ঢাকা ০৯:১৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইলিশের মৌসুমে চাঁদপুরে চমক, নদীভরা বিশাল পাঙাশে সরগরম মাছঘাট

নিজস্ব সংবাদ :

নিজস্ব প্রতিবেদন

ইলিশের জন্য খ্যাত চাঁদপুরের ঐতিহ্যবাহী বড় স্টেশন মাছঘাটে এবার ভিন্ন এক দৃশ্য। ভরা মৌসুমে ইলিশের পাশাপাশি পদ্মা-মেঘনার বুক থেকে প্রচুর পরিমাণে ধরা পড়ছে বড় আকারের দেশীয় পাঙাশ। এতে ঘাটজুড়ে বেড়েছে পাঙাশের সরবরাহ, আর ক্রেতাদের মধ্যেও দেখা দিয়েছে নতুন আগ্রহ।

স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, সাম্প্রতিক কয়েক দিনে জেলেদের জালে ইলিশের তুলনায় বড় পাঙাশ বেশি ধরা পড়ছে। ইলিশের দাম তুলনামূলক বেশি হওয়ায় অনেক ক্রেতাই এখন বিকল্প হিসেবে পাঙাশ বেছে নিচ্ছেন। ফলে মাছঘাটে প্রতিদিনই পাঙাশের ভালো বেচাকেনা হচ্ছে।

চাঁদপুর বড় স্টেশন মাছঘাট ঘুরে দেখা যায়, বিভিন্ন আড়তে সারি সারি করে সাজানো রয়েছে ৮ থেকে ২০ কেজি ওজনের বিশাল আকৃতির পাঙাশ। আকারভেদে এসব মাছের প্রতি কেজির দাম ৩৫০ থেকে ৭৫০ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে।

চাঁদপুর জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. ফখরুল ইসলাম বলেন, পদ্মা-মেঘনায় দেশীয় পাঙাশের উপস্থিতি নদীর জীববৈচিত্র্য ও মৎস্যসম্পদের জন্য ইতিবাচক বার্তা বহন করে। তার মতে, সরকারি সংরক্ষণ কার্যক্রম ও জেলেদের সচেতনতা অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে ইলিশের পাশাপাশি পাঙাশসহ অন্যান্য দেশীয় মাছের উৎপাদনও আরও বৃদ্ধি পাবে।

তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, অপরিপক্ব বা ছোট পাঙাশ নির্বিচারে আহরণ করা হলে ভবিষ্যতে এই মাছের প্রাকৃতিক উৎপাদন ব্যাহত হতে পারে। তাই প্রজনন ও বৃদ্ধি নিশ্চিত করতে ছোট মাছ ধরা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান তিনি।

মাছ ব্যবসায়ী মো. হাসান জানান, কয়েক দিন ধরে নদী থেকে প্রচুর পাঙাশ আসছে। ইলিশের সরবরাহ কম থাকলেও পাঙাশের কারণে বাজারে ক্রেতার উপস্থিতি কমেনি। প্রতিদিনই সন্তোষজনক বিক্রি হচ্ছে বলে তিনি জানান।

আরেক ব্যবসায়ী নবীর হোসেনের ভাষ্য, ইলিশের ঘাটতি ব্যবসায় কিছুটা প্রভাব ফেললেও বড় পাঙাশের চাহিদা সেই ক্ষতি অনেকটাই পুষিয়ে দিচ্ছে।

ক্রেতারাও বলছেন, ইলিশের উচ্চমূল্যের কারণে একই বাজেটে বড় আকারের পাঙাশ কিনতে পারছেন তারা। চাঁদপুর শহরের এক ক্রেতা জানান, ইলিশ কেনার পরিকল্পনা থাকলেও বেশি দামের কারণে শেষ পর্যন্ত বড় একটি পাঙাশ কিনেছেন, যা পরিবারের জন্যও যথেষ্ট।

আড়ত সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে ৩০০ থেকে ৫০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ প্রতি কেজি ৯০০ থেকে ১ হাজার ৩০০ টাকা, ৬০০ থেকে ৮০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ ১ হাজার ৭০০ থেকে ২ হাজার ১০০ টাকা এবং এক কেজি বা তার বেশি ওজনের ইলিশ ২ হাজার ৩০০ থেকে ২ হাজার ৭০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

অন্যদিকে, বড় আকারের নদীর পাঙাশের দাম প্রতি কেজি ৫৫০ থেকে ৭৫০ টাকা, মাঝারি আকারের পাঙাশ ৪৫০ থেকে ৫৫০ টাকা এবং ছোট পাঙাশ ৩৫০ থেকে ৪৫০ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে।

হাইমচর উপজেলার চরভৈরবী এলাকার জেলে মো. সেলিম বেপারী বলেন, আগে নদীতে পাঙাশ খুব কম মিললেও এখন প্রায় প্রতিদিনই বড় বড় পাঙাশ ধরা পড়ছে। বাজারে ভালো দাম পাওয়ায় জেলেদের আয়ও বেড়েছে।

সদর উপজেলার রাজরাজেশ্বর এলাকার জেলে মো. জসিম মাঝির কথায়, সাম্প্রতিক সময়ে ইলিশের তুলনায় বড় পাঙাশই বেশি জালে উঠছে। একটি বড় পাঙাশ বিক্রি করেই ভালো অর্থ পাওয়া যাচ্ছে, যা জেলেদের জন্য স্বস্তির খবর।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

ইলিশের মৌসুমে চাঁদপুরে চমক, নদীভরা বিশাল পাঙাশে সরগরম মাছঘাট

আপডেট সময় ০৩:২২:৩২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদন

ইলিশের জন্য খ্যাত চাঁদপুরের ঐতিহ্যবাহী বড় স্টেশন মাছঘাটে এবার ভিন্ন এক দৃশ্য। ভরা মৌসুমে ইলিশের পাশাপাশি পদ্মা-মেঘনার বুক থেকে প্রচুর পরিমাণে ধরা পড়ছে বড় আকারের দেশীয় পাঙাশ। এতে ঘাটজুড়ে বেড়েছে পাঙাশের সরবরাহ, আর ক্রেতাদের মধ্যেও দেখা দিয়েছে নতুন আগ্রহ।

স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, সাম্প্রতিক কয়েক দিনে জেলেদের জালে ইলিশের তুলনায় বড় পাঙাশ বেশি ধরা পড়ছে। ইলিশের দাম তুলনামূলক বেশি হওয়ায় অনেক ক্রেতাই এখন বিকল্প হিসেবে পাঙাশ বেছে নিচ্ছেন। ফলে মাছঘাটে প্রতিদিনই পাঙাশের ভালো বেচাকেনা হচ্ছে।

চাঁদপুর বড় স্টেশন মাছঘাট ঘুরে দেখা যায়, বিভিন্ন আড়তে সারি সারি করে সাজানো রয়েছে ৮ থেকে ২০ কেজি ওজনের বিশাল আকৃতির পাঙাশ। আকারভেদে এসব মাছের প্রতি কেজির দাম ৩৫০ থেকে ৭৫০ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে।

চাঁদপুর জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. ফখরুল ইসলাম বলেন, পদ্মা-মেঘনায় দেশীয় পাঙাশের উপস্থিতি নদীর জীববৈচিত্র্য ও মৎস্যসম্পদের জন্য ইতিবাচক বার্তা বহন করে। তার মতে, সরকারি সংরক্ষণ কার্যক্রম ও জেলেদের সচেতনতা অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে ইলিশের পাশাপাশি পাঙাশসহ অন্যান্য দেশীয় মাছের উৎপাদনও আরও বৃদ্ধি পাবে।

তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, অপরিপক্ব বা ছোট পাঙাশ নির্বিচারে আহরণ করা হলে ভবিষ্যতে এই মাছের প্রাকৃতিক উৎপাদন ব্যাহত হতে পারে। তাই প্রজনন ও বৃদ্ধি নিশ্চিত করতে ছোট মাছ ধরা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান তিনি।

মাছ ব্যবসায়ী মো. হাসান জানান, কয়েক দিন ধরে নদী থেকে প্রচুর পাঙাশ আসছে। ইলিশের সরবরাহ কম থাকলেও পাঙাশের কারণে বাজারে ক্রেতার উপস্থিতি কমেনি। প্রতিদিনই সন্তোষজনক বিক্রি হচ্ছে বলে তিনি জানান।

আরেক ব্যবসায়ী নবীর হোসেনের ভাষ্য, ইলিশের ঘাটতি ব্যবসায় কিছুটা প্রভাব ফেললেও বড় পাঙাশের চাহিদা সেই ক্ষতি অনেকটাই পুষিয়ে দিচ্ছে।

ক্রেতারাও বলছেন, ইলিশের উচ্চমূল্যের কারণে একই বাজেটে বড় আকারের পাঙাশ কিনতে পারছেন তারা। চাঁদপুর শহরের এক ক্রেতা জানান, ইলিশ কেনার পরিকল্পনা থাকলেও বেশি দামের কারণে শেষ পর্যন্ত বড় একটি পাঙাশ কিনেছেন, যা পরিবারের জন্যও যথেষ্ট।

আড়ত সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে ৩০০ থেকে ৫০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ প্রতি কেজি ৯০০ থেকে ১ হাজার ৩০০ টাকা, ৬০০ থেকে ৮০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ ১ হাজার ৭০০ থেকে ২ হাজার ১০০ টাকা এবং এক কেজি বা তার বেশি ওজনের ইলিশ ২ হাজার ৩০০ থেকে ২ হাজার ৭০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

অন্যদিকে, বড় আকারের নদীর পাঙাশের দাম প্রতি কেজি ৫৫০ থেকে ৭৫০ টাকা, মাঝারি আকারের পাঙাশ ৪৫০ থেকে ৫৫০ টাকা এবং ছোট পাঙাশ ৩৫০ থেকে ৪৫০ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে।

হাইমচর উপজেলার চরভৈরবী এলাকার জেলে মো. সেলিম বেপারী বলেন, আগে নদীতে পাঙাশ খুব কম মিললেও এখন প্রায় প্রতিদিনই বড় বড় পাঙাশ ধরা পড়ছে। বাজারে ভালো দাম পাওয়ায় জেলেদের আয়ও বেড়েছে।

সদর উপজেলার রাজরাজেশ্বর এলাকার জেলে মো. জসিম মাঝির কথায়, সাম্প্রতিক সময়ে ইলিশের তুলনায় বড় পাঙাশই বেশি জালে উঠছে। একটি বড় পাঙাশ বিক্রি করেই ভালো অর্থ পাওয়া যাচ্ছে, যা জেলেদের জন্য স্বস্তির খবর।