ঢাকা ১২:৫৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

অনিয়ন্ত্রিত ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা—আর কত?

নিজস্ব সংবাদ :

দেশের সড়কে আজ শৃঙ্খলার চেয়ে বিশৃঙ্খলাই যেন বেশি দৃশ্যমান। যানজট, দুর্ঘটনা, ট্রাফিক আইন অমান্য এবং জনদুর্ভোগ—এসব সমস্যার অন্যতম আলোচিত কারণ হয়ে উঠেছে অনিয়ন্ত্রিত ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা। এটি কেবল একটি পরিবহনব্যবস্থার প্রশ্ন নয়; এটি জননিরাপত্তা, সড়ক শৃঙ্খলা, বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনা এবং কার্যকর রাষ্ট্র পরিচালনারও একটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু। অথচ দীর্ঘদিন ধরেই সমস্যাটি দৃশ্যমান হলেও কার্যকর উদ্যোগের অভাব প্রশ্নের জন্ম দিচ্ছে।

ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার ফলে দেশের বিদ্যুৎ ব্যবস্থার ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হচ্ছে। বিভিন্ন এলাকায় অবৈধ সংযোগ ও অননুমোদিত চার্জিং ব্যবস্থার অভিযোগ রয়েছে, যা বিদ্যুতের অপচয় ও সিস্টেমের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করে। যখন শিল্প, কৃষি ও আবাসিক খাতে বিদ্যুতের চাহিদা পূরণই একটি বড় চ্যালেঞ্জ, তখন অনিয়ন্ত্রিতভাবে এই খাতের সম্প্রসারণ জনস্বার্থের সঙ্গে কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ—সেটি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা দরকার।

সড়ক ব্যবস্থাপনায়ও এর নেতিবাচক প্রভাব স্পষ্ট। যেখানে-সেখানে যাত্রী ওঠানো-নামানো, ট্রাফিক আইন অমান্য, উল্টো পথে চলাচল এবং অদক্ষ চালনার কারণে যানজট ও দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে। নগর ও মফস্বল—উভয় এলাকাতেই সাধারণ মানুষ প্রতিদিন এর ভুক্তভোগী। উন্নত ও নিরাপদ সড়কব্যবস্থা গড়ে তুলতে হলে এই বাস্তবতা উপেক্ষা করার সুযোগ নেই।

আইনশৃঙ্খলার দিক থেকেও বিষয়টি গুরুত্বের দাবি রাখে। নিবন্ধন ও কার্যকর নজরদারির ঘাটতির সুযোগ নিয়ে কিছু অপরাধী অটোরিকশা ব্যবহার করে অপরাধ সংঘটনের চেষ্টা করে—এমন অভিযোগ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার বিভিন্ন অভিযানে উঠে এসেছে। যদিও এর অর্থ এই নয় যে সব চালক বা সব অটোরিকশা অপরাধের সঙ্গে জড়িত, তবে দুর্বল নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা যে ঝুঁকি তৈরি করে, তা অস্বীকার করার সুযোগ নেই।

এ অবস্থায় সরকারের উচিত বিষয়টিকে আর বিলম্ব না করে নীতিগতভাবে মূল্যায়ন করা। যেখানে অনিয়ন্ত্রিত ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা জনস্বার্থ, সড়ক নিরাপত্তা ও নগর ব্যবস্থাপনায় গুরুতর প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে, সেখানে কঠোর নিয়ন্ত্রণ, নিবন্ধন, নিরাপত্তা মানদণ্ড প্রয়োগ এবং প্রয়োজনে নির্দিষ্ট এলাকায় বা নির্দিষ্ট ধরনের যান চলাচলে নিষেধাজ্ঞাসহ কার্যকর পদক্ষেপ বিবেচনা করা উচিত। একই সঙ্গে অবৈধ চার্জিং স্টেশন বন্ধ, নিবন্ধনবিহীন যান জব্দ এবং ট্রাফিক আইন কঠোরভাবে প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে।

রাষ্ট্রের প্রতিটি সিদ্ধান্তের কেন্দ্রে থাকতে হবে জনগণের নিরাপত্তা ও জনস্বার্থ। কোনো পরিবহনব্যবস্থা যদি নিয়ন্ত্রণের অভাবে নাগরিক জীবনে স্থায়ী দুর্ভোগ সৃষ্টি করে, তবে সেই সমস্যার সমাধানে কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়া দুর্বলতা নয়; বরং দায়িত্বশীল রাষ্ট্রের পরিচয়। এখন সময় সমস্যাকে অস্বীকার করার নয়, কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

অনিয়ন্ত্রিত ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা—আর কত?

আপডেট সময় ০৪:২৮:১৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১ জুলাই ২০২৬

দেশের সড়কে আজ শৃঙ্খলার চেয়ে বিশৃঙ্খলাই যেন বেশি দৃশ্যমান। যানজট, দুর্ঘটনা, ট্রাফিক আইন অমান্য এবং জনদুর্ভোগ—এসব সমস্যার অন্যতম আলোচিত কারণ হয়ে উঠেছে অনিয়ন্ত্রিত ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা। এটি কেবল একটি পরিবহনব্যবস্থার প্রশ্ন নয়; এটি জননিরাপত্তা, সড়ক শৃঙ্খলা, বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনা এবং কার্যকর রাষ্ট্র পরিচালনারও একটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু। অথচ দীর্ঘদিন ধরেই সমস্যাটি দৃশ্যমান হলেও কার্যকর উদ্যোগের অভাব প্রশ্নের জন্ম দিচ্ছে।

ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার ফলে দেশের বিদ্যুৎ ব্যবস্থার ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হচ্ছে। বিভিন্ন এলাকায় অবৈধ সংযোগ ও অননুমোদিত চার্জিং ব্যবস্থার অভিযোগ রয়েছে, যা বিদ্যুতের অপচয় ও সিস্টেমের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করে। যখন শিল্প, কৃষি ও আবাসিক খাতে বিদ্যুতের চাহিদা পূরণই একটি বড় চ্যালেঞ্জ, তখন অনিয়ন্ত্রিতভাবে এই খাতের সম্প্রসারণ জনস্বার্থের সঙ্গে কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ—সেটি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা দরকার।

সড়ক ব্যবস্থাপনায়ও এর নেতিবাচক প্রভাব স্পষ্ট। যেখানে-সেখানে যাত্রী ওঠানো-নামানো, ট্রাফিক আইন অমান্য, উল্টো পথে চলাচল এবং অদক্ষ চালনার কারণে যানজট ও দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে। নগর ও মফস্বল—উভয় এলাকাতেই সাধারণ মানুষ প্রতিদিন এর ভুক্তভোগী। উন্নত ও নিরাপদ সড়কব্যবস্থা গড়ে তুলতে হলে এই বাস্তবতা উপেক্ষা করার সুযোগ নেই।

আইনশৃঙ্খলার দিক থেকেও বিষয়টি গুরুত্বের দাবি রাখে। নিবন্ধন ও কার্যকর নজরদারির ঘাটতির সুযোগ নিয়ে কিছু অপরাধী অটোরিকশা ব্যবহার করে অপরাধ সংঘটনের চেষ্টা করে—এমন অভিযোগ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার বিভিন্ন অভিযানে উঠে এসেছে। যদিও এর অর্থ এই নয় যে সব চালক বা সব অটোরিকশা অপরাধের সঙ্গে জড়িত, তবে দুর্বল নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা যে ঝুঁকি তৈরি করে, তা অস্বীকার করার সুযোগ নেই।

এ অবস্থায় সরকারের উচিত বিষয়টিকে আর বিলম্ব না করে নীতিগতভাবে মূল্যায়ন করা। যেখানে অনিয়ন্ত্রিত ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা জনস্বার্থ, সড়ক নিরাপত্তা ও নগর ব্যবস্থাপনায় গুরুতর প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে, সেখানে কঠোর নিয়ন্ত্রণ, নিবন্ধন, নিরাপত্তা মানদণ্ড প্রয়োগ এবং প্রয়োজনে নির্দিষ্ট এলাকায় বা নির্দিষ্ট ধরনের যান চলাচলে নিষেধাজ্ঞাসহ কার্যকর পদক্ষেপ বিবেচনা করা উচিত। একই সঙ্গে অবৈধ চার্জিং স্টেশন বন্ধ, নিবন্ধনবিহীন যান জব্দ এবং ট্রাফিক আইন কঠোরভাবে প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে।

রাষ্ট্রের প্রতিটি সিদ্ধান্তের কেন্দ্রে থাকতে হবে জনগণের নিরাপত্তা ও জনস্বার্থ। কোনো পরিবহনব্যবস্থা যদি নিয়ন্ত্রণের অভাবে নাগরিক জীবনে স্থায়ী দুর্ভোগ সৃষ্টি করে, তবে সেই সমস্যার সমাধানে কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়া দুর্বলতা নয়; বরং দায়িত্বশীল রাষ্ট্রের পরিচয়। এখন সময় সমস্যাকে অস্বীকার করার নয়, কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের।