কমনওয়েলথ গেমসের আবহে গ্লাসগোতে ‘বাংলা মেলা’, এক মঞ্চে সংস্কৃতি, ক্রীড়াবিদ ও প্রবাসীদের মিলন
বাংলাদেশের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আরও জোরালোভাবে তুলে ধরতে স্কটল্যান্ডের গ্লাসগোতে আয়োজন করা হচ্ছে বর্ণাঢ্য ‘বাংলা মেলা’। চলমান কমনওয়েলথ গেমসকে কেন্দ্র করে আগামী রোববার (২৬ জুলাই) দুপুর ১২টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত বারমুলক কমিউনিটি সেন্টারে দিনব্যাপী এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে বাংলা সেন্টার স্কটল্যান্ড।
আয়োজকদের ভাষ্য, কমনওয়েলথ গেমসের আন্তর্জাতিক পরিবেশকে কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশের সমৃদ্ধ সংস্কৃতি, ঐতিহ্য এবং প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে পারস্পরিক বন্ধন আরও সুদৃঢ় করাই এই আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য। একই সঙ্গে গেমসে অংশ নেওয়া বাংলাদেশ দলের ক্রীড়াবিদ ও কর্মকর্তাদের সংবর্ধনা জানানো হবে। এতে প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে তাদের সরাসরি শুভেচ্ছা ও মতবিনিময়ের সুযোগও তৈরি হবে।
দিনব্যাপী এই উৎসবে থাকবে বৈচিত্র্যময় সাংস্কৃতিক পরিবেশনা, সংগীত, ঐতিহ্যবাহী নৃত্য এবং পরিবারভিত্তিক বিনোদনের নানা আয়োজন। বাংলাদেশের জনপ্রিয় শিল্পীদের পাশাপাশি স্থানীয় শিল্পীরাও মঞ্চ মাতাবেন। বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে সংগীত পরিবেশন করবেন বাংলাদেশের জনপ্রিয় শিল্পী নিশিতা বড়ুয়া।
মেলায় দর্শনার্থীদের জন্য থাকবে দেশীয় খাবারের স্টল, শিশুদের বিনোদনের ব্যবস্থা এবং বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী বিভিন্ন পণ্য ও হস্তশিল্পের প্রদর্শনী। আয়োজকদের বিশ্বাস, এসব আয়োজনের মাধ্যমে বিদেশে বেড়ে ওঠা নতুন প্রজন্মের কাছে বাংলা ভাষা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে আরও আকর্ষণীয়ভাবে তুলে ধরা সম্ভব হবে।
বাংলা সেন্টার স্কটল্যান্ডের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পিয়াস, রবিন, শরীফ ও সালিম জানান, কমনওয়েলথ গেমস উপলক্ষে আয়োজিত এ বাংলা মেলায় বাংলাদেশ দলের ক্রীড়াবিদ, প্রবাসী বাংলাদেশি এবং স্থানীয় বিভিন্ন কমিউনিটির মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের প্রত্যাশা করছেন তারা। তাদের মতে, এ আয়োজন গ্লাসগোতে বাংলাদেশের ইতিবাচক ভাবমূর্তি তুলে ধরার পাশাপাশি বিভিন্ন সংস্কৃতির মানুষের মধ্যে সম্প্রীতির বন্ধনও আরও দৃঢ় করবে।
আয়োজকদের আশা, এই বাংলা মেলা শুধু প্রবাসীদের মিলনমেলাতেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে আসা দর্শনার্থীদের সামনে বাংলাদেশের আতিথেয়তা, ঐতিহ্য ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য তুলে ধরার একটি অনন্য প্ল্যাটফর্ম হয়ে উঠবে। পাশাপাশি গ্লাসগোতে বসবাসরত বাংলাদেশিদের একত্রিত করে উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি এবং নতুন প্রজন্মের মধ্যে বাংলা সংস্কৃতির চর্চা বাড়াতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।


























