ঢাকা ১২:৩৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রাজধানীর সিএনজি স্টেশনগুলোতে স্বস্তি ফিরছে, কমেছে দীর্ঘ লাইনের ভোগান্তি

নিজস্ব সংবাদ :

কয়েক দিন ধরে চলা গ্যাস সংকটের পর রাজধানীর সিএনজি স্টেশনগুলোতে স্বস্তির চিত্র দেখা যাচ্ছে। শনিবার সকাল থেকে ঢাকার অধিকাংশ স্টেশনে স্বাভাবিক চাপেই গ্যাস সরবরাহ শুরু হওয়ায় চালক ও সাধারণ গ্রাহকদের ভোগান্তি অনেকটাই কমেছে।

রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার সিএনজি স্টেশন ঘুরে জানা গেছে, আগের মতো দীর্ঘ সারি বা ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষার পরিস্থিতি এখন আর নেই। তেজগাঁওয়ের একটি সিএনজি স্টেশনের কর্মী জানান, শনিবার সকাল থেকেই গ্যাসের চাপ স্বাভাবিক রয়েছে এবং গ্রাহকদের নির্বিঘ্নে সেবা দেওয়া যাচ্ছে। আগের তুলনায় লাইনের চাপও অনেক কম।

একই ধরনের তথ্য পাওয়া গেছে মেরুল বাড্ডা এলাকার একটি স্টেশন থেকেও। সেখানে দায়িত্বে থাকা এক কর্মী বলেন, গত কয়েক দিন গ্যাসের স্বল্পতার কারণে স্টেশন বন্ধ রাখতে হয়েছিল। তবে শনিবার থেকে আবার পূর্ণ কার্যক্রম চালু করা হয়েছে। বর্তমানে সিএনজি অটোরিকশা ও ব্যক্তিগত গাড়ি—উভয় ধরনের যানবাহনই স্বাভাবিকভাবে গ্যাস নিতে পারছে।

গাড়িচালকদের মধ্যেও স্বস্তি ফিরে এসেছে। এক প্রাইভেটকার চালক বলেন, সকালে গ্যাস নিতে এসে কোনও ধরনের সমস্যায় পড়তে হয়নি। গ্যাসের চাপ ভালো থাকায় অল্প সময়েই কাজ শেষ হয়েছে।

সিএনজি অটোরিকশাচালকদের অভিজ্ঞতাও একই রকম। একজন চালক জানান, কয়েক দিন আগে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও খুব অল্প পরিমাণ গ্যাস পাওয়া যেত। কিন্তু শনিবার তিনি স্বাভাবিকভাবে পর্যাপ্ত গ্যাস নিতে পেরেছেন। তাঁর ভাষায়, সরবরাহ এমন থাকলে চালকদের কাজ অনেক সহজ হবে।

কী কারণে হয়েছিল সংকট

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, মহেশখালীর এলএনজি টার্মিনালে রক্ষণাবেক্ষণ কাজ চলার কারণে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস খালাসে বিলম্ব হয়। এর প্রভাব পড়ে জাতীয় গ্যাস গ্রিডে, ফলে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ কমে যায়।

এই সংকটের প্রভাব শুধু সিএনজি স্টেশনেই সীমাবদ্ধ ছিল না; আবাসিক গ্রাহক ও শিল্প খাতও এর কারণে সমস্যায় পড়ে। অনেক স্টেশনে সীমিত পরিমাণে গ্যাস বিক্রি করা হয়, আবার কোথাও সাময়িকভাবে কার্যক্রম বন্ধ রাখতে হয়েছিল।

ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হচ্ছে পরিস্থিতি

সরকারি সূত্র থেকে আগে থেকেই ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছিল যে কয়েক দিনের মধ্যেই গ্যাস পরিস্থিতির উন্নতি হবে। শনিবার রাজধানীর বিভিন্ন স্টেশনে সরবরাহ ও চাপ স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসায় সেই আশার বাস্তব প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সরবরাহের এই ধারা বজায় থাকলে রাজধানীতে সিএনজি চালক ও সাধারণ যানবাহন ব্যবহারকারীদের ভোগান্তি দ্রুতই পুরোপুরি কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

রাজধানীর সিএনজি স্টেশনগুলোতে স্বস্তি ফিরছে, কমেছে দীর্ঘ লাইনের ভোগান্তি

আপডেট সময় ০৩:১২:৩৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৯ অগাস্ট ২০২৬

কয়েক দিন ধরে চলা গ্যাস সংকটের পর রাজধানীর সিএনজি স্টেশনগুলোতে স্বস্তির চিত্র দেখা যাচ্ছে। শনিবার সকাল থেকে ঢাকার অধিকাংশ স্টেশনে স্বাভাবিক চাপেই গ্যাস সরবরাহ শুরু হওয়ায় চালক ও সাধারণ গ্রাহকদের ভোগান্তি অনেকটাই কমেছে।

রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার সিএনজি স্টেশন ঘুরে জানা গেছে, আগের মতো দীর্ঘ সারি বা ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষার পরিস্থিতি এখন আর নেই। তেজগাঁওয়ের একটি সিএনজি স্টেশনের কর্মী জানান, শনিবার সকাল থেকেই গ্যাসের চাপ স্বাভাবিক রয়েছে এবং গ্রাহকদের নির্বিঘ্নে সেবা দেওয়া যাচ্ছে। আগের তুলনায় লাইনের চাপও অনেক কম।

একই ধরনের তথ্য পাওয়া গেছে মেরুল বাড্ডা এলাকার একটি স্টেশন থেকেও। সেখানে দায়িত্বে থাকা এক কর্মী বলেন, গত কয়েক দিন গ্যাসের স্বল্পতার কারণে স্টেশন বন্ধ রাখতে হয়েছিল। তবে শনিবার থেকে আবার পূর্ণ কার্যক্রম চালু করা হয়েছে। বর্তমানে সিএনজি অটোরিকশা ও ব্যক্তিগত গাড়ি—উভয় ধরনের যানবাহনই স্বাভাবিকভাবে গ্যাস নিতে পারছে।

গাড়িচালকদের মধ্যেও স্বস্তি ফিরে এসেছে। এক প্রাইভেটকার চালক বলেন, সকালে গ্যাস নিতে এসে কোনও ধরনের সমস্যায় পড়তে হয়নি। গ্যাসের চাপ ভালো থাকায় অল্প সময়েই কাজ শেষ হয়েছে।

সিএনজি অটোরিকশাচালকদের অভিজ্ঞতাও একই রকম। একজন চালক জানান, কয়েক দিন আগে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও খুব অল্প পরিমাণ গ্যাস পাওয়া যেত। কিন্তু শনিবার তিনি স্বাভাবিকভাবে পর্যাপ্ত গ্যাস নিতে পেরেছেন। তাঁর ভাষায়, সরবরাহ এমন থাকলে চালকদের কাজ অনেক সহজ হবে।

কী কারণে হয়েছিল সংকট

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, মহেশখালীর এলএনজি টার্মিনালে রক্ষণাবেক্ষণ কাজ চলার কারণে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস খালাসে বিলম্ব হয়। এর প্রভাব পড়ে জাতীয় গ্যাস গ্রিডে, ফলে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ কমে যায়।

এই সংকটের প্রভাব শুধু সিএনজি স্টেশনেই সীমাবদ্ধ ছিল না; আবাসিক গ্রাহক ও শিল্প খাতও এর কারণে সমস্যায় পড়ে। অনেক স্টেশনে সীমিত পরিমাণে গ্যাস বিক্রি করা হয়, আবার কোথাও সাময়িকভাবে কার্যক্রম বন্ধ রাখতে হয়েছিল।

ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হচ্ছে পরিস্থিতি

সরকারি সূত্র থেকে আগে থেকেই ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছিল যে কয়েক দিনের মধ্যেই গ্যাস পরিস্থিতির উন্নতি হবে। শনিবার রাজধানীর বিভিন্ন স্টেশনে সরবরাহ ও চাপ স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসায় সেই আশার বাস্তব প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সরবরাহের এই ধারা বজায় থাকলে রাজধানীতে সিএনজি চালক ও সাধারণ যানবাহন ব্যবহারকারীদের ভোগান্তি দ্রুতই পুরোপুরি কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে।