ঢাকা ১২:৩৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিকাশ–ব্র্যাক ব্যাংকের নতুন উদ্যোগ: কাগজপত্র ছাড়াই মিলবে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত ডিজিটাল ঋণ

নিজস্ব সংবাদ :

দেশের ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের অর্থায়ন সহজ করতে যৌথভাবে জামানতবিহীন ডিজিটাল মার্চেন্ট ঋণ চালু করেছে ব্র্যাক ব্যাংক ও বিকাশ। নতুন এ ব্যবস্থায় যোগ্য বিকাশ মার্চেন্টরা কোনো ধরনের কাগজপত্র বা সম্পত্তির জামানত ছাড়াই সরাসরি বিকাশ অ্যাপ থেকে তাৎক্ষণিক ঋণ নিতে পারবেন। সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত এই ঋণ সুবিধা পাওয়া যাবে।

অনানুষ্ঠানিক ব্যবসায়ীদের জন্য বড় সুযোগ

জাতীয় অর্থনৈতিক শুমারি ২০২৪ অনুযায়ী, দেশে প্রায় সোয়া এক কোটি অর্থনৈতিক ইউনিট রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৬৫ শতাংশ প্রতিষ্ঠানের কোনো আনুষ্ঠানিক নিবন্ধন নেই। ফলে বিপুলসংখ্যক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ব্যাংকিং ব্যবস্থার বাইরে থেকে উচ্চ সুদে অনানুষ্ঠানিক উৎস থেকে ঋণ নিতে বাধ্য হন।

যেসব উদ্যোক্তার নিবন্ধন রয়েছে, তাঁদের অনেককেও ব্যাংক ঋণ পেতে নানা জটিলতা, দীর্ঘসূত্রতা ও কাগজপত্রের ঝামেলার মুখে পড়তে হয়। নতুন ডিজিটাল মার্চেন্ট ঋণ সেই বাধাগুলো কমিয়ে দ্রুত অর্থায়নের সুযোগ তৈরি করছে।

কীভাবে পাওয়া যাবে ঋণ

বিকাশ জানিয়েছে, এই সেবায় কোনো দৃশ্যমান সম্পত্তি বন্ধক রাখতে হবে না। মার্চেন্ট অ্যাকাউন্টে নিয়মিত ডিজিটাল লেনদেনের তথ্য বিশ্লেষণ করেই ঋণযোগ্যতা নির্ধারণ করা হবে।

যোগ্য মার্চেন্টরা বিকাশ মার্চেন্ট অ্যাপ থেকেই কয়েকটি ধাপে আবেদন করতে পারবেন। ব্যাংকে যাওয়ার প্রয়োজন হবে না। অ্যাকাউন্টে যত বেশি নিয়মিত গ্রাহক পেমেন্ট গ্রহণ করা হবে, ঋণ পাওয়ার সম্ভাবনাও তত বাড়বে।

ব্যবসার নানা প্রয়োজনে ব্যবহার

এই ঋণের অর্থ পণ্য কেনা, দোকানের স্টক বাড়ানো, মৌসুমি চাহিদা পূরণ, ব্যবসা সম্প্রসারণ বা অন্যান্য চলতি মূলধনের প্রয়োজনে ব্যবহার করা যাবে। ছোট ব্যবসায়ীদের জন্য এটি দ্রুত নগদ সহায়তা হিসেবে কাজ করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

উদ্যোক্তাদের ইতিবাচক অভিজ্ঞতা

সাতক্ষীরার ‘সম্রাট শু’-এর স্বত্বাধিকারী মো. শিহার রায়হান জানান, তিনি সম্প্রতি বিকাশ মার্চেন্ট অ্যাপ থেকে ১০ হাজার টাকা ঋণ পেয়েছেন। তাঁর ভাষ্য, আগে জরুরি টাকার প্রয়োজন হলে আত্মীয়স্বজনের কাছে ধার চাইতে হতো, যা অস্বস্তিকর ছিল। এখন অ্যাপ থেকেই সহজে অর্থ পাওয়া ব্যবসা পরিচালনাকে অনেক স্বস্তিদায়ক করেছে।

কারুপণ্যের উদ্যোক্তা রোকেয়া আকতারও জানিয়েছেন, গ্রাহকদের কাছ থেকে নিয়মিত বিকাশে পেমেন্ট নেওয়ার ফলে তাঁর লেনদেনের তথ্য ভালো হওয়ায় সহজেই মার্চেন্ট ঋণ অনুমোদন পেয়েছেন।

ডিজিটাল লেনদেনই হবে মূল সূচক

বিকাশের চিফ কমার্শিয়াল অফিসার আলী আহম্মেদের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে বিকাশের প্রায় ৮ লাখ মার্চেন্ট রয়েছে। তাঁদের ডিজিটাল লেনদেনের ইতিহাস বিশ্লেষণ করে ঋণযোগ্যতা নির্ধারণ করা হয়। প্রচলিত ব্যাংকিং ব্যবস্থায় স্থাবর সম্পদের গুরুত্ব বেশি থাকলেও এই মডেলে লেনদেনের ধারাবাহিকতাকেই প্রধান সূচক হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের জন্য নতুন দিগন্ত

বিশেষজ্ঞদের মতে, ডিজিটাল লেনদেনভিত্তিক এমন ঋণসেবা ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের আর্থিক অন্তর্ভুক্তি বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বিশেষ করে যেসব ব্যবসায়ী ব্যাংকের আনুষ্ঠানিক কাঠামোর বাইরে রয়েছেন, তাঁদের জন্য এটি দ্রুত ও সহজ অর্থায়নের একটি কার্যকর বিকল্প হয়ে উঠতে পারে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

বিকাশ–ব্র্যাক ব্যাংকের নতুন উদ্যোগ: কাগজপত্র ছাড়াই মিলবে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত ডিজিটাল ঋণ

আপডেট সময় ০৩:২১:৩৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬

দেশের ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের অর্থায়ন সহজ করতে যৌথভাবে জামানতবিহীন ডিজিটাল মার্চেন্ট ঋণ চালু করেছে ব্র্যাক ব্যাংক ও বিকাশ। নতুন এ ব্যবস্থায় যোগ্য বিকাশ মার্চেন্টরা কোনো ধরনের কাগজপত্র বা সম্পত্তির জামানত ছাড়াই সরাসরি বিকাশ অ্যাপ থেকে তাৎক্ষণিক ঋণ নিতে পারবেন। সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত এই ঋণ সুবিধা পাওয়া যাবে।

অনানুষ্ঠানিক ব্যবসায়ীদের জন্য বড় সুযোগ

জাতীয় অর্থনৈতিক শুমারি ২০২৪ অনুযায়ী, দেশে প্রায় সোয়া এক কোটি অর্থনৈতিক ইউনিট রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৬৫ শতাংশ প্রতিষ্ঠানের কোনো আনুষ্ঠানিক নিবন্ধন নেই। ফলে বিপুলসংখ্যক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ব্যাংকিং ব্যবস্থার বাইরে থেকে উচ্চ সুদে অনানুষ্ঠানিক উৎস থেকে ঋণ নিতে বাধ্য হন।

যেসব উদ্যোক্তার নিবন্ধন রয়েছে, তাঁদের অনেককেও ব্যাংক ঋণ পেতে নানা জটিলতা, দীর্ঘসূত্রতা ও কাগজপত্রের ঝামেলার মুখে পড়তে হয়। নতুন ডিজিটাল মার্চেন্ট ঋণ সেই বাধাগুলো কমিয়ে দ্রুত অর্থায়নের সুযোগ তৈরি করছে।

কীভাবে পাওয়া যাবে ঋণ

বিকাশ জানিয়েছে, এই সেবায় কোনো দৃশ্যমান সম্পত্তি বন্ধক রাখতে হবে না। মার্চেন্ট অ্যাকাউন্টে নিয়মিত ডিজিটাল লেনদেনের তথ্য বিশ্লেষণ করেই ঋণযোগ্যতা নির্ধারণ করা হবে।

যোগ্য মার্চেন্টরা বিকাশ মার্চেন্ট অ্যাপ থেকেই কয়েকটি ধাপে আবেদন করতে পারবেন। ব্যাংকে যাওয়ার প্রয়োজন হবে না। অ্যাকাউন্টে যত বেশি নিয়মিত গ্রাহক পেমেন্ট গ্রহণ করা হবে, ঋণ পাওয়ার সম্ভাবনাও তত বাড়বে।

ব্যবসার নানা প্রয়োজনে ব্যবহার

এই ঋণের অর্থ পণ্য কেনা, দোকানের স্টক বাড়ানো, মৌসুমি চাহিদা পূরণ, ব্যবসা সম্প্রসারণ বা অন্যান্য চলতি মূলধনের প্রয়োজনে ব্যবহার করা যাবে। ছোট ব্যবসায়ীদের জন্য এটি দ্রুত নগদ সহায়তা হিসেবে কাজ করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

উদ্যোক্তাদের ইতিবাচক অভিজ্ঞতা

সাতক্ষীরার ‘সম্রাট শু’-এর স্বত্বাধিকারী মো. শিহার রায়হান জানান, তিনি সম্প্রতি বিকাশ মার্চেন্ট অ্যাপ থেকে ১০ হাজার টাকা ঋণ পেয়েছেন। তাঁর ভাষ্য, আগে জরুরি টাকার প্রয়োজন হলে আত্মীয়স্বজনের কাছে ধার চাইতে হতো, যা অস্বস্তিকর ছিল। এখন অ্যাপ থেকেই সহজে অর্থ পাওয়া ব্যবসা পরিচালনাকে অনেক স্বস্তিদায়ক করেছে।

কারুপণ্যের উদ্যোক্তা রোকেয়া আকতারও জানিয়েছেন, গ্রাহকদের কাছ থেকে নিয়মিত বিকাশে পেমেন্ট নেওয়ার ফলে তাঁর লেনদেনের তথ্য ভালো হওয়ায় সহজেই মার্চেন্ট ঋণ অনুমোদন পেয়েছেন।

ডিজিটাল লেনদেনই হবে মূল সূচক

বিকাশের চিফ কমার্শিয়াল অফিসার আলী আহম্মেদের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে বিকাশের প্রায় ৮ লাখ মার্চেন্ট রয়েছে। তাঁদের ডিজিটাল লেনদেনের ইতিহাস বিশ্লেষণ করে ঋণযোগ্যতা নির্ধারণ করা হয়। প্রচলিত ব্যাংকিং ব্যবস্থায় স্থাবর সম্পদের গুরুত্ব বেশি থাকলেও এই মডেলে লেনদেনের ধারাবাহিকতাকেই প্রধান সূচক হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের জন্য নতুন দিগন্ত

বিশেষজ্ঞদের মতে, ডিজিটাল লেনদেনভিত্তিক এমন ঋণসেবা ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের আর্থিক অন্তর্ভুক্তি বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বিশেষ করে যেসব ব্যবসায়ী ব্যাংকের আনুষ্ঠানিক কাঠামোর বাইরে রয়েছেন, তাঁদের জন্য এটি দ্রুত ও সহজ অর্থায়নের একটি কার্যকর বিকল্প হয়ে উঠতে পারে।