ঢাকা ০৭:০৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রাখাইনে ফের যুদ্ধের আগুন, সীমান্তে কড়া নজরদারি — নতুন রোহিঙ্গা ঢলের আশঙ্কায় সতর্ক বাংলাদেশ

নিজস্ব সংবাদ :

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে নতুন করে সংঘাত তীব্র হওয়ায় বাংলাদেশ সীমান্তে আবারও রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে মংডু এলাকায় সামরিক বাহিনীর ধারাবাহিক বিমান হামলা এবং আরাকান আর্মির সঙ্গে চলমান সংঘর্ষে বহু রোহিঙ্গা পরিবার নিরাপত্তাহীন হয়ে পড়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় সীমান্তজুড়ে সতর্কতা বাড়িয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

সীমান্তবর্তী সূত্রগুলোর তথ্য অনুযায়ী, গত কয়েক দিনে মংডুতে আরাকান আর্মির বিভিন্ন অবস্থান লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালিয়েছে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী। এসব হামলায় শুধু সামরিক স্থাপনাই নয়, সাধারণ রোহিঙ্গাদের বসতবাড়িও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিস্ফোরণের তীব্রতা এতটাই ছিল যে কক্সবাজারের টেকনাফ সীমান্তবর্তী কয়েকটি এলাকায় কম্পনের মতো অনুভূত হয়েছে।

স্থানীয়দের ভাষ্য, সংঘাতের কারণে রাখাইনে বসবাসরত রোহিঙ্গাদের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। নিরাপত্তাহীনতার কারণে অনেকেই এলাকা ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে ছুটছেন। পরিস্থিতির আরও অবনতি হলে তারা বাংলাদেশমুখী হওয়ার চেষ্টা করতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

উখিয়ার একটি শরণার্থী শিবিরের রোহিঙ্গা নেতা মো. জুবায়ের জানান, বিমান হামলায় বহু ঘরবাড়ি ধ্বংস হয়েছে এবং কয়েক হাজার মানুষ নতুন করে বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। একই সঙ্গে আরাকান আর্মি ও কয়েকটি রোহিঙ্গা সশস্ত্র গোষ্ঠীর মধ্যেও সংঘর্ষের খবর পাওয়া যাচ্ছে, যা পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

শরণার্থী ইদ্রিস মিয়া বলেন, মংডুতে থাকা স্বজনদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যে জানা গেছে, সেখানে মানুষ চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে। অনেকেই ঘর থেকে বের হতে পারছেন না এবং নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজ করছেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, রাখাইনে অবস্থানরত রোহিঙ্গারা যেন নিজ দেশেই নিরাপদে থাকতে পারেন।

এদিকে নতুন করে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ায় টেকনাফ ও উখিয়ার সীমান্তবর্তী এলাকাতেও উদ্বেগ বাড়ছে। শাহপরীর দ্বীপের বাসিন্দাদের দাবি, সাম্প্রতিক বিস্ফোরণের শব্দ ও কম্পনে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের মতে, রাখাইনে সংঘাত শুরু হলেই সীমান্তবর্তী বাংলাদেশি জনগণের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়। অতীতের অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, সংঘর্ষ বাড়লে রোহিঙ্গাদের একটি অংশ সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশের চেষ্টা করে। এবারও একই ধরনের পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে বলে তারা মনে করছেন।

তবে সম্ভাব্য যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় সীমান্তে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বিজিবি। অতিরিক্ত টহল, সীমান্তজুড়ে নিবিড় নজরদারি এবং নাফ নদীতে নৌ টহল জোরদার করা হয়েছে। বিজিবির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সীমান্ত পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং যেকোনো ধরনের অনুপ্রবেশ ঠেকাতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

রাখাইনে ফের যুদ্ধের আগুন, সীমান্তে কড়া নজরদারি — নতুন রোহিঙ্গা ঢলের আশঙ্কায় সতর্ক বাংলাদেশ

আপডেট সময় ০২:৩৬:২৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৫ জুলাই ২০২৬

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে নতুন করে সংঘাত তীব্র হওয়ায় বাংলাদেশ সীমান্তে আবারও রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে মংডু এলাকায় সামরিক বাহিনীর ধারাবাহিক বিমান হামলা এবং আরাকান আর্মির সঙ্গে চলমান সংঘর্ষে বহু রোহিঙ্গা পরিবার নিরাপত্তাহীন হয়ে পড়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় সীমান্তজুড়ে সতর্কতা বাড়িয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

সীমান্তবর্তী সূত্রগুলোর তথ্য অনুযায়ী, গত কয়েক দিনে মংডুতে আরাকান আর্মির বিভিন্ন অবস্থান লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালিয়েছে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী। এসব হামলায় শুধু সামরিক স্থাপনাই নয়, সাধারণ রোহিঙ্গাদের বসতবাড়িও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিস্ফোরণের তীব্রতা এতটাই ছিল যে কক্সবাজারের টেকনাফ সীমান্তবর্তী কয়েকটি এলাকায় কম্পনের মতো অনুভূত হয়েছে।

স্থানীয়দের ভাষ্য, সংঘাতের কারণে রাখাইনে বসবাসরত রোহিঙ্গাদের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। নিরাপত্তাহীনতার কারণে অনেকেই এলাকা ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে ছুটছেন। পরিস্থিতির আরও অবনতি হলে তারা বাংলাদেশমুখী হওয়ার চেষ্টা করতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

উখিয়ার একটি শরণার্থী শিবিরের রোহিঙ্গা নেতা মো. জুবায়ের জানান, বিমান হামলায় বহু ঘরবাড়ি ধ্বংস হয়েছে এবং কয়েক হাজার মানুষ নতুন করে বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। একই সঙ্গে আরাকান আর্মি ও কয়েকটি রোহিঙ্গা সশস্ত্র গোষ্ঠীর মধ্যেও সংঘর্ষের খবর পাওয়া যাচ্ছে, যা পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

শরণার্থী ইদ্রিস মিয়া বলেন, মংডুতে থাকা স্বজনদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যে জানা গেছে, সেখানে মানুষ চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে। অনেকেই ঘর থেকে বের হতে পারছেন না এবং নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজ করছেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, রাখাইনে অবস্থানরত রোহিঙ্গারা যেন নিজ দেশেই নিরাপদে থাকতে পারেন।

এদিকে নতুন করে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ায় টেকনাফ ও উখিয়ার সীমান্তবর্তী এলাকাতেও উদ্বেগ বাড়ছে। শাহপরীর দ্বীপের বাসিন্দাদের দাবি, সাম্প্রতিক বিস্ফোরণের শব্দ ও কম্পনে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের মতে, রাখাইনে সংঘাত শুরু হলেই সীমান্তবর্তী বাংলাদেশি জনগণের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়। অতীতের অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, সংঘর্ষ বাড়লে রোহিঙ্গাদের একটি অংশ সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশের চেষ্টা করে। এবারও একই ধরনের পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে বলে তারা মনে করছেন।

তবে সম্ভাব্য যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় সীমান্তে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বিজিবি। অতিরিক্ত টহল, সীমান্তজুড়ে নিবিড় নজরদারি এবং নাফ নদীতে নৌ টহল জোরদার করা হয়েছে। বিজিবির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সীমান্ত পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং যেকোনো ধরনের অনুপ্রবেশ ঠেকাতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।