ঢাকা ০৫:৫৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

‘মেসিকে বাঁচাতেই অন্যায়?’—মিসরের অভিযোগের জবাবে সাবেক রেফারির বিশ্লেষণ

নিজস্ব সংবাদ :

বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে আর্জেন্টিনার কাছে ৩-২ গোলে হেরে বিদায় নেওয়ার পর রেফারিং ও ভিএআরের একাধিক সিদ্ধান্ত নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছে মিসর। বিশেষ করে দ্বিতীয়ার্ধে বাতিল হওয়া একটি গোল এবং আর্জেন্টিনার জয়সূচক গোলের আগে সম্ভাব্য ফাউল না দেওয়াকে কেন্দ্র করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

মিসরের প্রধান কোচ হোসাম হাসান দাবি করেন, তাঁর দলের সঙ্গে অবিচার করা হয়েছে। এমনকি তিনি মন্তব্য করেন, আর্জেন্টিনা ও লিওনেল মেসিকে বিশ্বকাপে টিকিয়ে রাখতেই হয়তো এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে বাতিল হওয়া গোলের নায়ক মোস্তফা জিকো ক্ষোভ প্রকাশ করে ম্যাচ পরিচালনাকারী রেফারিকে কঠোর ভাষায় সমালোচনা করেন।

তবে এই বিতর্কে ভিন্ন ব্যাখ্যা দিয়েছেন দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞ সাবেক রেফারি ও সাবেক ভিএআর কর্মকর্তা অ্যান্ডি ডেভিস। ক্রীড়াভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ইএসপিএনের বিশ্লেষণে তিনি ম্যাচের দুটি আলোচিত সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যা তুলে ধরেছেন।

ডেভিসের মতে, ৬২তম মিনিটে মোস্তফা জিকোর অসাধারণ গোলটি বাতিল করার সিদ্ধান্ত ছিল ফুটবলের আইন অনুযায়ী সঠিক। কারণ, গোল হওয়ার আগে একই আক্রমণপর্বে মিসরের ডিফেন্ডার মারওয়ান আত্তিয়া আর্জেন্টিনার লিসান্দ্রো মার্তিনেজের জার্সি টেনে ধরেন এবং একই সঙ্গে তাঁর পায়ের ওপর পা রাখেন। এই দুটি ঘটনাই ফাউল হিসেবে গণ্য হয়। যেহেতু সেই ফাউলের ধারাবাহিকতায় গোলটি আসে, তাই ভিএআরের হস্তক্ষেপ এবং গোল বাতিল—দুটিই যথাযথ ছিল বলে মত দেন তিনি।

ম্যাচের শেষ দিকে আর্জেন্টিনার জয়সূচক গোলের আগে মিসর দুটি ফাউলের দাবি তোলে। প্রথম ঘটনায় হামদি ফাতির জার্সি টানার অভিযোগ ওঠে, আর দ্বিতীয় ঘটনায় মোহাম্মদ সালাহ দাবি করেন, পেনাল্টি বক্সে তাঁকে ফাউল করা হয়েছে। কিন্তু মাঠের রেফারি খেলা চালিয়ে যেতে বলেন এবং ভিএআরও সেই সিদ্ধান্ত বহাল রাখে।

ডেভিসের বিশ্লেষণে বলা হয়, ম্যাক অ্যালিস্টারের জার্সি টানার ঘটনাটি খুব অল্প সময়ের জন্য হয়েছিল এবং এতে প্রতিপক্ষের বল খেলার সুযোগ উল্লেখযোগ্যভাবে বাধাগ্রস্ত হয়নি। তাই সেটিকে পেনাল্টিযোগ্য ফাউল হিসেবে বিবেচনা করার সুযোগ ছিল না।

সালাহর দাবিকৃত ফাউল নিয়েও একই মত দেন তিনি। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, সেখানে দুই খেলোয়াড়ের বুট স্বাভাবিকভাবেই একে অপরের সঙ্গে স্পর্শ করে, যা খেলার গতির অংশ। আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়ের পক্ষ থেকে স্পষ্ট কোনো অবৈধ চ্যালেঞ্জ ছিল না, তাই পেনাল্টি না দেওয়ার সিদ্ধান্তও সঠিক ছিল।

শেষ পর্যন্ত ডেভিসের মূল্যায়ন, ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তগুলোতে রেফারি ও ভিএআর কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হলেও ফুটবলের প্রচলিত আইন অনুযায়ী তারা সঠিক সিদ্ধান্তই নিয়েছেন। ফলে মিসরের ক্ষোভ থাকলেও বিতর্কিত দুটি সিদ্ধান্তে ম্যাচ কর্মকর্তাদের অবস্থানকে তিনি যৌক্তিক বলেই মনে করেন।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

‘মেসিকে বাঁচাতেই অন্যায়?’—মিসরের অভিযোগের জবাবে সাবেক রেফারির বিশ্লেষণ

আপডেট সময় ০২:৩০:৪৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৮ জুলাই ২০২৬

বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে আর্জেন্টিনার কাছে ৩-২ গোলে হেরে বিদায় নেওয়ার পর রেফারিং ও ভিএআরের একাধিক সিদ্ধান্ত নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছে মিসর। বিশেষ করে দ্বিতীয়ার্ধে বাতিল হওয়া একটি গোল এবং আর্জেন্টিনার জয়সূচক গোলের আগে সম্ভাব্য ফাউল না দেওয়াকে কেন্দ্র করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

মিসরের প্রধান কোচ হোসাম হাসান দাবি করেন, তাঁর দলের সঙ্গে অবিচার করা হয়েছে। এমনকি তিনি মন্তব্য করেন, আর্জেন্টিনা ও লিওনেল মেসিকে বিশ্বকাপে টিকিয়ে রাখতেই হয়তো এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে বাতিল হওয়া গোলের নায়ক মোস্তফা জিকো ক্ষোভ প্রকাশ করে ম্যাচ পরিচালনাকারী রেফারিকে কঠোর ভাষায় সমালোচনা করেন।

তবে এই বিতর্কে ভিন্ন ব্যাখ্যা দিয়েছেন দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞ সাবেক রেফারি ও সাবেক ভিএআর কর্মকর্তা অ্যান্ডি ডেভিস। ক্রীড়াভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ইএসপিএনের বিশ্লেষণে তিনি ম্যাচের দুটি আলোচিত সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যা তুলে ধরেছেন।

ডেভিসের মতে, ৬২তম মিনিটে মোস্তফা জিকোর অসাধারণ গোলটি বাতিল করার সিদ্ধান্ত ছিল ফুটবলের আইন অনুযায়ী সঠিক। কারণ, গোল হওয়ার আগে একই আক্রমণপর্বে মিসরের ডিফেন্ডার মারওয়ান আত্তিয়া আর্জেন্টিনার লিসান্দ্রো মার্তিনেজের জার্সি টেনে ধরেন এবং একই সঙ্গে তাঁর পায়ের ওপর পা রাখেন। এই দুটি ঘটনাই ফাউল হিসেবে গণ্য হয়। যেহেতু সেই ফাউলের ধারাবাহিকতায় গোলটি আসে, তাই ভিএআরের হস্তক্ষেপ এবং গোল বাতিল—দুটিই যথাযথ ছিল বলে মত দেন তিনি।

ম্যাচের শেষ দিকে আর্জেন্টিনার জয়সূচক গোলের আগে মিসর দুটি ফাউলের দাবি তোলে। প্রথম ঘটনায় হামদি ফাতির জার্সি টানার অভিযোগ ওঠে, আর দ্বিতীয় ঘটনায় মোহাম্মদ সালাহ দাবি করেন, পেনাল্টি বক্সে তাঁকে ফাউল করা হয়েছে। কিন্তু মাঠের রেফারি খেলা চালিয়ে যেতে বলেন এবং ভিএআরও সেই সিদ্ধান্ত বহাল রাখে।

ডেভিসের বিশ্লেষণে বলা হয়, ম্যাক অ্যালিস্টারের জার্সি টানার ঘটনাটি খুব অল্প সময়ের জন্য হয়েছিল এবং এতে প্রতিপক্ষের বল খেলার সুযোগ উল্লেখযোগ্যভাবে বাধাগ্রস্ত হয়নি। তাই সেটিকে পেনাল্টিযোগ্য ফাউল হিসেবে বিবেচনা করার সুযোগ ছিল না।

সালাহর দাবিকৃত ফাউল নিয়েও একই মত দেন তিনি। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, সেখানে দুই খেলোয়াড়ের বুট স্বাভাবিকভাবেই একে অপরের সঙ্গে স্পর্শ করে, যা খেলার গতির অংশ। আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়ের পক্ষ থেকে স্পষ্ট কোনো অবৈধ চ্যালেঞ্জ ছিল না, তাই পেনাল্টি না দেওয়ার সিদ্ধান্তও সঠিক ছিল।

শেষ পর্যন্ত ডেভিসের মূল্যায়ন, ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তগুলোতে রেফারি ও ভিএআর কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হলেও ফুটবলের প্রচলিত আইন অনুযায়ী তারা সঠিক সিদ্ধান্তই নিয়েছেন। ফলে মিসরের ক্ষোভ থাকলেও বিতর্কিত দুটি সিদ্ধান্তে ম্যাচ কর্মকর্তাদের অবস্থানকে তিনি যৌক্তিক বলেই মনে করেন।