ঢাকা ০৫:২০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ডেঙ্গুর থাবা বিশ্বজুড়ে: ছয় মাসেই কোটি কোটি আক্রান্ত, কী করবেন আর কী করবেন না

নিজস্ব সংবাদ :

বিশ্বজুড়ে উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে ডেঙ্গুর সংক্রমণ। চলতি বছরে এখন পর্যন্ত প্রায় ১ কোটি ৪৬ লাখের বেশি মানুষ এ রোগে আক্রান্ত হয়েছেন এবং প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ১২ হাজার জন। পরিস্থিতি নিয়ে সতর্ক করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO)।

সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত বিশ্বের ৯৭টি দেশ থেকে ৪০ লাখেরও বেশি ডেঙ্গু আক্রান্ত এবং তিন হাজারের বেশি মৃত্যুর তথ্য আনুষ্ঠানিকভাবে পাওয়া গেছে। তবে প্রকৃত আক্রান্তের সংখ্যা আরও অনেক বেশি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, একসময় গ্রীষ্মমণ্ডলীয় অঞ্চলে সীমাবদ্ধ থাকা ডেঙ্গু এখন ইউরোপ ও পূর্ব ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলের মতো নতুন এলাকাতেও ছড়িয়ে পড়ছে। ২০২৪ সালে ফ্রান্স, ইতালি ও স্পেনেও ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হওয়ার ঘটনা এ পরিবর্তনেরই ইঙ্গিত দেয়।

ডেঙ্গু আক্রান্তদের বেশিরভাগই এক থেকে দুই সপ্তাহের মধ্যে সুস্থ হয়ে ওঠেন। তবে কিছু ক্ষেত্রে রোগটি জটিল আকার ধারণ করে প্রাণঘাতী হতে পারে। সাধারণ লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে উচ্চমাত্রার জ্বর, তীব্র মাথাব্যথা, চোখের পেছনে ব্যথা, শরীরের পেশি ও জয়েন্টে ব্যথা, বমি বমি ভাব এবং ত্বকে র‍্যাশ।

চিকিৎসকদের মতে, সুস্থ হওয়ার পরও অনেকের শরীরে কয়েক সপ্তাহ পর্যন্ত দুর্বলতা থাকতে পারে। তবে তীব্র পেটব্যথা, বারবার বমি, শ্বাসকষ্ট, নাক বা মাড়ি দিয়ে রক্তপাত, রক্তবমি, পায়খানার সঙ্গে রক্ত, অতিরিক্ত তৃষ্ণা কিংবা শরীর ঠান্ডা ও ফ্যাকাশে হয়ে গেলে দেরি না করে দ্রুত হাসপাতালে যেতে হবে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরামর্শ অনুযায়ী, ডেঙ্গুর নির্দিষ্ট কোনো ওষুধ নেই। আক্রান্ত ব্যক্তিকে পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিতে হবে এবং বেশি করে তরল খাবার ও পানি পান করতে হবে। জ্বর বা ব্যথার জন্য চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী শুধুমাত্র প্যারাসিটামল ব্যবহার করা উচিত। তবে আইবুপ্রোফেন, অ্যাসপিরিনসহ নন-স্টেরয়েডাল অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি ওষুধ এড়িয়ে চলতে হবে, কারণ এগুলো রক্তক্ষরণের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।

ডেঙ্গু প্রতিরোধে সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো এডিস মশার বিস্তার রোধ এবং মশার কামড় থেকে নিজেকে সুরক্ষিত রাখা। যেহেতু এডিস মশা দিনের বেলাতেও সক্রিয় থাকে, তাই সারাদিনই সতর্ক থাকা জরুরি। এজন্য পুরো শরীর ঢেকে রাখে এমন পোশাক পরা, দিনের বেলায়ও মশারি ব্যবহার করা, জানালায় নেট লাগানো, প্রয়োজনে মশা প্রতিরোধক ব্যবহার করা এবং ঘর বা আশপাশে কোথাও পানি জমতে না দেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

বর্তমানে QDenga নামে একটি ডেঙ্গু টিকা কয়েকটি দেশে ব্যবহারের অনুমোদন পেয়েছে। তবে এটি মূলত ৬ থেকে ১৬ বছর বয়সী উচ্চ ঝুঁকিতে থাকা শিশু-কিশোরদের জন্য সুপারিশ করা হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ডেঙ্গুর বিস্তার ঠেকাতে ব্যক্তিগত সচেতনতার পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসন, স্বাস্থ্য বিভাগ এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ এখন সময়ের সবচেয়ে বড় প্রয়োজন।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

ডেঙ্গুর থাবা বিশ্বজুড়ে: ছয় মাসেই কোটি কোটি আক্রান্ত, কী করবেন আর কী করবেন না

আপডেট সময় ০৩:১২:৩৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৪ জুলাই ২০২৬

বিশ্বজুড়ে উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে ডেঙ্গুর সংক্রমণ। চলতি বছরে এখন পর্যন্ত প্রায় ১ কোটি ৪৬ লাখের বেশি মানুষ এ রোগে আক্রান্ত হয়েছেন এবং প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ১২ হাজার জন। পরিস্থিতি নিয়ে সতর্ক করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO)।

সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত বিশ্বের ৯৭টি দেশ থেকে ৪০ লাখেরও বেশি ডেঙ্গু আক্রান্ত এবং তিন হাজারের বেশি মৃত্যুর তথ্য আনুষ্ঠানিকভাবে পাওয়া গেছে। তবে প্রকৃত আক্রান্তের সংখ্যা আরও অনেক বেশি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, একসময় গ্রীষ্মমণ্ডলীয় অঞ্চলে সীমাবদ্ধ থাকা ডেঙ্গু এখন ইউরোপ ও পূর্ব ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলের মতো নতুন এলাকাতেও ছড়িয়ে পড়ছে। ২০২৪ সালে ফ্রান্স, ইতালি ও স্পেনেও ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হওয়ার ঘটনা এ পরিবর্তনেরই ইঙ্গিত দেয়।

ডেঙ্গু আক্রান্তদের বেশিরভাগই এক থেকে দুই সপ্তাহের মধ্যে সুস্থ হয়ে ওঠেন। তবে কিছু ক্ষেত্রে রোগটি জটিল আকার ধারণ করে প্রাণঘাতী হতে পারে। সাধারণ লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে উচ্চমাত্রার জ্বর, তীব্র মাথাব্যথা, চোখের পেছনে ব্যথা, শরীরের পেশি ও জয়েন্টে ব্যথা, বমি বমি ভাব এবং ত্বকে র‍্যাশ।

চিকিৎসকদের মতে, সুস্থ হওয়ার পরও অনেকের শরীরে কয়েক সপ্তাহ পর্যন্ত দুর্বলতা থাকতে পারে। তবে তীব্র পেটব্যথা, বারবার বমি, শ্বাসকষ্ট, নাক বা মাড়ি দিয়ে রক্তপাত, রক্তবমি, পায়খানার সঙ্গে রক্ত, অতিরিক্ত তৃষ্ণা কিংবা শরীর ঠান্ডা ও ফ্যাকাশে হয়ে গেলে দেরি না করে দ্রুত হাসপাতালে যেতে হবে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরামর্শ অনুযায়ী, ডেঙ্গুর নির্দিষ্ট কোনো ওষুধ নেই। আক্রান্ত ব্যক্তিকে পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিতে হবে এবং বেশি করে তরল খাবার ও পানি পান করতে হবে। জ্বর বা ব্যথার জন্য চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী শুধুমাত্র প্যারাসিটামল ব্যবহার করা উচিত। তবে আইবুপ্রোফেন, অ্যাসপিরিনসহ নন-স্টেরয়েডাল অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি ওষুধ এড়িয়ে চলতে হবে, কারণ এগুলো রক্তক্ষরণের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।

ডেঙ্গু প্রতিরোধে সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো এডিস মশার বিস্তার রোধ এবং মশার কামড় থেকে নিজেকে সুরক্ষিত রাখা। যেহেতু এডিস মশা দিনের বেলাতেও সক্রিয় থাকে, তাই সারাদিনই সতর্ক থাকা জরুরি। এজন্য পুরো শরীর ঢেকে রাখে এমন পোশাক পরা, দিনের বেলায়ও মশারি ব্যবহার করা, জানালায় নেট লাগানো, প্রয়োজনে মশা প্রতিরোধক ব্যবহার করা এবং ঘর বা আশপাশে কোথাও পানি জমতে না দেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

বর্তমানে QDenga নামে একটি ডেঙ্গু টিকা কয়েকটি দেশে ব্যবহারের অনুমোদন পেয়েছে। তবে এটি মূলত ৬ থেকে ১৬ বছর বয়সী উচ্চ ঝুঁকিতে থাকা শিশু-কিশোরদের জন্য সুপারিশ করা হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ডেঙ্গুর বিস্তার ঠেকাতে ব্যক্তিগত সচেতনতার পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসন, স্বাস্থ্য বিভাগ এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ এখন সময়ের সবচেয়ে বড় প্রয়োজন।