ঢাকা ১০:১৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হৃদয়ের ৮ বলে ৩১ রানের ঝড়ে জাফনার ২০০+, এলপিএলে রোমাঞ্চকর জয়

নিজস্ব সংবাদ :

লঙ্কা প্রিমিয়ার লিগে (এলপিএল) মাত্র ৮ বল খেলেই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিলেন বাংলাদেশের ব্যাটার তাওহীদ হৃদয়। ইনিংসের একেবারে শেষ দিকে নেমে চারটি ছক্কা ও একটি চারে অপরাজিত ৩১ রান করেন তিনি। তার বিস্ফোরক ব্যাটিংয়ে ২০২ রানের বড় সংগ্রহ গড়ে শেষ পর্যন্ত ১৯ রানের জয় পেয়েছে জাফনা কিংস।

মঙ্গলবার কলম্বো ক্যাপসের বিপক্ষে শুরুতে ধাক্কা খায় জাফনা। ওপেনার আভিষ্কা ফার্নান্দো ৭ বলে মাত্র ২ রান করে ফিরে যান। এরপর কামিল মিশারা ও ইব্রাহিম জাদরান মিলে দলকে টেনে তোলেন। মিশারা মাত্র ১৯ বলে ৪৪ রানের ঝড়ো ইনিংস খেললেও জাদরান ছিলেন তুলনামূলক ধীরগতির।

মাঝের ওভারগুলোতে রান তোলার গতি কমে গেলে জাফনা চাপে পড়ে। দুনিথ ভেল্লালাগে ১৯ বলে ১৭ রান করে আউট হন, এরপর দ্রুত ফিরে যান ভানুকা রাজাপাকসেও। সেই পরিস্থিতিতে ছয় নম্বরে ব্যাট করতে নামেন হৃদয়।

প্রথম বলেই সিঙ্গেল নেওয়ার পর ইনিংসের শেষ ওভারে শুরু হয় তার আসল তাণ্ডব। শাহনেওয়াজ দাহানির করা ওভারের প্রথম তিন বলেই টানা তিন ছক্কা হাঁকান তিনি। পরে একটি জীবন পেয়ে আরও একটি ছক্কা ও শেষ বলে চার মারেন। হৃদয়ের এই ঝড়ো সমাপ্তিতেই জাফনার স্কোর দুইশ পেরিয়ে যায়।

ইব্রাহিম জাদরান ৬৫ বলে ৯৫ রানের ইনিংস খেললেও শেষ দিকে তার ধীরগতির ব্যাটিং নিয়ে আলোচনা ছিল। তবে হৃদয়ের ঝড়ো ক্যামিও সেই আক্ষেপ মুছে দেয়।

জবাবে ব্যাট করতে নেমে শুরু থেকেই চাপে পড়ে কলম্বো ক্যাপস। দলটির হয়ে সর্বোচ্চ ৪৪ রান করেন সাদিরা সামারাবিক্রমা। তবে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারিয়ে তারা ৯ উইকেটে ১৮৩ রানেই থেমে যায়।

জাফনার হয়ে বল হাতে সবচেয়ে সফল ছিলেন দিলশান মাদুশঙ্কা। তিনি ৪ ওভারে ৩০ রান দিয়ে ৩ উইকেট নেন। বাংলাদেশের সাকিব আল হাসানকে ব্যাট করতে নামতে হয়নি; বল হাতে ৩ ওভারে ২৭ রান দিলেও কোনো উইকেট পাননি।

এই জয়ে জাফনা কিংস পয়েন্ট তালিকার দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে, আর ম্যাচসেরা আলোচনায় জায়গা করে নিয়েছেন তাওহীদ হৃদয়—মাত্র ৮ বলের এক বিধ্বংসী ইনিংস খেলেই।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

হৃদয়ের ৮ বলে ৩১ রানের ঝড়ে জাফনার ২০০+, এলপিএলে রোমাঞ্চকর জয়

আপডেট সময় ০২:৩৭:১৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬

লঙ্কা প্রিমিয়ার লিগে (এলপিএল) মাত্র ৮ বল খেলেই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিলেন বাংলাদেশের ব্যাটার তাওহীদ হৃদয়। ইনিংসের একেবারে শেষ দিকে নেমে চারটি ছক্কা ও একটি চারে অপরাজিত ৩১ রান করেন তিনি। তার বিস্ফোরক ব্যাটিংয়ে ২০২ রানের বড় সংগ্রহ গড়ে শেষ পর্যন্ত ১৯ রানের জয় পেয়েছে জাফনা কিংস।

মঙ্গলবার কলম্বো ক্যাপসের বিপক্ষে শুরুতে ধাক্কা খায় জাফনা। ওপেনার আভিষ্কা ফার্নান্দো ৭ বলে মাত্র ২ রান করে ফিরে যান। এরপর কামিল মিশারা ও ইব্রাহিম জাদরান মিলে দলকে টেনে তোলেন। মিশারা মাত্র ১৯ বলে ৪৪ রানের ঝড়ো ইনিংস খেললেও জাদরান ছিলেন তুলনামূলক ধীরগতির।

মাঝের ওভারগুলোতে রান তোলার গতি কমে গেলে জাফনা চাপে পড়ে। দুনিথ ভেল্লালাগে ১৯ বলে ১৭ রান করে আউট হন, এরপর দ্রুত ফিরে যান ভানুকা রাজাপাকসেও। সেই পরিস্থিতিতে ছয় নম্বরে ব্যাট করতে নামেন হৃদয়।

প্রথম বলেই সিঙ্গেল নেওয়ার পর ইনিংসের শেষ ওভারে শুরু হয় তার আসল তাণ্ডব। শাহনেওয়াজ দাহানির করা ওভারের প্রথম তিন বলেই টানা তিন ছক্কা হাঁকান তিনি। পরে একটি জীবন পেয়ে আরও একটি ছক্কা ও শেষ বলে চার মারেন। হৃদয়ের এই ঝড়ো সমাপ্তিতেই জাফনার স্কোর দুইশ পেরিয়ে যায়।

ইব্রাহিম জাদরান ৬৫ বলে ৯৫ রানের ইনিংস খেললেও শেষ দিকে তার ধীরগতির ব্যাটিং নিয়ে আলোচনা ছিল। তবে হৃদয়ের ঝড়ো ক্যামিও সেই আক্ষেপ মুছে দেয়।

জবাবে ব্যাট করতে নেমে শুরু থেকেই চাপে পড়ে কলম্বো ক্যাপস। দলটির হয়ে সর্বোচ্চ ৪৪ রান করেন সাদিরা সামারাবিক্রমা। তবে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারিয়ে তারা ৯ উইকেটে ১৮৩ রানেই থেমে যায়।

জাফনার হয়ে বল হাতে সবচেয়ে সফল ছিলেন দিলশান মাদুশঙ্কা। তিনি ৪ ওভারে ৩০ রান দিয়ে ৩ উইকেট নেন। বাংলাদেশের সাকিব আল হাসানকে ব্যাট করতে নামতে হয়নি; বল হাতে ৩ ওভারে ২৭ রান দিলেও কোনো উইকেট পাননি।

এই জয়ে জাফনা কিংস পয়েন্ট তালিকার দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে, আর ম্যাচসেরা আলোচনায় জায়গা করে নিয়েছেন তাওহীদ হৃদয়—মাত্র ৮ বলের এক বিধ্বংসী ইনিংস খেলেই।