ :

ইতালির রাজধানী রোমে ছুরিকাঘাতে নিহত একই পরিবারের তিন সদস্যের মরদেহ দীর্ঘ ৫০ দিন পর নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে।

শুক্রবার সন্ধ্যায় উপজেলার চরকাঁকড়া ইউনিয়নের হৃয়নগর গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে পাশাপাশি কবরে তাদের দাফন করা হয়। এর আগে বিকেলে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে মরদেহগুলো গ্রামের বাড়িতে নেওয়া হয়। সন্ধ্যার পর শিশু নিকেতন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।

নিহতরা হলেন—কামাল উদ্দিন বাবুল (৩৯), তার স্ত্রী আরজু (৩৮) এবং তাদের পাঁচ বছর বয়সী মেয়ে আরিশা।

জানাজার সময় স্বজনদের কান্নায় ভারী হয়ে ওঠে পরিবেশ। নিহত কামালের বাবা সিরাজুল ইসলাম ও তার ১৮ বছর বয়সী ছেলে অয়ন পরিবারের জন্য সবার কাছে দোয়া চান। একই সঙ্গে তারা এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৬ জুন রাত ৯টার দিকে রোমের পশ্চিমাঞ্চলের অরেলিও এলাকার ভিয়া মন্টিগ্লিও সড়কের একটি পার্কসংলগ্ন ফ্ল্যাটে ছুরিকাঘাতে কামাল, তার স্ত্রী ও মেয়েকে হত্যা করা হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করে। ওই ঘটনায় আহত হন তাদের ছেলে অয়ন। পরে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

হত্যাকাণ্ডের তদন্তে সন্দেহভাজন হিসেবে নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জের চরকাঁকড়া ইউনিয়নের বাসিন্দা শাহাদাত হোসেনের ছবি প্রকাশ করে রোমের প্রসিকিউটর কার্যালয়।

কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ নূরুল হাকিম জানান, বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী শাহাদাত হোসেন যুক্তরাজ্য থেকে ইতালিতে গিয়ে এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন বলে জানা গেছে। দেশে থাকাকালে নিহত পরিবারের সঙ্গে তার পরিচয় ও যোগাযোগ ছিল। ইতালিতেও তাদের মধ্যে যোগাযোগ অব্যাহত ছিল। তবে কী কারণে তাদের মধ্যে বিরোধ তৈরি হয়েছিল, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

ওসি আরও জানান, প্রায় দেড় বছর আগে কামাল দেশে ফিরে নিরাপত্তাহীনতার কথা জানালে পুলিশ তার নিরাপত্তার ব্যবস্থা করেছিল। পরে পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিরোধের জেরে হত্যাকাণ্ডটি ঘটেছে বলে তারা জানতে পারেন।

হত্যাকাণ্ডের পর বাবা-মা ও ছোট বোনের মরদেহ খুব কাছ থেকে দেখেছেন অয়ন। স্বজনদের সঙ্গে দেশে ফিরে শেষবারের মতো পরিবারের সদস্যদের জানাজা ও দাফনে অংশ নেন তিনি। পুলিশ জানিয়েছে, নিহত পরিবারের নিরাপত্তার বিষয়টি তারা গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

রোমে ছুরিকাঘাতে নিহত একই পরিবারের তিনজনের দাফন ৫০ দিন পর নোয়াখালীতে

আপডেট সময় ১০:১০:২৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬

ইতালির রাজধানী রোমে ছুরিকাঘাতে নিহত একই পরিবারের তিন সদস্যের মরদেহ দীর্ঘ ৫০ দিন পর নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে।

শুক্রবার সন্ধ্যায় উপজেলার চরকাঁকড়া ইউনিয়নের হৃয়নগর গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে পাশাপাশি কবরে তাদের দাফন করা হয়। এর আগে বিকেলে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে মরদেহগুলো গ্রামের বাড়িতে নেওয়া হয়। সন্ধ্যার পর শিশু নিকেতন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।

নিহতরা হলেন—কামাল উদ্দিন বাবুল (৩৯), তার স্ত্রী আরজু (৩৮) এবং তাদের পাঁচ বছর বয়সী মেয়ে আরিশা।

জানাজার সময় স্বজনদের কান্নায় ভারী হয়ে ওঠে পরিবেশ। নিহত কামালের বাবা সিরাজুল ইসলাম ও তার ১৮ বছর বয়সী ছেলে অয়ন পরিবারের জন্য সবার কাছে দোয়া চান। একই সঙ্গে তারা এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৬ জুন রাত ৯টার দিকে রোমের পশ্চিমাঞ্চলের অরেলিও এলাকার ভিয়া মন্টিগ্লিও সড়কের একটি পার্কসংলগ্ন ফ্ল্যাটে ছুরিকাঘাতে কামাল, তার স্ত্রী ও মেয়েকে হত্যা করা হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করে। ওই ঘটনায় আহত হন তাদের ছেলে অয়ন। পরে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

হত্যাকাণ্ডের তদন্তে সন্দেহভাজন হিসেবে নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জের চরকাঁকড়া ইউনিয়নের বাসিন্দা শাহাদাত হোসেনের ছবি প্রকাশ করে রোমের প্রসিকিউটর কার্যালয়।

কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ নূরুল হাকিম জানান, বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী শাহাদাত হোসেন যুক্তরাজ্য থেকে ইতালিতে গিয়ে এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন বলে জানা গেছে। দেশে থাকাকালে নিহত পরিবারের সঙ্গে তার পরিচয় ও যোগাযোগ ছিল। ইতালিতেও তাদের মধ্যে যোগাযোগ অব্যাহত ছিল। তবে কী কারণে তাদের মধ্যে বিরোধ তৈরি হয়েছিল, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

ওসি আরও জানান, প্রায় দেড় বছর আগে কামাল দেশে ফিরে নিরাপত্তাহীনতার কথা জানালে পুলিশ তার নিরাপত্তার ব্যবস্থা করেছিল। পরে পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিরোধের জেরে হত্যাকাণ্ডটি ঘটেছে বলে তারা জানতে পারেন।

হত্যাকাণ্ডের পর বাবা-মা ও ছোট বোনের মরদেহ খুব কাছ থেকে দেখেছেন অয়ন। স্বজনদের সঙ্গে দেশে ফিরে শেষবারের মতো পরিবারের সদস্যদের জানাজা ও দাফনে অংশ নেন তিনি। পুলিশ জানিয়েছে, নিহত পরিবারের নিরাপত্তার বিষয়টি তারা গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে।