ঢাকা ০২:১১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কোচদের বেতনের রাজা এখন ইনজাগি! মরিনহো-সিমিওনে-আর্তেতাকেও ছাড়িয়ে শীর্ষে সৌদি ক্লাবের ইতালিয়ান গুরু

নিজস্ব সংবাদ :

ফুটবল মাঠে শুধু তারকা খেলোয়াড়রাই নন, আধুনিক ফুটবলে কোচরাও এখন ক্লাবগুলোর সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ। সাফল্য, শিরোপা এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার দায়িত্ব কাঁধে নিয়ে বিশ্বের শীর্ষ কোচরা পাচ্ছেন রেকর্ড পরিমাণ পারিশ্রমিক। ২০২৬ সালের সর্বোচ্চ বেতনপ্রাপ্ত ফুটবল কোচদের তালিকায় দেখা গেছে বেশ কিছু চমক, যেখানে অভিজ্ঞদের টপকে শীর্ষস্থান দখল করেছেন সৌদি আরবের আলহিলালের প্রধান কোচ সিমোন ইনজাগি।

১০. ম্যাথিয়াস ইয়াইসলে (আলআহলি) – বছরে . মিলিয়ন পাউন্ড

মাত্র ৩৮ বছর বয়সেই বিশ্বের সর্বোচ্চ বেতনপ্রাপ্ত কোচদের তালিকায় জায়গা করে নিয়েছেন জার্মান কোচ ম্যাথিয়াস ইয়াইসলে। রেড বুল সলজবুর্গে সফল অধ্যায় শেষে ২০২৩ সালে সৌদি ক্লাব আলআহলির দায়িত্ব নেন তিনি। তার অধীনে ক্লাবটি এএফসি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ এলিটে ধারাবাহিক সাফল্য পেয়েছে।

. লুসিয়ানো স্পালেত্তি (জুভেন্টাস) – বছরে . মিলিয়ন পাউন্ড

জুভেন্টাসের হারানো গৌরব ফিরিয়ে আনতে বড় দায়িত্ব কাঁধে নিয়েছেন ইতালিয়ান অভিজ্ঞ কোচ লুসিয়ানো স্পালেত্তি। হতাশাজনক মৌসুমের পর ক্লাবের নতুন পরিকল্পনার কেন্দ্রবিন্দু এখন তিনিই।

. আন্দোনি ইরাওলা (লিভারপুল) – বছরে ১০. মিলিয়ন পাউন্ড

বোর্নমাউথে নজরকাড়া সাফল্যের পুরস্কার হিসেবে লিভারপুলের ডাগআউটে সুযোগ পান স্প্যানিশ কোচ আন্দোনি ইরাওলা। নতুন দায়িত্বের সঙ্গে বেড়েছে তার পারিশ্রমিকও।

. লুইস এনরিকে (পিএসজি) – বছরে ১০. মিলিয়ন পাউন্ড

ফরাসি ক্লাব পিএসজিকে ইউরোপের অন্যতম শক্তিশালী দলে পরিণত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন লুইস এনরিকে। ধারাবাহিক সাফল্যের সুবাদে তার বেতনও এখন বিশ্বের সেরাদের কাতারে।

. হোসে মরিনহো (রিয়াল মাদ্রিদ) – বছরে ১০. মিলিয়ন পাউন্ড

বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম আলোচিত কোচ হোসে মরিনহো আবারও রিয়াল মাদ্রিদের দায়িত্বে। বিশাল প্রত্যাশার পাশাপাশি তিনি পাচ্ছেন মোটা অঙ্কের বার্ষিক পারিশ্রমিক।

. জাবি আলোনসো (চেলসি) – বছরে ১১. মিলিয়ন পাউন্ড

চেলসির নতুন প্রকল্পের নেতৃত্বে আছেন জাবি আলোনসো। দল গঠনে বড় বিনিয়োগের পর সেই আস্থার প্রতিদান দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছেন সাবেক স্প্যানিশ মিডফিল্ডার।

. অলিভার গ্লাসনার (নটিংহাম ফরেস্ট) – বছরে ১৩ মিলিয়ন পাউন্ড

ক্রিস্টাল প্যালেসে সাফল্যের পর একাধিক বড় ক্লাবের আগ্রহ থাকলেও নটিংহাম ফরেস্টে যোগ দেন অলিভার গ্লাসনার। আকর্ষণীয় বেতনের প্রস্তাব তার সিদ্ধান্তে বড় ভূমিকা রেখেছে বলে মনে করা হয়।

. মিকেল আর্তেতা (আর্সেনাল) – বছরে ১৫ মিলিয়ন পাউন্ড

আর্সেনালকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়া মিকেল আর্তেতা নতুন চুক্তির মাধ্যমে বিশ্বের সর্বোচ্চ পারিশ্রমিকপ্রাপ্ত কোচদের একজন হয়ে উঠেছেন। তার নেতৃত্বে ক্লাবটি আবারও শিরোপার লড়াইয়ে নিয়মিত প্রতিদ্বন্দ্বী।

. ডিয়েগো সিমিওনে (অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ) – বছরে ২০. মিলিয়ন পাউন্ড

দীর্ঘ এক যুগের বেশি সময় ধরে অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদকে নেতৃত্ব দিয়ে যাচ্ছেন ডিয়েগো সিমিওনে। সীমিত বাজেটেও ইউরোপের বড় ক্লাবগুলোর সঙ্গে সমানতালে লড়াই করার কৃতিত্ব তারই।

. সিমোন ইনজাগি (আলহিলাল) – বছরে ২২. মিলিয়ন পাউন্ড

২০২৬ সালে বিশ্বের সর্বোচ্চ বেতনপ্রাপ্ত ফুটবল কোচ এখন সিমোন ইনজাগি। ইন্টার মিলান ছেড়ে সৌদি ক্লাব আলহিলালে যোগ দেওয়ার পর তার বার্ষিক আয় দাঁড়িয়েছে ২২. মিলিয়ন পাউন্ড, যা প্রতি সপ্তাহে প্রায় লাখ ৫৪ হাজার পাউন্ডের সমান। যদিও এত বড় পারিশ্রমিকের পরও সর্বশেষ মৌসুমে আলহিলালকে লিগ শিরোপা এনে দিতে পারেননি; দলকে রানার্সআপ হয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছে।

ফুটবলের অর্থনীতিতে এখন শুধু খেলোয়াড় নয়, কোচদের মূল্যও আকাশছোঁয়া। কৌশল, নেতৃত্ব এবং সাফল্যের ওপর নির্ভর করেই আজ বিশ্বের শীর্ষ কোচরা পাচ্ছেন কোটি কোটি টাকার বেতন, আর সেই তালিকার শীর্ষে এখন সৌদি আরবের আলহিলালের সিমোন ইনজাগি।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

কোচদের বেতনের রাজা এখন ইনজাগি! মরিনহো-সিমিওনে-আর্তেতাকেও ছাড়িয়ে শীর্ষে সৌদি ক্লাবের ইতালিয়ান গুরু

আপডেট সময় ০২:২৫:৫৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬

ফুটবল মাঠে শুধু তারকা খেলোয়াড়রাই নন, আধুনিক ফুটবলে কোচরাও এখন ক্লাবগুলোর সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ। সাফল্য, শিরোপা এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার দায়িত্ব কাঁধে নিয়ে বিশ্বের শীর্ষ কোচরা পাচ্ছেন রেকর্ড পরিমাণ পারিশ্রমিক। ২০২৬ সালের সর্বোচ্চ বেতনপ্রাপ্ত ফুটবল কোচদের তালিকায় দেখা গেছে বেশ কিছু চমক, যেখানে অভিজ্ঞদের টপকে শীর্ষস্থান দখল করেছেন সৌদি আরবের আলহিলালের প্রধান কোচ সিমোন ইনজাগি।

১০. ম্যাথিয়াস ইয়াইসলে (আলআহলি) – বছরে . মিলিয়ন পাউন্ড

মাত্র ৩৮ বছর বয়সেই বিশ্বের সর্বোচ্চ বেতনপ্রাপ্ত কোচদের তালিকায় জায়গা করে নিয়েছেন জার্মান কোচ ম্যাথিয়াস ইয়াইসলে। রেড বুল সলজবুর্গে সফল অধ্যায় শেষে ২০২৩ সালে সৌদি ক্লাব আলআহলির দায়িত্ব নেন তিনি। তার অধীনে ক্লাবটি এএফসি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ এলিটে ধারাবাহিক সাফল্য পেয়েছে।

. লুসিয়ানো স্পালেত্তি (জুভেন্টাস) – বছরে . মিলিয়ন পাউন্ড

জুভেন্টাসের হারানো গৌরব ফিরিয়ে আনতে বড় দায়িত্ব কাঁধে নিয়েছেন ইতালিয়ান অভিজ্ঞ কোচ লুসিয়ানো স্পালেত্তি। হতাশাজনক মৌসুমের পর ক্লাবের নতুন পরিকল্পনার কেন্দ্রবিন্দু এখন তিনিই।

. আন্দোনি ইরাওলা (লিভারপুল) – বছরে ১০. মিলিয়ন পাউন্ড

বোর্নমাউথে নজরকাড়া সাফল্যের পুরস্কার হিসেবে লিভারপুলের ডাগআউটে সুযোগ পান স্প্যানিশ কোচ আন্দোনি ইরাওলা। নতুন দায়িত্বের সঙ্গে বেড়েছে তার পারিশ্রমিকও।

. লুইস এনরিকে (পিএসজি) – বছরে ১০. মিলিয়ন পাউন্ড

ফরাসি ক্লাব পিএসজিকে ইউরোপের অন্যতম শক্তিশালী দলে পরিণত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন লুইস এনরিকে। ধারাবাহিক সাফল্যের সুবাদে তার বেতনও এখন বিশ্বের সেরাদের কাতারে।

. হোসে মরিনহো (রিয়াল মাদ্রিদ) – বছরে ১০. মিলিয়ন পাউন্ড

বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম আলোচিত কোচ হোসে মরিনহো আবারও রিয়াল মাদ্রিদের দায়িত্বে। বিশাল প্রত্যাশার পাশাপাশি তিনি পাচ্ছেন মোটা অঙ্কের বার্ষিক পারিশ্রমিক।

. জাবি আলোনসো (চেলসি) – বছরে ১১. মিলিয়ন পাউন্ড

চেলসির নতুন প্রকল্পের নেতৃত্বে আছেন জাবি আলোনসো। দল গঠনে বড় বিনিয়োগের পর সেই আস্থার প্রতিদান দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছেন সাবেক স্প্যানিশ মিডফিল্ডার।

. অলিভার গ্লাসনার (নটিংহাম ফরেস্ট) – বছরে ১৩ মিলিয়ন পাউন্ড

ক্রিস্টাল প্যালেসে সাফল্যের পর একাধিক বড় ক্লাবের আগ্রহ থাকলেও নটিংহাম ফরেস্টে যোগ দেন অলিভার গ্লাসনার। আকর্ষণীয় বেতনের প্রস্তাব তার সিদ্ধান্তে বড় ভূমিকা রেখেছে বলে মনে করা হয়।

. মিকেল আর্তেতা (আর্সেনাল) – বছরে ১৫ মিলিয়ন পাউন্ড

আর্সেনালকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়া মিকেল আর্তেতা নতুন চুক্তির মাধ্যমে বিশ্বের সর্বোচ্চ পারিশ্রমিকপ্রাপ্ত কোচদের একজন হয়ে উঠেছেন। তার নেতৃত্বে ক্লাবটি আবারও শিরোপার লড়াইয়ে নিয়মিত প্রতিদ্বন্দ্বী।

. ডিয়েগো সিমিওনে (অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ) – বছরে ২০. মিলিয়ন পাউন্ড

দীর্ঘ এক যুগের বেশি সময় ধরে অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদকে নেতৃত্ব দিয়ে যাচ্ছেন ডিয়েগো সিমিওনে। সীমিত বাজেটেও ইউরোপের বড় ক্লাবগুলোর সঙ্গে সমানতালে লড়াই করার কৃতিত্ব তারই।

. সিমোন ইনজাগি (আলহিলাল) – বছরে ২২. মিলিয়ন পাউন্ড

২০২৬ সালে বিশ্বের সর্বোচ্চ বেতনপ্রাপ্ত ফুটবল কোচ এখন সিমোন ইনজাগি। ইন্টার মিলান ছেড়ে সৌদি ক্লাব আলহিলালে যোগ দেওয়ার পর তার বার্ষিক আয় দাঁড়িয়েছে ২২. মিলিয়ন পাউন্ড, যা প্রতি সপ্তাহে প্রায় লাখ ৫৪ হাজার পাউন্ডের সমান। যদিও এত বড় পারিশ্রমিকের পরও সর্বশেষ মৌসুমে আলহিলালকে লিগ শিরোপা এনে দিতে পারেননি; দলকে রানার্সআপ হয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছে।

ফুটবলের অর্থনীতিতে এখন শুধু খেলোয়াড় নয়, কোচদের মূল্যও আকাশছোঁয়া। কৌশল, নেতৃত্ব এবং সাফল্যের ওপর নির্ভর করেই আজ বিশ্বের শীর্ষ কোচরা পাচ্ছেন কোটি কোটি টাকার বেতন, আর সেই তালিকার শীর্ষে এখন সৌদি আরবের আলহিলালের সিমোন ইনজাগি।