ঢাকা ০৯:২০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

১৭ ঘরে তালা, আশ্রয়হীনরা বাইরে—সাটুরিয়ার আশ্রয়ণ প্রকল্পে অব্যবস্থাপনার চিত্র

নিজস্ব সংবাদ :

সরকারের উদ্যোগে নির্মিত ঘর থাকার পরও সেখানে নেই কোনো বাসিন্দা। সরকারি নথিতে ১৭টি ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারকে পুনর্বাসনের কথা থাকলেও বাস্তবে মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলার বরাইদ ইউনিয়নের খলিশাডহুরা এলাকার আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পটি এখন প্রায় পরিত্যক্ত। সবগুলো ঘরেই ঝুলছে তালা, আর অবহেলায় ধীরে ধীরে নষ্ট হচ্ছে সরকারি সম্পদ।

রোববার (৫ জুলাই) দুপুরে প্রকল্প এলাকা ঘুরে দেখা যায়, চারদিকে নীরবতা বিরাজ করছে। যাতায়াতের রাস্তা, বিদ্যুৎ ও পানির ব্যবস্থা থাকলেও কোনো পরিবার সেখানে বসবাস করছে না। দীর্ঘদিন ব্যবহার না হওয়ায় ঘরগুলোর চারপাশে ঝোপঝাড় জন্মেছে, বারান্দায় জমেছে ময়লা-আবর্জনা। কিছু ঘরের দেয়ালে ইতোমধ্যে ফাটলও দেখা দিয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহানাজ বেগম জানান, ঘরগুলো খালি পড়ে থাকায় অনেকেই সেগুলোর বারান্দায় ট্রাক্টর, খড় ও গোবর রেখে ব্যবহার করছেন। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে ভবনগুলোর আরও ক্ষতি হবে বলে আশঙ্কা তার।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার (পিআইও) কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২০-২১ অর্থবছরে প্রতিটি ঘর প্রায় ১ লাখ ৭১ হাজার টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হয়। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রকল্পের আশপাশের প্রকৃত ভূমিহীনদের বাদ দিয়ে প্রায় ১২ কিলোমিটার দূরের বালিয়াটি ইউনিয়নের কয়েকজনের নামে এসব ঘর বরাদ্দ দেওয়া হয়। ফলে জীবিকা ও কর্মস্থল থেকে দূরে হওয়ায় তারা সেখানে বসবাস শুরু করেননি।

স্থানীয়দের মধ্যে আরও আলোচনা রয়েছে, বরাদ্দ পাওয়া কয়েকজন ঘরগুলো পরবর্তীতে বিক্রির উদ্দেশ্যে গ্রহণ করেছিলেন। কিন্তু সরকারি বিধিনিষেধের কারণে তা সম্ভব না হওয়ায় ঘরগুলো দীর্ঘদিন ধরে তালাবদ্ধ অবস্থায় পড়ে আছে।

স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. রমজান আলী বলেন, এলাকায় এখনও অনেক প্রকৃত ভূমিহীন পরিবার অন্যের জমিতে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছে। তাদের মধ্যে ঘরগুলো পুনর্বণ্টনের জন্য তিনি একাধিকবার উপজেলা প্রশাসনের কাছে আবেদন করলেও এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

সাটুরিয়া উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা খলিলুর রহমান মোল্লাহ জানান, তিনি সরেজমিনে গিয়ে সবগুলো ঘরই তালাবদ্ধ অবস্থায় পেয়েছেন।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কাজী মোহাম্মদ অনিক ইসলাম বলেন, বর্তমান বরাদ্দপ্রাপ্তদের নামে থাকা দলিল আইনগতভাবে বাতিল না হওয়া পর্যন্ত অন্য কাউকে ঘর দেওয়া সম্ভব নয়। যারা দীর্ঘদিন ঘর ব্যবহার করছেন না, তাদের কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হচ্ছে। আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর প্রকৃত ভূমিহীনদের মধ্যে ঘরগুলো পুনর্বণ্টনের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

সরকারের মানবিক উদ্যোগ হিসেবে নির্মিত এই আশ্রয়ণ প্রকল্পটি এখন কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। দ্রুত প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে কোটি টাকার সরকারি বিনিয়োগ যেমন ক্ষতির মুখে পড়বে, তেমনি প্রকৃত ভূমিহীন পরিবারগুলোর পুনর্বাসনের লক্ষ্যও অধরাই থেকে যাবে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

১৭ ঘরে তালা, আশ্রয়হীনরা বাইরে—সাটুরিয়ার আশ্রয়ণ প্রকল্পে অব্যবস্থাপনার চিত্র

আপডেট সময় ০৩:৪৫:২৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৬ জুলাই ২০২৬

সরকারের উদ্যোগে নির্মিত ঘর থাকার পরও সেখানে নেই কোনো বাসিন্দা। সরকারি নথিতে ১৭টি ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারকে পুনর্বাসনের কথা থাকলেও বাস্তবে মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলার বরাইদ ইউনিয়নের খলিশাডহুরা এলাকার আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পটি এখন প্রায় পরিত্যক্ত। সবগুলো ঘরেই ঝুলছে তালা, আর অবহেলায় ধীরে ধীরে নষ্ট হচ্ছে সরকারি সম্পদ।

রোববার (৫ জুলাই) দুপুরে প্রকল্প এলাকা ঘুরে দেখা যায়, চারদিকে নীরবতা বিরাজ করছে। যাতায়াতের রাস্তা, বিদ্যুৎ ও পানির ব্যবস্থা থাকলেও কোনো পরিবার সেখানে বসবাস করছে না। দীর্ঘদিন ব্যবহার না হওয়ায় ঘরগুলোর চারপাশে ঝোপঝাড় জন্মেছে, বারান্দায় জমেছে ময়লা-আবর্জনা। কিছু ঘরের দেয়ালে ইতোমধ্যে ফাটলও দেখা দিয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহানাজ বেগম জানান, ঘরগুলো খালি পড়ে থাকায় অনেকেই সেগুলোর বারান্দায় ট্রাক্টর, খড় ও গোবর রেখে ব্যবহার করছেন। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে ভবনগুলোর আরও ক্ষতি হবে বলে আশঙ্কা তার।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার (পিআইও) কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২০-২১ অর্থবছরে প্রতিটি ঘর প্রায় ১ লাখ ৭১ হাজার টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হয়। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রকল্পের আশপাশের প্রকৃত ভূমিহীনদের বাদ দিয়ে প্রায় ১২ কিলোমিটার দূরের বালিয়াটি ইউনিয়নের কয়েকজনের নামে এসব ঘর বরাদ্দ দেওয়া হয়। ফলে জীবিকা ও কর্মস্থল থেকে দূরে হওয়ায় তারা সেখানে বসবাস শুরু করেননি।

স্থানীয়দের মধ্যে আরও আলোচনা রয়েছে, বরাদ্দ পাওয়া কয়েকজন ঘরগুলো পরবর্তীতে বিক্রির উদ্দেশ্যে গ্রহণ করেছিলেন। কিন্তু সরকারি বিধিনিষেধের কারণে তা সম্ভব না হওয়ায় ঘরগুলো দীর্ঘদিন ধরে তালাবদ্ধ অবস্থায় পড়ে আছে।

স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. রমজান আলী বলেন, এলাকায় এখনও অনেক প্রকৃত ভূমিহীন পরিবার অন্যের জমিতে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছে। তাদের মধ্যে ঘরগুলো পুনর্বণ্টনের জন্য তিনি একাধিকবার উপজেলা প্রশাসনের কাছে আবেদন করলেও এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

সাটুরিয়া উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা খলিলুর রহমান মোল্লাহ জানান, তিনি সরেজমিনে গিয়ে সবগুলো ঘরই তালাবদ্ধ অবস্থায় পেয়েছেন।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কাজী মোহাম্মদ অনিক ইসলাম বলেন, বর্তমান বরাদ্দপ্রাপ্তদের নামে থাকা দলিল আইনগতভাবে বাতিল না হওয়া পর্যন্ত অন্য কাউকে ঘর দেওয়া সম্ভব নয়। যারা দীর্ঘদিন ঘর ব্যবহার করছেন না, তাদের কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হচ্ছে। আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর প্রকৃত ভূমিহীনদের মধ্যে ঘরগুলো পুনর্বণ্টনের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

সরকারের মানবিক উদ্যোগ হিসেবে নির্মিত এই আশ্রয়ণ প্রকল্পটি এখন কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। দ্রুত প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে কোটি টাকার সরকারি বিনিয়োগ যেমন ক্ষতির মুখে পড়বে, তেমনি প্রকৃত ভূমিহীন পরিবারগুলোর পুনর্বাসনের লক্ষ্যও অধরাই থেকে যাবে।