ঢাকা ০৪:০২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

তোরেসের অতিরিক্ত সময়ের গোলে বিশ্বজয় স্পেনের, মেসিদের স্বপ্নভঙ্গ নিউ জার্সির ফাইনালে

নিজস্ব সংবাদ :

স্পোর্টস ডেস্ক:
নিউ জার্সির জমজমাট ফাইনালে দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর শেষ হাসি হাসল স্পেন। ১০৬ মিনিট পর্যন্ত গোলশূন্য থাকা ম্যাচে ফেরান তোরেসের একমাত্র গোলে আর্জেন্টিনাকে ১-০ ব্যবধানে হারিয়ে ২০২৬ বিশ্বকাপের শিরোপা জয় করেছে স্প্যানিশরা। ২০১০ সালের পর দ্বিতীয়বার বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়ে জার্সিতে যোগ করল দ্বিতীয় তারকা। অন্যদিকে টানা দ্বিতীয় বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন অধরাই থেকে গেল লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনার।

ম্যাচজুড়ে আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলেছে স্পেন। শুরু থেকেই বলের দখল, পাসিং এবং সুযোগ তৈরিতে ছিল তাদের স্পষ্ট আধিপত্য। প্রথমার্ধেই লামিনে ইয়ামাল, দানি ওলমো, মিকেল ওইয়ারসাবাল ও মার্ক কুকুরেয়ার একের পর এক প্রচেষ্টা রুখে দেন আর্জেন্টিনার গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্তিনেজ। তাঁর অসাধারণ সব সেভই দীর্ঘ সময় দলকে ম্যাচে টিকিয়ে রেখেছিল।

অন্যদিকে আর্জেন্টিনা ছিল নিজেদের স্বাভাবিক ছন্দের বাইরে। মাঝমাঠে লড়াই ও ফাউলের সংখ্যা ছিল বেশি, তবে আক্রমণে কার্যকর হতে পারেনি দলটি। পুরো ম্যাচে প্রতিপক্ষের গোলমুখে উল্লেখযোগ্য কোনো শটই নিতে পারেনি আলবিসেলেস্তেরা, যা বিশ্বকাপের ফাইনালের মতো মঞ্চে বিরল ঘটনা।

লিওনেল মেসিকেও এদিন খুব বেশি প্রভাব ফেলতে দেখা যায়নি। স্পেনের নিয়ন্ত্রিত ফুটবলের সামনে আর্জেন্টিনার আক্রমণভাগ ছিল অনেকটাই নিষ্প্রভ। ম্যাচ যত গড়িয়েছে, স্পেনের চাপও তত বেড়েছে।

অতিরিক্ত সময়েও একের পর এক সুযোগ তৈরি করে স্পেন। নিকো উইলিয়ামসের একটি গোল ফাউলের কারণে ভিএআরে বাতিল হলেও তারা আক্রমণ চালিয়ে যায়। অবশেষে ১০৬তম মিনিটে পেদ্রো পোরোর দারুণ ক্রসে নিকো উইলিয়ামস হেডে বল বাড়িয়ে দেন, আর সুযোগ কাজে লাগিয়ে কাছ থেকে জালে বল পাঠান ফেরান তোরেস। সেই গোলেই নির্ধারিত হয়ে যায় বিশ্বকাপের ভাগ্য।

পরে তোরেস আরও একবার বল জালে পাঠালেও অফসাইডের কারণে সেটি বাতিল হয়। শেষদিকে আর্জেন্টিনা সমতায় ফেরার চেষ্টা করলেও কার্যকর সুযোগ তৈরি করতে পারেনি। শেষ বাঁশি বাজতেই উল্লাসে ফেটে পড়ে স্পেনের খেলোয়াড় ও সমর্থকেরা।

এই জয়ের মধ্য দিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ ট্রফি নিজেদের করে নিল স্পেন। আর ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা তারকা লিওনেল মেসির জন্য এটি হয়ে রইল আরেকটি অপূর্ণ স্বপ্নের রাত। তাঁর সমৃদ্ধ ক্যারিয়ারে অসংখ্য সাফল্য থাকলেও ২০২৬ সালের বিশ্বকাপ ফাইনাল শেষ হলো হতাশা নিয়েই।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

তোরেসের অতিরিক্ত সময়ের গোলে বিশ্বজয় স্পেনের, মেসিদের স্বপ্নভঙ্গ নিউ জার্সির ফাইনালে

আপডেট সময় ০৩:৪২:৫৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬

স্পোর্টস ডেস্ক:
নিউ জার্সির জমজমাট ফাইনালে দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর শেষ হাসি হাসল স্পেন। ১০৬ মিনিট পর্যন্ত গোলশূন্য থাকা ম্যাচে ফেরান তোরেসের একমাত্র গোলে আর্জেন্টিনাকে ১-০ ব্যবধানে হারিয়ে ২০২৬ বিশ্বকাপের শিরোপা জয় করেছে স্প্যানিশরা। ২০১০ সালের পর দ্বিতীয়বার বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়ে জার্সিতে যোগ করল দ্বিতীয় তারকা। অন্যদিকে টানা দ্বিতীয় বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন অধরাই থেকে গেল লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনার।

ম্যাচজুড়ে আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলেছে স্পেন। শুরু থেকেই বলের দখল, পাসিং এবং সুযোগ তৈরিতে ছিল তাদের স্পষ্ট আধিপত্য। প্রথমার্ধেই লামিনে ইয়ামাল, দানি ওলমো, মিকেল ওইয়ারসাবাল ও মার্ক কুকুরেয়ার একের পর এক প্রচেষ্টা রুখে দেন আর্জেন্টিনার গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্তিনেজ। তাঁর অসাধারণ সব সেভই দীর্ঘ সময় দলকে ম্যাচে টিকিয়ে রেখেছিল।

অন্যদিকে আর্জেন্টিনা ছিল নিজেদের স্বাভাবিক ছন্দের বাইরে। মাঝমাঠে লড়াই ও ফাউলের সংখ্যা ছিল বেশি, তবে আক্রমণে কার্যকর হতে পারেনি দলটি। পুরো ম্যাচে প্রতিপক্ষের গোলমুখে উল্লেখযোগ্য কোনো শটই নিতে পারেনি আলবিসেলেস্তেরা, যা বিশ্বকাপের ফাইনালের মতো মঞ্চে বিরল ঘটনা।

লিওনেল মেসিকেও এদিন খুব বেশি প্রভাব ফেলতে দেখা যায়নি। স্পেনের নিয়ন্ত্রিত ফুটবলের সামনে আর্জেন্টিনার আক্রমণভাগ ছিল অনেকটাই নিষ্প্রভ। ম্যাচ যত গড়িয়েছে, স্পেনের চাপও তত বেড়েছে।

অতিরিক্ত সময়েও একের পর এক সুযোগ তৈরি করে স্পেন। নিকো উইলিয়ামসের একটি গোল ফাউলের কারণে ভিএআরে বাতিল হলেও তারা আক্রমণ চালিয়ে যায়। অবশেষে ১০৬তম মিনিটে পেদ্রো পোরোর দারুণ ক্রসে নিকো উইলিয়ামস হেডে বল বাড়িয়ে দেন, আর সুযোগ কাজে লাগিয়ে কাছ থেকে জালে বল পাঠান ফেরান তোরেস। সেই গোলেই নির্ধারিত হয়ে যায় বিশ্বকাপের ভাগ্য।

পরে তোরেস আরও একবার বল জালে পাঠালেও অফসাইডের কারণে সেটি বাতিল হয়। শেষদিকে আর্জেন্টিনা সমতায় ফেরার চেষ্টা করলেও কার্যকর সুযোগ তৈরি করতে পারেনি। শেষ বাঁশি বাজতেই উল্লাসে ফেটে পড়ে স্পেনের খেলোয়াড় ও সমর্থকেরা।

এই জয়ের মধ্য দিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ ট্রফি নিজেদের করে নিল স্পেন। আর ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা তারকা লিওনেল মেসির জন্য এটি হয়ে রইল আরেকটি অপূর্ণ স্বপ্নের রাত। তাঁর সমৃদ্ধ ক্যারিয়ারে অসংখ্য সাফল্য থাকলেও ২০২৬ সালের বিশ্বকাপ ফাইনাল শেষ হলো হতাশা নিয়েই।