ঢাকা ০১:১০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বাস দুর্ঘটনার পর মেরামত হলেও প্রশ্ন রয়ে গেছে নির্মাণমান নিয়ে।

নিজস্ব সংবাদ :

বিপ্লব তালুকদার : নাটোর জেলা প্রতিনিধি

নাটোরের সিংড়া উপজেলার বিয়াশ–রাতাল সড়কে বাস দুর্ঘটনার পর ক্ষতিগ্রস্ত অংশ মেরামত করেছে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)। শনিবার (১৮ জুলাই) বিকেলে মেরামতকাজ শেষ হওয়ার পর বর্তমানে সড়কটিতে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। তবে সাময়িক সংস্কারে সন্তুষ্ট নন স্থানীয়রা। তাদের দাবি পুরো সড়কের নির্মাণমান নিরপেক্ষভাবে যাচাই করে অনিয়মের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হোক।

গত শুক্রবার (১৭ জুলাই) বিকেলে জামতলী বাজার–বামিহাল বাজার সংযোগ সড়কের রাতাল বাজার–বিয়াশ বাজার অংশে প্রায় ৬০ জন যাত্রী নিয়ে চলাচলকারী একটি বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশের জলাশয়ের কিনারে হেলে পড়ে। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য সড়কের পাশের নরম মাটি ও নির্মাণত্রুটির কারণে বাসটির একটি চাকা রাস্তার বাইরে চলে যায়। মুহূর্তেই আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লেও স্থানীয়দের দ্রুত সহযোগিতায় বাসের সব যাত্রীকে নিরাপদে উদ্ধার করা সম্ভব হয়। সৌভাগ্যক্রমে এ ঘটনায় কেউ হতাহত হননি।

দুর্ঘটনার পরই নতুন করে সামনে আসে দীর্ঘদিনের অভিযোগ। স্থানীয়দের দাবি প্রায় ৭ কিলোমিটার দীর্ঘ এ সড়কের নির্মাণকাজ শুরু থেকেই নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার ও নানা অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। এর আগে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর পরিদর্শনে এসব অনিয়মের সত্যতা পাওয়া গেলে নির্মাণকাজ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়। সে সময় ঠিকাদারসহ দুজনকে আটক করা হলেও পরে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়।

এলাকাবাসীর অভিযোগ বিষয়টি একাধিকবার উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলীকে জানানো হলেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ফলে সামান্য বৃষ্টি বা ভারী যান চলাচলের পরই সড়কের বিভিন্ন অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে যা জননিরাপত্তার জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করছে।

উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলী মো. খলিলুর রহমান জানান শনিবার বিকেলেই ক্ষতিগ্রস্ত অংশের মেরামতকাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। বর্তমানে সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে এবং কোনো ঝুঁকি নেই। তিনি বলেন অতিরিক্ত বৃষ্টিপাত এবং স্থানীয়ভাবে ট্রাকে পানি পরিবহনের কারণে সড়কের কিছু অংশ বারবার ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। প্রয়োজন অনুযায়ী দ্রুত সংস্কার করা হচ্ছে।

তবে স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে শুধু ক্ষতিগ্রস্ত অংশে সংস্কার করলেই সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে না। তারা পুরো প্রকল্পের নির্মাণমান নিরপেক্ষভাবে পরীক্ষা দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনা এবং ভবিষ্যতে যেন এমন ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি না হয় সে জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন।

সড়কটি এলাকার গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগপথ হওয়ায় প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ ও যানবাহন চলাচল করে। তাই জননিরাপত্তার স্বার্থে নির্মাণকাজের মান নিশ্চিত করা এবং অভিযোগগুলোর স্বচ্ছ তদন্ত এখন সময়ের দাবি বলে মনে করছেন সচেতন মহল।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

বাস দুর্ঘটনার পর মেরামত হলেও প্রশ্ন রয়ে গেছে নির্মাণমান নিয়ে।

আপডেট সময় ০৪:২১:০৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬

বিপ্লব তালুকদার : নাটোর জেলা প্রতিনিধি

নাটোরের সিংড়া উপজেলার বিয়াশ–রাতাল সড়কে বাস দুর্ঘটনার পর ক্ষতিগ্রস্ত অংশ মেরামত করেছে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)। শনিবার (১৮ জুলাই) বিকেলে মেরামতকাজ শেষ হওয়ার পর বর্তমানে সড়কটিতে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। তবে সাময়িক সংস্কারে সন্তুষ্ট নন স্থানীয়রা। তাদের দাবি পুরো সড়কের নির্মাণমান নিরপেক্ষভাবে যাচাই করে অনিয়মের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হোক।

গত শুক্রবার (১৭ জুলাই) বিকেলে জামতলী বাজার–বামিহাল বাজার সংযোগ সড়কের রাতাল বাজার–বিয়াশ বাজার অংশে প্রায় ৬০ জন যাত্রী নিয়ে চলাচলকারী একটি বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশের জলাশয়ের কিনারে হেলে পড়ে। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য সড়কের পাশের নরম মাটি ও নির্মাণত্রুটির কারণে বাসটির একটি চাকা রাস্তার বাইরে চলে যায়। মুহূর্তেই আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লেও স্থানীয়দের দ্রুত সহযোগিতায় বাসের সব যাত্রীকে নিরাপদে উদ্ধার করা সম্ভব হয়। সৌভাগ্যক্রমে এ ঘটনায় কেউ হতাহত হননি।

দুর্ঘটনার পরই নতুন করে সামনে আসে দীর্ঘদিনের অভিযোগ। স্থানীয়দের দাবি প্রায় ৭ কিলোমিটার দীর্ঘ এ সড়কের নির্মাণকাজ শুরু থেকেই নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার ও নানা অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। এর আগে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর পরিদর্শনে এসব অনিয়মের সত্যতা পাওয়া গেলে নির্মাণকাজ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়। সে সময় ঠিকাদারসহ দুজনকে আটক করা হলেও পরে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়।

এলাকাবাসীর অভিযোগ বিষয়টি একাধিকবার উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলীকে জানানো হলেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ফলে সামান্য বৃষ্টি বা ভারী যান চলাচলের পরই সড়কের বিভিন্ন অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে যা জননিরাপত্তার জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করছে।

উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলী মো. খলিলুর রহমান জানান শনিবার বিকেলেই ক্ষতিগ্রস্ত অংশের মেরামতকাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। বর্তমানে সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে এবং কোনো ঝুঁকি নেই। তিনি বলেন অতিরিক্ত বৃষ্টিপাত এবং স্থানীয়ভাবে ট্রাকে পানি পরিবহনের কারণে সড়কের কিছু অংশ বারবার ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। প্রয়োজন অনুযায়ী দ্রুত সংস্কার করা হচ্ছে।

তবে স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে শুধু ক্ষতিগ্রস্ত অংশে সংস্কার করলেই সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে না। তারা পুরো প্রকল্পের নির্মাণমান নিরপেক্ষভাবে পরীক্ষা দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনা এবং ভবিষ্যতে যেন এমন ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি না হয় সে জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন।

সড়কটি এলাকার গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগপথ হওয়ায় প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ ও যানবাহন চলাচল করে। তাই জননিরাপত্তার স্বার্থে নির্মাণকাজের মান নিশ্চিত করা এবং অভিযোগগুলোর স্বচ্ছ তদন্ত এখন সময়ের দাবি বলে মনে করছেন সচেতন মহল।