মেরিনোর জাদুতে বেলজিয়ামকে বিদায়, ১৬ বছর পর বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে স্পেন
স্পেনের বিশ্বকাপ স্বপ্ন আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল। লস অ্যাঞ্জেলসের সোফি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় কোয়ার্টার-ফাইনালে বেলজিয়ামকে ২-১ গোলে হারিয়ে দীর্ঘ ১৬ বছর পর আবারও বিশ্বকাপের শেষ চারে জায়গা করে নিয়েছে লা রোহা।
ম্যাচের শুরু থেকেই বলের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের দখলে রাখে স্পেন। ৬৫ শতাংশেরও বেশি সময় বল নিজেদের কাছে রেখে একের পর এক আক্রমণ চালায় তারা। পুরো ম্যাচে স্পেন ১৭টি শট নেয়, যার মধ্যে আটটি ছিল লক্ষ্যে। বিপরীতে বেলজিয়াম মাত্র পাঁচটি শট নিতে সক্ষম হয় এবং তার মধ্যে দুটি ছিল গোলমুখে।
প্রথমার্ধে বেশ কিছু সুযোগ তৈরি করলেও ৩০তম মিনিটে এগিয়ে যায় স্পেন। দারুণ আক্রমণের ধারাবাহিকতায় গোলরক্ষকের ফেরানো বল পেয়ে ফাবিয়ান রুইস জোরালো শটে জাল খুঁজে নেন এবং বিশ্বকাপে নিজের প্রথম গোলের দেখা পান।
তবে পিছিয়ে থেকেও দ্রুত ঘুরে দাঁড়ায় বেলজিয়াম। ৪১তম মিনিটে টিমোথি ক্যাস্তানির নিখুঁত ক্রস থেকে শার্লে ডে কেটলারে হেডে গোল করে ম্যাচে সমতা ফেরান। প্রথমার্ধ শেষ হয় ১-১ সমতায়।
বিরতির পর স্পেন আরও আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে। ইয়ামাল, ওয়ারসাবাল ও অন্যদের একাধিক প্রচেষ্টা দুর্দান্তভাবে ঠেকিয়ে দেন বেলজিয়ামের গোলরক্ষক থিবো কোর্তোয়া। আন্তর্জাতিক ফুটবলের সর্বশেষ খবর অনুযায়ী, চোটের কারণে ম্যাচের শেষ দিকে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন তিনি, যা বেলজিয়ামের জন্য বড় ধাক্কা হয়ে আসে।
৭৯তম মিনিটে বদলি হিসেবে মাঠে নামানো হয় নিকো উইলিয়ামসকে। এরপর আরেক বদলি মিকেল মেরিনো নামেন মাঠে এবং মাত্র দুই মিনিটের মধ্যেই ম্যাচের ভাগ্য বদলে দেন। প্রতিপক্ষ গোলরক্ষকের হাত ফসকে বেরিয়ে আসা বল দ্রুত জালে পাঠিয়ে স্পেনকে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে দেন এই মিডফিল্ডার।
শেষ মুহূর্তে জেরেমি ডোকুর ক্রস থেকে সমতায় ফেরার সুযোগ পেয়েছিল বেলজিয়াম। তবে স্প্যানিশ ডিফেন্ডারদের দৃঢ়তায় সেই সম্ভাবনা নষ্ট হয়ে যায়। নির্ধারিত সময় শেষে জয় নিশ্চিত করে উল্লাসে মেতে ওঠে স্পেন।
২০১০ সালে বিশ্বকাপ জয়ের পর দীর্ঘ সময় ধরে নকআউট পর্বে হতাশার মুখ দেখেছিল স্পেন। এবার সেই অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে আবারও সেমিফাইনালে উঠেছে তারা। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে টানা ৩৬ ম্যাচ অপরাজিত থাকা স্পেন এখন ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে মুখোমুখি হবে শক্তিশালী ফ্রান্সের। ক্রীড়া বিশ্বের সর্বশেষ আপডেট অনুসারে, স্পেনের দুর্দান্ত এই ধারাবাহিকতা তাদের অন্যতম শিরোপা দাবিদারে পরিণত করেছে।


























