ঢাকা ১২:৫৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

“স্বাস্থ্যসেবাকে মৌলিক অধিকার হিসেবে প্রতিষ্ঠায় কাজ করছে সরকার: ডা. জুবাইদা রহমান”

নিজস্ব সংবাদ :

দেশের প্রতিটি মানুষের জন্য সহজলভ্য ও মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ বলে জানিয়েছেন বিশিষ্ট চিকিৎসক, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী এবং জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের সহ-সভাপতি ডা. জুবাইদা রহমান। তিনি বলেন, স্বাস্থ্য খাতের দীর্ঘদিনের সীমাবদ্ধতা ও চ্যালেঞ্জ দূর করতে পরিকল্পিতভাবে কাজ চলছে এবং এ ক্ষেত্রে তরুণদের অংশগ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

রাজধানীর গুলশানে আয়োজিত ‘দ্য পাথ টু বিকামিং অ্যা হেলথ এন্টারপ্রেনার ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক এক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ডা. জুবাইদা রহমান বলেন, দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার বর্তমান ও ভবিষ্যৎ সংকট মোকাবিলায় নতুন প্রজন্মকে স্বাস্থ্য উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। এজন্য তরুণদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ, দক্ষতা উন্নয়ন এবং অভিজ্ঞদের কাছ থেকে দিকনির্দেশনা দেওয়ার পাশাপাশি গবেষক, বিনিয়োগকারী, সরকারি প্রতিষ্ঠান এবং বেসরকারি খাতের সঙ্গে কার্যকর সংযোগ তৈরি করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে এমন একটি শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ গড়ে তুলতে হবে, যেখানে শিক্ষার্থীরা বাস্তবভিত্তিক কাজের মাধ্যমে অভিজ্ঞতা অর্জন করবে এবং বিভিন্ন বিষয়ের শিক্ষকরা সমন্বিতভাবে উদ্ভাবনী গবেষণায় অংশ নেবেন।

ভবিষ্যতের স্বাস্থ্য চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় উদ্ভাবনী চিন্তা ও নতুন উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, স্বাস্থ্য উদ্যোক্তা হওয়া কেবল ব্যবসায়িক উদ্যোগ নয়; বরং মানুষের বাস্তব সমস্যার কার্যকর সমাধান খুঁজে বের করার একটি দায়িত্বশীল প্রয়াস। সৃজনশীলতা, গবেষণালব্ধ তথ্য এবং বাস্তব অভিজ্ঞতার সমন্বয়ে স্বাস্থ্য খাতে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব।

স্বাস্থ্যসেবার ব্যয় নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে ডা. জুবাইদা রহমান জানান, বর্তমানে দেশের মানুষ চিকিৎসা ব্যয়ের বড় একটি অংশ নিজেদের অর্থ থেকেই বহন করছেন। এর ফলে অসুস্থতা অনেক পরিবারের জন্য আর্থিক সংকট ও দারিদ্র্যের অন্যতম কারণ হয়ে উঠছে।

তিনি বলেন, স্বাস্থ্যসেবা কোনো বিলাসিতা নয়, এটি প্রতিটি নাগরিকের মৌলিক অধিকার। অতীতের অব্যবস্থাপনা ও জবাবদিহিতার ঘাটতির কারণে সাধারণ মানুষকে নানা ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে। সেই পরিস্থিতির পরিবর্তনে সরকার কাজ করছে এবং প্রতিটি পরিবারের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়া অন্যতম অগ্রাধিকার হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

ডা. জুবাইদা রহমান আরও বলেন, বাংলাদেশ এখন অসংক্রামক রোগের বিস্তার, বয়স্ক জনগোষ্ঠীর সংখ্যা বৃদ্ধি, জলবায়ু পরিবর্তনের স্বাস্থ্যগত প্রভাব এবং দ্রুত নগরায়নের মতো নতুন বাস্তবতার মুখোমুখি। এসব সমস্যা এককভাবে কোনো প্রতিষ্ঠান বা সংস্থার পক্ষে সমাধান করা সম্ভব নয়। এজন্য সরকার, বেসরকারি খাত, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও উন্নয়ন অংশীদারদের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

কর্মশালায় আরও বক্তব্য দেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন এবং প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. এস. এম. জিয়াউদ্দিন হায়দার।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

“স্বাস্থ্যসেবাকে মৌলিক অধিকার হিসেবে প্রতিষ্ঠায় কাজ করছে সরকার: ডা. জুবাইদা রহমান”

আপডেট সময় ০২:৫২:৫১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৮ জুলাই ২০২৬

দেশের প্রতিটি মানুষের জন্য সহজলভ্য ও মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ বলে জানিয়েছেন বিশিষ্ট চিকিৎসক, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী এবং জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের সহ-সভাপতি ডা. জুবাইদা রহমান। তিনি বলেন, স্বাস্থ্য খাতের দীর্ঘদিনের সীমাবদ্ধতা ও চ্যালেঞ্জ দূর করতে পরিকল্পিতভাবে কাজ চলছে এবং এ ক্ষেত্রে তরুণদের অংশগ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

রাজধানীর গুলশানে আয়োজিত ‘দ্য পাথ টু বিকামিং অ্যা হেলথ এন্টারপ্রেনার ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক এক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ডা. জুবাইদা রহমান বলেন, দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার বর্তমান ও ভবিষ্যৎ সংকট মোকাবিলায় নতুন প্রজন্মকে স্বাস্থ্য উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। এজন্য তরুণদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ, দক্ষতা উন্নয়ন এবং অভিজ্ঞদের কাছ থেকে দিকনির্দেশনা দেওয়ার পাশাপাশি গবেষক, বিনিয়োগকারী, সরকারি প্রতিষ্ঠান এবং বেসরকারি খাতের সঙ্গে কার্যকর সংযোগ তৈরি করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে এমন একটি শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ গড়ে তুলতে হবে, যেখানে শিক্ষার্থীরা বাস্তবভিত্তিক কাজের মাধ্যমে অভিজ্ঞতা অর্জন করবে এবং বিভিন্ন বিষয়ের শিক্ষকরা সমন্বিতভাবে উদ্ভাবনী গবেষণায় অংশ নেবেন।

ভবিষ্যতের স্বাস্থ্য চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় উদ্ভাবনী চিন্তা ও নতুন উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, স্বাস্থ্য উদ্যোক্তা হওয়া কেবল ব্যবসায়িক উদ্যোগ নয়; বরং মানুষের বাস্তব সমস্যার কার্যকর সমাধান খুঁজে বের করার একটি দায়িত্বশীল প্রয়াস। সৃজনশীলতা, গবেষণালব্ধ তথ্য এবং বাস্তব অভিজ্ঞতার সমন্বয়ে স্বাস্থ্য খাতে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব।

স্বাস্থ্যসেবার ব্যয় নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে ডা. জুবাইদা রহমান জানান, বর্তমানে দেশের মানুষ চিকিৎসা ব্যয়ের বড় একটি অংশ নিজেদের অর্থ থেকেই বহন করছেন। এর ফলে অসুস্থতা অনেক পরিবারের জন্য আর্থিক সংকট ও দারিদ্র্যের অন্যতম কারণ হয়ে উঠছে।

তিনি বলেন, স্বাস্থ্যসেবা কোনো বিলাসিতা নয়, এটি প্রতিটি নাগরিকের মৌলিক অধিকার। অতীতের অব্যবস্থাপনা ও জবাবদিহিতার ঘাটতির কারণে সাধারণ মানুষকে নানা ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে। সেই পরিস্থিতির পরিবর্তনে সরকার কাজ করছে এবং প্রতিটি পরিবারের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়া অন্যতম অগ্রাধিকার হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

ডা. জুবাইদা রহমান আরও বলেন, বাংলাদেশ এখন অসংক্রামক রোগের বিস্তার, বয়স্ক জনগোষ্ঠীর সংখ্যা বৃদ্ধি, জলবায়ু পরিবর্তনের স্বাস্থ্যগত প্রভাব এবং দ্রুত নগরায়নের মতো নতুন বাস্তবতার মুখোমুখি। এসব সমস্যা এককভাবে কোনো প্রতিষ্ঠান বা সংস্থার পক্ষে সমাধান করা সম্ভব নয়। এজন্য সরকার, বেসরকারি খাত, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও উন্নয়ন অংশীদারদের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

কর্মশালায় আরও বক্তব্য দেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন এবং প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. এস. এম. জিয়াউদ্দিন হায়দার।