ঢাকা ০৫:৫৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিশ্বকাপ থেকে ইরানের বিদায়ের জেরে ফিফার বিরুদ্ধে ১০০ কোটি ডলারের মামলা

নিজস্ব সংবাদ :

ভিএআরের সিদ্ধান্ত, ভিসা জটিলতা ও বৈষম্যের অভিযোগ; ৯ কোটি ১০ লাখ ইরানির পক্ষে ক্ষতিপূরণ দাবি

ইরানের ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ থেকে বিদায়কে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফার বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের একটি আদালতে ১০০ কোটি মার্কিন ডলার ক্ষতিপূরণ দাবি করে মামলা করা হয়েছে। মামলাটি করেছেন ইরানি-আমেরিকান গবেষক ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষক লোতফোল্লাহ কাওয়েহ আফরাসিয়াবি। তিনি দাবি করেছেন, প্রায় ৯ কোটি ১০ লাখ ইরানির স্বার্থে এই আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টন ফেডারেল আদালতে দায়ের করা মামলায় ফিফার সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোকেও বিবাদী করা হয়েছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট-এর বরাত দিয়ে ব্রাজিলের গণমাধ্যম গ্লোবো এস্পোর্তে এ তথ্য জানিয়েছে।

মামলার নথিতে অভিযোগ করা হয়েছে, মিসরের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে ইরানের ডিফেন্ডার শোজায়ে খলিলজাদেহর করা একটি গোল ভিএআরের মাধ্যমে অফসাইডের অজুহাতে বাতিল করা হয়। আফরাসিয়াবির দাবি, ওই সিদ্ধান্ত ছিল অন্যায্য এবং গোলটি বহাল থাকলে ইরান নকআউট পর্বে জায়গা করে নিতে পারত।

এছাড়া মামলায় বলা হয়েছে, পুরো টুর্নামেন্টজুড়েই ইরান দল বৈষম্যমূলক আচরণের শিকার হয়েছে। দলের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে আবাসনের অনুমতি না পাওয়া, অনুশীলন ক্যাম্প মেক্সিকোতে স্থানান্তর করতে বাধ্য হওয়া এবং দলের ১১ সদস্যের ভিসা প্রত্যাখ্যানের ঘটনাও অভিযোগের অংশ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

আফরাসিয়াবির ভাষ্য, এসব ঘটনার ফলে ইরান দল অন্য দলগুলোর মতো সমান সুযোগ পায়নি। তার মতে, এমন পরিস্থিতিতে প্রতিযোগিতার আয়োজক সংস্থা হিসেবে ফিফার আরও কার্যকর ভূমিকা নেওয়া উচিত ছিল।

তিনি আরও দাবি করেন, এসব সিদ্ধান্ত শুধু জাতীয় দল নয়, বিশ্বের কোটি কোটি ইরানি ও ইরানি-আমেরিকান সমর্থকের জন্যও মানসিক কষ্ট ও অপমানের কারণ হয়েছে।

৬৮ বছর বয়সী আফরাসিয়াবি আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ক বিশ্লেষক হিসেবে পরিচিত। তিনি অতীতে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেছেন এবং সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার প্রশাসনের সময় ইরানের পারমাণবিক আলোচনা-সংক্রান্ত উপদেষ্টা হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।

মামলায় সফল হলে প্রাপ্ত ক্ষতিপূরণের একটি অংশ ইরানের তরুণদের ক্রীড়া উন্নয়ন ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে ব্যয় করার পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন তিনি।

তবে এ প্রতিবেদন প্রকাশ পর্যন্ত ফিফার পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

উল্লেখ্য, এর আগে বিশ্বকাপ চলাকালে স্টেডিয়ামে ইরানের ইসলামি বিপ্লব-পূর্ব জাতীয় পতাকা প্রদর্শনের নিষেধাজ্ঞা চ্যালেঞ্জ করে করা আরেকটি মামলায় ক্যালিফোর্নিয়ার একটি আদালত ফিফার পক্ষে রায় দিয়েছিল। ফিফার নীতিমালা অনুযায়ী, বিশ্বকাপ ভেন্যুতে রাজনৈতিক বার্তা বা প্রতীক প্রদর্শনের অনুমতি নেই।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

বিশ্বকাপ থেকে ইরানের বিদায়ের জেরে ফিফার বিরুদ্ধে ১০০ কোটি ডলারের মামলা

আপডেট সময় ০৫:৪৭:২৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩ জুলাই ২০২৬

ভিএআরের সিদ্ধান্ত, ভিসা জটিলতা ও বৈষম্যের অভিযোগ; ৯ কোটি ১০ লাখ ইরানির পক্ষে ক্ষতিপূরণ দাবি

ইরানের ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ থেকে বিদায়কে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফার বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের একটি আদালতে ১০০ কোটি মার্কিন ডলার ক্ষতিপূরণ দাবি করে মামলা করা হয়েছে। মামলাটি করেছেন ইরানি-আমেরিকান গবেষক ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষক লোতফোল্লাহ কাওয়েহ আফরাসিয়াবি। তিনি দাবি করেছেন, প্রায় ৯ কোটি ১০ লাখ ইরানির স্বার্থে এই আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টন ফেডারেল আদালতে দায়ের করা মামলায় ফিফার সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোকেও বিবাদী করা হয়েছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট-এর বরাত দিয়ে ব্রাজিলের গণমাধ্যম গ্লোবো এস্পোর্তে এ তথ্য জানিয়েছে।

মামলার নথিতে অভিযোগ করা হয়েছে, মিসরের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে ইরানের ডিফেন্ডার শোজায়ে খলিলজাদেহর করা একটি গোল ভিএআরের মাধ্যমে অফসাইডের অজুহাতে বাতিল করা হয়। আফরাসিয়াবির দাবি, ওই সিদ্ধান্ত ছিল অন্যায্য এবং গোলটি বহাল থাকলে ইরান নকআউট পর্বে জায়গা করে নিতে পারত।

এছাড়া মামলায় বলা হয়েছে, পুরো টুর্নামেন্টজুড়েই ইরান দল বৈষম্যমূলক আচরণের শিকার হয়েছে। দলের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে আবাসনের অনুমতি না পাওয়া, অনুশীলন ক্যাম্প মেক্সিকোতে স্থানান্তর করতে বাধ্য হওয়া এবং দলের ১১ সদস্যের ভিসা প্রত্যাখ্যানের ঘটনাও অভিযোগের অংশ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

আফরাসিয়াবির ভাষ্য, এসব ঘটনার ফলে ইরান দল অন্য দলগুলোর মতো সমান সুযোগ পায়নি। তার মতে, এমন পরিস্থিতিতে প্রতিযোগিতার আয়োজক সংস্থা হিসেবে ফিফার আরও কার্যকর ভূমিকা নেওয়া উচিত ছিল।

তিনি আরও দাবি করেন, এসব সিদ্ধান্ত শুধু জাতীয় দল নয়, বিশ্বের কোটি কোটি ইরানি ও ইরানি-আমেরিকান সমর্থকের জন্যও মানসিক কষ্ট ও অপমানের কারণ হয়েছে।

৬৮ বছর বয়সী আফরাসিয়াবি আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ক বিশ্লেষক হিসেবে পরিচিত। তিনি অতীতে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেছেন এবং সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার প্রশাসনের সময় ইরানের পারমাণবিক আলোচনা-সংক্রান্ত উপদেষ্টা হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।

মামলায় সফল হলে প্রাপ্ত ক্ষতিপূরণের একটি অংশ ইরানের তরুণদের ক্রীড়া উন্নয়ন ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে ব্যয় করার পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন তিনি।

তবে এ প্রতিবেদন প্রকাশ পর্যন্ত ফিফার পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

উল্লেখ্য, এর আগে বিশ্বকাপ চলাকালে স্টেডিয়ামে ইরানের ইসলামি বিপ্লব-পূর্ব জাতীয় পতাকা প্রদর্শনের নিষেধাজ্ঞা চ্যালেঞ্জ করে করা আরেকটি মামলায় ক্যালিফোর্নিয়ার একটি আদালত ফিফার পক্ষে রায় দিয়েছিল। ফিফার নীতিমালা অনুযায়ী, বিশ্বকাপ ভেন্যুতে রাজনৈতিক বার্তা বা প্রতীক প্রদর্শনের অনুমতি নেই।