যুক্তরাষ্ট্রে মানবিক সুরক্ষা কর্মসূচি (টেম্পোরারি প্রোটেক্টেড স্ট্যাটাস-টিপিএস) আওতাভুক্ত কয়েক লাখ বিদেশি নাগরিকের চাকরি ও বসবাসের ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। দেশটির সরকার নিয়োগকর্তাদের কাছে নতুন নির্দেশনা পাঠিয়ে নির্ধারিত সময়ের পর সংশ্লিষ্ট কর্মীদের কাজের অনুমতি আর কার্যকর থাকবে না বলে জানিয়েছে।
নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, হাইতির নাগরিকদের কাজের অনুমতির মেয়াদ শেষ হবে ২৪ জুলাই। আর ইথিওপিয়া, মিয়ানমার, সোমালিয়া, দক্ষিণ সুদান, সিরিয়া ও ইয়েমেনের নাগরিকদের ক্ষেত্রে সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে ১৭ জুলাই পর্যন্ত।
সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট এক রায়ে হাইতি ও সিরিয়ার নাগরিকদের টিপিএস সুবিধা বাতিলের ক্ষমতা ট্রাম্প প্রশাসনের হাতে বহাল রাখে। এরপরই সরকার নতুন এই পদক্ষেপ নেয়। সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে হাজার হাজার মানুষ চাকরি হারানোর পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রে থাকার বৈধতাও হারানোর ঝুঁকিতে পড়বেন।
বর্তমানে প্রায় ৩ লাখ ৩০ হাজার হাইতির এবং ৬ হাজারের বেশি সিরিয়ার নাগরিক টিপিএসের আওতায় যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন। এছাড়া ইথিওপিয়া, মিয়ানমার, সোমালিয়া, দক্ষিণ সুদান ও ইয়েমেনের প্রায় ২০ হাজার নাগরিকও এই কর্মসূচির সুবিধা পাচ্ছেন।
অভিবাসন বিশেষজ্ঞদের মতে, কাজের অনুমতির সময়সীমা বারবার পরিবর্তন হওয়ায় অনেক নিয়োগকর্তা বিভ্রান্ত হয়েছেন। কেউ কেউ আইনি জটিলতার আশঙ্কায় আগেভাগেই কর্মীদের চাকরি থেকে অব্যাহতি দিয়েছেন, আবার কেউ আদালতের পরবর্তী নির্দেশনার অপেক্ষায় ছিলেন।
এই সিদ্ধান্তের প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়তে পারে স্বাস্থ্যসেবা, বৃদ্ধাশ্রম, নির্মাণ, উৎপাদন ও পরিবহন খাতে, যেখানে বিপুলসংখ্যক টিপিএসধারী কর্মী নিয়োজিত রয়েছেন। শ্রমিক সংকট তৈরি হওয়ার আশঙ্কাও উড়িয়ে দিচ্ছেন না বিশ্লেষকরা।
অন্যদিকে অভিবাসী অধিকারকর্মীরা বলছেন, যেসব দেশের নাগরিকরা এই সুবিধা পান, তাদের অনেকের নিজ দেশে এখনো যুদ্ধ, সংঘাত কিংবা মানবিক সংকট চলছে। তাই এই সুরক্ষা তুলে দিলে হাজারো মানুষ নতুন করে অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়বেন।
উল্লেখ্য, ১৯৯০ সালে চালু হওয়া টিপিএস কর্মসূচির মাধ্যমে যুদ্ধ, প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা গুরুতর সংকটে থাকা দেশের নাগরিকদের অস্থায়ীভাবে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস ও কাজের সুযোগ দেওয়া হয়। তবে ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, বছরের পর বছর মেয়াদ বাড়ানোর ফলে অস্থায়ী এই কর্মসূচি বাস্তবে দীর্ঘমেয়াদি অভিবাসনের পথ হয়ে উঠেছে।