ঢাকা ১০:২৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

১০ বছর পর বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরি মামলায় চার্জশিট, অভিযুক্ত ৬৪ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান

নিজস্ব সংবাদ :

এক দশক আগে বিশ্বজুড়ে আলোড়ন তোলা বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির ঘটনায় অবশেষে তদন্তে বড় অগ্রগতির দাবি করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। দীর্ঘ ১০ বছরের তদন্ত শেষে সংস্থাটি প্রায় ১০ হাজার পৃষ্ঠার একটি খসড়া চার্জশিট প্রস্তুত করেছে।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, খসড়া চার্জশিটে সাবেক গভর্নর ড. আতিউর রহমানসহ বাংলাদেশ ব্যাংকের ৯ কর্মকর্তা, একজন বেসরকারি ব্যাংকার এবং ৫৪ জন বিদেশি নাগরিক ও প্রতিষ্ঠানের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। সব মিলিয়ে অভিযুক্তের সংখ্যা ৬৪।

যেভাবে ঘটেছিল রিজার্ভ চুরি

২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে সাইবার হামলার মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংকের যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকে সংরক্ষিত হিসাব থেকে অর্থ সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চালানো হয়। হ্যাকাররা ম্যালওয়্যার ও ফিশিং কৌশল ব্যবহার করে দীর্ঘ সময় ধরে ব্যাংকের নেটওয়ার্কে প্রবেশাধিকার ধরে রাখে।

পরে ব্যাংকের ছুটির দিনে জাল সুইফট (SWIFT) বার্তা পাঠিয়ে অর্থ স্থানান্তরের চেষ্টা করা হয়। একটি বানানগত ত্রুটির কারণে বিপুল পরিমাণ অর্থ স্থানান্তর ব্যর্থ হলেও প্রায় ৮১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৮০০ কোটি টাকা) ফিলিপাইনে পৌঁছে যায়। এর একটি অংশ শ্রীলঙ্কায় গেলেও পরে তা উদ্ধার করা সম্ভব হয়।

চুরি হওয়া অর্থের বড় অংশ ফিলিপাইনের ক্যাসিনো খাতে চলে যায়। বিভিন্ন পর্যায়ে কিছু অর্থ ফেরত এলেও এখনো উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।

তদন্তে যা উঠে এসেছে

সিআইডির দাবি, অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে দায়িত্বে অবহেলা, নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতা এবং ঘটনার পর যথাসময়ে কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়ার অভিযোগের প্রমাণ মিলেছে।

তদন্তে আরও অভিযোগ করা হয়েছে, ঘটনার তথ্য দীর্ঘ সময় গোপন রাখা হয়েছিল। এ সময়ে গুরুত্বপূর্ণ ডিজিটাল আলামত নষ্ট হওয়ায় তদন্ত জটিল হয়ে পড়ে। এছাড়া অনুমোদনহীন একটি বিদেশি আইটি প্রতিষ্ঠান এবং এক দেশীয় ব্যক্তির মাধ্যমে ব্যাংকের সিস্টেমে প্রবেশ করে তথ্য নষ্ট করার অভিযোগও তদন্তে উল্লেখ করা হয়েছে।

যাদের নাম এসেছে

খসড়া চার্জশিটে সাবেক গভর্নর ড. আতিউর রহমান ছাড়াও বাংলাদেশ ব্যাংকের কয়েকজন সাবেক ও বর্তমান কর্মকর্তার নাম রয়েছে। এছাড়া তৎকালীন একটি বেসরকারি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালককেও অভিযুক্ত করা হয়েছে।

বিদেশি নাগরিকও অভিযুক্ত

সিআইডির তদন্তে উত্তর কোরিয়াভিত্তিক হ্যাকার সংগঠন লাজারাস গ্রুপের সদস্য পার্ক জিন হিয়ককে (Park Jin Hyok) এই সাইবার হামলার মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি ফিলিপাইন, শ্রীলঙ্কা, ভারত, চীন ও জাপানের মোট ৫৪ জন বিদেশি নাগরিক ও প্রতিষ্ঠানের নামও খসড়া চার্জশিটে যুক্ত করা হয়েছে।

পরবর্তী প্রক্রিয়া

বর্তমান তদন্ত কর্মকর্তা খসড়া চার্জশিটটি আইনি মতামতের জন্য অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ে পাঠিয়েছেন। আইনি পর্যালোচনা শেষে আদালতে আনুষ্ঠানিক চার্জশিট দাখিল করা হবে। এরপর মামলার বিচারিক কার্যক্রম শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

১০ বছর পর বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরি মামলায় চার্জশিট, অভিযুক্ত ৬৪ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান

আপডেট সময় ১১:৫৪:৩৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৬ জুলাই ২০২৬

এক দশক আগে বিশ্বজুড়ে আলোড়ন তোলা বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির ঘটনায় অবশেষে তদন্তে বড় অগ্রগতির দাবি করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। দীর্ঘ ১০ বছরের তদন্ত শেষে সংস্থাটি প্রায় ১০ হাজার পৃষ্ঠার একটি খসড়া চার্জশিট প্রস্তুত করেছে।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, খসড়া চার্জশিটে সাবেক গভর্নর ড. আতিউর রহমানসহ বাংলাদেশ ব্যাংকের ৯ কর্মকর্তা, একজন বেসরকারি ব্যাংকার এবং ৫৪ জন বিদেশি নাগরিক ও প্রতিষ্ঠানের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। সব মিলিয়ে অভিযুক্তের সংখ্যা ৬৪।

যেভাবে ঘটেছিল রিজার্ভ চুরি

২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে সাইবার হামলার মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংকের যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকে সংরক্ষিত হিসাব থেকে অর্থ সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চালানো হয়। হ্যাকাররা ম্যালওয়্যার ও ফিশিং কৌশল ব্যবহার করে দীর্ঘ সময় ধরে ব্যাংকের নেটওয়ার্কে প্রবেশাধিকার ধরে রাখে।

পরে ব্যাংকের ছুটির দিনে জাল সুইফট (SWIFT) বার্তা পাঠিয়ে অর্থ স্থানান্তরের চেষ্টা করা হয়। একটি বানানগত ত্রুটির কারণে বিপুল পরিমাণ অর্থ স্থানান্তর ব্যর্থ হলেও প্রায় ৮১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৮০০ কোটি টাকা) ফিলিপাইনে পৌঁছে যায়। এর একটি অংশ শ্রীলঙ্কায় গেলেও পরে তা উদ্ধার করা সম্ভব হয়।

চুরি হওয়া অর্থের বড় অংশ ফিলিপাইনের ক্যাসিনো খাতে চলে যায়। বিভিন্ন পর্যায়ে কিছু অর্থ ফেরত এলেও এখনো উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।

তদন্তে যা উঠে এসেছে

সিআইডির দাবি, অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে দায়িত্বে অবহেলা, নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতা এবং ঘটনার পর যথাসময়ে কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়ার অভিযোগের প্রমাণ মিলেছে।

তদন্তে আরও অভিযোগ করা হয়েছে, ঘটনার তথ্য দীর্ঘ সময় গোপন রাখা হয়েছিল। এ সময়ে গুরুত্বপূর্ণ ডিজিটাল আলামত নষ্ট হওয়ায় তদন্ত জটিল হয়ে পড়ে। এছাড়া অনুমোদনহীন একটি বিদেশি আইটি প্রতিষ্ঠান এবং এক দেশীয় ব্যক্তির মাধ্যমে ব্যাংকের সিস্টেমে প্রবেশ করে তথ্য নষ্ট করার অভিযোগও তদন্তে উল্লেখ করা হয়েছে।

যাদের নাম এসেছে

খসড়া চার্জশিটে সাবেক গভর্নর ড. আতিউর রহমান ছাড়াও বাংলাদেশ ব্যাংকের কয়েকজন সাবেক ও বর্তমান কর্মকর্তার নাম রয়েছে। এছাড়া তৎকালীন একটি বেসরকারি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালককেও অভিযুক্ত করা হয়েছে।

বিদেশি নাগরিকও অভিযুক্ত

সিআইডির তদন্তে উত্তর কোরিয়াভিত্তিক হ্যাকার সংগঠন লাজারাস গ্রুপের সদস্য পার্ক জিন হিয়ককে (Park Jin Hyok) এই সাইবার হামলার মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি ফিলিপাইন, শ্রীলঙ্কা, ভারত, চীন ও জাপানের মোট ৫৪ জন বিদেশি নাগরিক ও প্রতিষ্ঠানের নামও খসড়া চার্জশিটে যুক্ত করা হয়েছে।

পরবর্তী প্রক্রিয়া

বর্তমান তদন্ত কর্মকর্তা খসড়া চার্জশিটটি আইনি মতামতের জন্য অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ে পাঠিয়েছেন। আইনি পর্যালোচনা শেষে আদালতে আনুষ্ঠানিক চার্জশিট দাখিল করা হবে। এরপর মামলার বিচারিক কার্যক্রম শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।