ঢাকা ১১:১৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

১৪০ কোটির বিতর্ক’ পেছনে ফেলে ২০২৬ বিশ্বকাপ সম্প্রচার প্রায় বিনা খরচে, দাবি তথ্যমন্ত্রীর

নিজস্ব সংবাদ :

স্টাফ রিপোর্টার |

২০২৬ সালের ফিফা বিশ্বকাপের সম্প্রচার স্বত্ব সংগ্রহে আগের মতো শতকোটি টাকার লেনদেন হয়নি; বরং মধ্যস্বত্বভোগীদের বাদ দিয়ে সরাসরি ফিফার কাছ থেকে স্বত্ব কেনায় রাষ্ট্রের ব্যয় প্রায় শূন্যের পর্যায়ে নামিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে বলে দাবি করেছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন।

রোববার সকালে রাজধানীর তথ্য অধিদপ্তরের (পিআইডি) সভাকক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, বর্তমান সরকার স্বচ্ছতা ও ব্যয় সাশ্রয়ের নীতিকে গুরুত্ব দিয়ে কাজ করায় বিশ্বকাপ সম্প্রচারে বড় ধরনের অর্থ সাশ্রয় সম্ভব হয়েছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপের সময় সম্প্রচার স্বত্ব ঘিরে প্রায় ১৪০ কোটি টাকার লেনদেন হয়েছিল, যা ছিল অনিয়ম ও মধ্যস্বত্বভোগী নির্ভর ব্যবস্থার ফল।

মন্ত্রী জানান, এবার কোনো তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে নয়, সরাসরি ফিফার সঙ্গে আলোচনা করে প্রায় ৩ দশমিক ৮৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলারে (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৪৭ কোটি টাকা) মিডিয়া রাইটস সংগ্রহ করেছে বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি)। পরে দেশের চারটি গণমাধ্যমকে সাব-লাইসেন্স দেওয়ার মাধ্যমে সেই ব্যয়ের প্রায় পুরো অর্থই পুনরুদ্ধার করা হয়েছে।

তার দাবি, বর্তমানে মাত্র ৪ থেকে ৫ কোটি টাকার মতো ঘাটতি রয়েছে। বিজ্ঞাপন আয় ও রেভিনিউ শেয়ারিংয়ের মাধ্যমে সেটিও সমন্বয় করা সম্ভব হবে। ফলে পুরো প্রকল্পটি কার্যত ‘জিরো কস্ট’-এ নেমে আসবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে ২০২২ সালের সম্প্রচার স্বত্ব ক্রয়ের বিষয়েও বিস্তারিত তুলে ধরেন তথ্যমন্ত্রী। তাঁর অভিযোগ, সে সময় ফিফার কাছ থেকে একটি বিদেশি প্রতিষ্ঠান স্বত্ব কেনার পর বাংলাদেশের একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে মধ্যস্বত্বভোগী হিসেবে যুক্ত করা হয়। পরে রাষ্ট্রীয় অর্থ ব্যয় করে বিটিভির জন্য সম্প্রচার স্বত্ব কেনা হয় এবং দেশের অন্যান্য টেলিভিশনও ওই প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে সাব-লাইসেন্স নিতে বাধ্য হয়। এতে মোট লেনদেন প্রায় ১৪০ কোটিতে পৌঁছায় বলে তিনি দাবি করেন।

জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, দেশের ফুটবলপ্রেমীদের আবেগকে কাজে লাগিয়ে অতীতে দুর্নীতির সুযোগ তৈরি করা হয়েছিল। বর্তমান সরকার সেই চক্র ভেঙে স্বচ্ছ ও ব্যয়-সাশ্রয়ী প্রক্রিয়ায় বিশ্বকাপ সম্প্রচারের ব্যবস্থা করেছে।

তিনি আরও জানান, বিটিভির কর্মকর্তারা সম্প্রচার কার্যক্রম সফলভাবে সম্পন্ন করতে নিরলস পরিশ্রম করেছেন। পাশাপাশি আলোচনার পুরো প্রক্রিয়ায় সহযোগিতার জন্য ক্রীড়া সাংবাদিক, বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে) এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ধন্যবাদ জানান তিনি।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে তথ্যমন্ত্রী বলেন, আগামী বিশ্বকাপগুলোতে শুধু ব্যয় শূন্যে নামিয়ে আনা নয়, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার ও কার্যকর বাণিজ্যিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে বিশ্বকাপ সম্প্রচারকে লাভজনক উদ্যোগে পরিণত করার লক্ষ্য নিয়ে এখন থেকেই কাজ শুরু করবে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

১৪০ কোটির বিতর্ক’ পেছনে ফেলে ২০২৬ বিশ্বকাপ সম্প্রচার প্রায় বিনা খরচে, দাবি তথ্যমন্ত্রীর

আপডেট সময় ০৪:২৭:০৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬

স্টাফ রিপোর্টার |

২০২৬ সালের ফিফা বিশ্বকাপের সম্প্রচার স্বত্ব সংগ্রহে আগের মতো শতকোটি টাকার লেনদেন হয়নি; বরং মধ্যস্বত্বভোগীদের বাদ দিয়ে সরাসরি ফিফার কাছ থেকে স্বত্ব কেনায় রাষ্ট্রের ব্যয় প্রায় শূন্যের পর্যায়ে নামিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে বলে দাবি করেছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন।

রোববার সকালে রাজধানীর তথ্য অধিদপ্তরের (পিআইডি) সভাকক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, বর্তমান সরকার স্বচ্ছতা ও ব্যয় সাশ্রয়ের নীতিকে গুরুত্ব দিয়ে কাজ করায় বিশ্বকাপ সম্প্রচারে বড় ধরনের অর্থ সাশ্রয় সম্ভব হয়েছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপের সময় সম্প্রচার স্বত্ব ঘিরে প্রায় ১৪০ কোটি টাকার লেনদেন হয়েছিল, যা ছিল অনিয়ম ও মধ্যস্বত্বভোগী নির্ভর ব্যবস্থার ফল।

মন্ত্রী জানান, এবার কোনো তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে নয়, সরাসরি ফিফার সঙ্গে আলোচনা করে প্রায় ৩ দশমিক ৮৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলারে (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৪৭ কোটি টাকা) মিডিয়া রাইটস সংগ্রহ করেছে বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি)। পরে দেশের চারটি গণমাধ্যমকে সাব-লাইসেন্স দেওয়ার মাধ্যমে সেই ব্যয়ের প্রায় পুরো অর্থই পুনরুদ্ধার করা হয়েছে।

তার দাবি, বর্তমানে মাত্র ৪ থেকে ৫ কোটি টাকার মতো ঘাটতি রয়েছে। বিজ্ঞাপন আয় ও রেভিনিউ শেয়ারিংয়ের মাধ্যমে সেটিও সমন্বয় করা সম্ভব হবে। ফলে পুরো প্রকল্পটি কার্যত ‘জিরো কস্ট’-এ নেমে আসবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে ২০২২ সালের সম্প্রচার স্বত্ব ক্রয়ের বিষয়েও বিস্তারিত তুলে ধরেন তথ্যমন্ত্রী। তাঁর অভিযোগ, সে সময় ফিফার কাছ থেকে একটি বিদেশি প্রতিষ্ঠান স্বত্ব কেনার পর বাংলাদেশের একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে মধ্যস্বত্বভোগী হিসেবে যুক্ত করা হয়। পরে রাষ্ট্রীয় অর্থ ব্যয় করে বিটিভির জন্য সম্প্রচার স্বত্ব কেনা হয় এবং দেশের অন্যান্য টেলিভিশনও ওই প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে সাব-লাইসেন্স নিতে বাধ্য হয়। এতে মোট লেনদেন প্রায় ১৪০ কোটিতে পৌঁছায় বলে তিনি দাবি করেন।

জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, দেশের ফুটবলপ্রেমীদের আবেগকে কাজে লাগিয়ে অতীতে দুর্নীতির সুযোগ তৈরি করা হয়েছিল। বর্তমান সরকার সেই চক্র ভেঙে স্বচ্ছ ও ব্যয়-সাশ্রয়ী প্রক্রিয়ায় বিশ্বকাপ সম্প্রচারের ব্যবস্থা করেছে।

তিনি আরও জানান, বিটিভির কর্মকর্তারা সম্প্রচার কার্যক্রম সফলভাবে সম্পন্ন করতে নিরলস পরিশ্রম করেছেন। পাশাপাশি আলোচনার পুরো প্রক্রিয়ায় সহযোগিতার জন্য ক্রীড়া সাংবাদিক, বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে) এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ধন্যবাদ জানান তিনি।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে তথ্যমন্ত্রী বলেন, আগামী বিশ্বকাপগুলোতে শুধু ব্যয় শূন্যে নামিয়ে আনা নয়, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার ও কার্যকর বাণিজ্যিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে বিশ্বকাপ সম্প্রচারকে লাভজনক উদ্যোগে পরিণত করার লক্ষ্য নিয়ে এখন থেকেই কাজ শুরু করবে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়।