ঢাকা ০৯:১৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কুমারখালীতে শিশু যৌন নির্যাতনের অভিযোগে মাদ্রাসা শিক্ষক গ্রেপ্তার, ধামাচাপা দিতে সালিশের চেষ্টা

নিজস্ব সংবাদ :

বিশেষ প্রতিনিধি | কুষ্টিয়া

কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলায় ১০ বছর বয়সী এক শিশু শিক্ষার্থীকে যৌন নির্যাতনের (বলাৎকার) অভিযোগে মো. মোস্তাফিজুর রহমান (২৫) নামের এক মাদ্রাসা শিক্ষককে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। একই সাথে ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার উদ্দেশ্যে স্থানীয়ভাবে শালিস-বৈঠকের উদ্যোগ নেওয়া হলে এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) বিকেলে উপজেলার সদকী ইউনিয়নের তালোয়া হাফেজিয়া মাদ্রাসা ও লিল্লাহ বোর্ডিং থেকে অভিযুক্ত শিক্ষককে আটক করা হয়। অভিযুক্ত মোস্তাফিজুর রহমান ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ডু উপজেলার বাসিন্দা। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ভুক্তভোগী শিশু ও তার বাবাকে নিজেদের হেফাজতে নিয়েছে।

যেভাবে প্রকাশ পায় ঘটনাটি

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ১২ জুলাই সকালে মাদ্রাসার বয়সে বড় শিক্ষার্থীরা পরীক্ষায় অংশ নিতে বাইরে গেলে প্রতিষ্ঠানে পাঁচজন শিশু অবস্থান করছিল। এই সুযোগে অভিযুক্ত শিক্ষক এক শিশুকে যৌন নির্যাতন করেন। ঘটনাটি অন্য শিশুরা দেখে ফেললেও ভীতি প্রদর্শনের কারণে তারা বিষয়টি কাউকে জানায়নি।

পরবর্তীতে মঙ্গলবার দুপুরে ঘটনাটি জানাজানি হলে এক শিশুকে মারধর করেন ওই শিক্ষক। এতে স্থানীয় বাসিন্দারা বিষয়টি টের পান এবং পুরো ঘটনাটি প্রকাশ পায়।

ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা স্থানীয় উত্তেজনা

ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর তা ধামাচাপা দিতে মঙ্গলবার দুপুরে মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে পরিচালনা পর্ষদের সদস্যরা এক শালিস বৈঠকের আয়োজন করেন। উক্ত বৈঠকে মাদ্রাসা কমিটির সভাপতি মো. জুলফিকার মাহমুদ এবং সহ-সভাপতি ও ইউনিয়ন বিএনপি নেতা আব্দুল করিম সহ স্থানীয় কয়েকজন সদস্য উপস্থিত ছিলেন। ফৌজদারি অপরাধ জেনেও শালিসের উদ্যোগ নিয়ে প্রশ্ন উঠলে মাদ্রাসা সভাপতি দাবি করেন, এটি স্থানীয়ভাবে সমাধানের সুযোগ রয়েছে।

শালিসের খবর ছড়াতেই বিপুল সংখ্যক স্থানীয় উৎসুক জনতা মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে জড়ো হন। খবর পেয়ে কুমারখালী থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিবেশ নিয়ন্ত্রণে আনে এবং বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে অভিযুক্ত শিক্ষককে আটক করে।

পুলিশ ভুক্তভোগীর বক্তব্য

গ্রেপ্তারের আগে ভুক্তভোগী শিশু জানায়, ঘুমন্ত অবস্থায় শিক্ষকের অপকর্মের কারণে তার ঘুম ভেঙে গেলে শিক্ষক তাকে সান্ত্বনা দিয়ে বিষয়টি “স্বপ্ন” ভেবে ভুলে যেতে বলেন।

এদিকে অভিযুক্ত শিক্ষক নিজের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করলেও কুমারখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জামাল উদ্দিন জানান, “আইন অনুযায়ী এই ধরনের গুরুতর ফৌজদারি অপরাধে শালিস বৈঠকের কোনো সুযোগ নেই। সংবাদ পেয়েই আমরা অভিযুক্তকে আটক করেছি এবং প্রাথমিক অনুসন্ধানে ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে।”

 

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

কুমারখালীতে শিশু যৌন নির্যাতনের অভিযোগে মাদ্রাসা শিক্ষক গ্রেপ্তার, ধামাচাপা দিতে সালিশের চেষ্টা

আপডেট সময় ০২:৫৯:২১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬

বিশেষ প্রতিনিধি | কুষ্টিয়া

কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলায় ১০ বছর বয়সী এক শিশু শিক্ষার্থীকে যৌন নির্যাতনের (বলাৎকার) অভিযোগে মো. মোস্তাফিজুর রহমান (২৫) নামের এক মাদ্রাসা শিক্ষককে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। একই সাথে ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার উদ্দেশ্যে স্থানীয়ভাবে শালিস-বৈঠকের উদ্যোগ নেওয়া হলে এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) বিকেলে উপজেলার সদকী ইউনিয়নের তালোয়া হাফেজিয়া মাদ্রাসা ও লিল্লাহ বোর্ডিং থেকে অভিযুক্ত শিক্ষককে আটক করা হয়। অভিযুক্ত মোস্তাফিজুর রহমান ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ডু উপজেলার বাসিন্দা। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ভুক্তভোগী শিশু ও তার বাবাকে নিজেদের হেফাজতে নিয়েছে।

যেভাবে প্রকাশ পায় ঘটনাটি

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ১২ জুলাই সকালে মাদ্রাসার বয়সে বড় শিক্ষার্থীরা পরীক্ষায় অংশ নিতে বাইরে গেলে প্রতিষ্ঠানে পাঁচজন শিশু অবস্থান করছিল। এই সুযোগে অভিযুক্ত শিক্ষক এক শিশুকে যৌন নির্যাতন করেন। ঘটনাটি অন্য শিশুরা দেখে ফেললেও ভীতি প্রদর্শনের কারণে তারা বিষয়টি কাউকে জানায়নি।

পরবর্তীতে মঙ্গলবার দুপুরে ঘটনাটি জানাজানি হলে এক শিশুকে মারধর করেন ওই শিক্ষক। এতে স্থানীয় বাসিন্দারা বিষয়টি টের পান এবং পুরো ঘটনাটি প্রকাশ পায়।

ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা স্থানীয় উত্তেজনা

ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর তা ধামাচাপা দিতে মঙ্গলবার দুপুরে মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে পরিচালনা পর্ষদের সদস্যরা এক শালিস বৈঠকের আয়োজন করেন। উক্ত বৈঠকে মাদ্রাসা কমিটির সভাপতি মো. জুলফিকার মাহমুদ এবং সহ-সভাপতি ও ইউনিয়ন বিএনপি নেতা আব্দুল করিম সহ স্থানীয় কয়েকজন সদস্য উপস্থিত ছিলেন। ফৌজদারি অপরাধ জেনেও শালিসের উদ্যোগ নিয়ে প্রশ্ন উঠলে মাদ্রাসা সভাপতি দাবি করেন, এটি স্থানীয়ভাবে সমাধানের সুযোগ রয়েছে।

শালিসের খবর ছড়াতেই বিপুল সংখ্যক স্থানীয় উৎসুক জনতা মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে জড়ো হন। খবর পেয়ে কুমারখালী থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিবেশ নিয়ন্ত্রণে আনে এবং বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে অভিযুক্ত শিক্ষককে আটক করে।

পুলিশ ভুক্তভোগীর বক্তব্য

গ্রেপ্তারের আগে ভুক্তভোগী শিশু জানায়, ঘুমন্ত অবস্থায় শিক্ষকের অপকর্মের কারণে তার ঘুম ভেঙে গেলে শিক্ষক তাকে সান্ত্বনা দিয়ে বিষয়টি “স্বপ্ন” ভেবে ভুলে যেতে বলেন।

এদিকে অভিযুক্ত শিক্ষক নিজের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করলেও কুমারখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জামাল উদ্দিন জানান, “আইন অনুযায়ী এই ধরনের গুরুতর ফৌজদারি অপরাধে শালিস বৈঠকের কোনো সুযোগ নেই। সংবাদ পেয়েই আমরা অভিযুক্তকে আটক করেছি এবং প্রাথমিক অনুসন্ধানে ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে।”