ঢাকা ০৮:০০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিদেশে পাঠানোর নামে প্রতারণা, বনানীর অফিসে সিআইডির অভিযান: গ্রেপ্তার ৫

নিজস্ব সংবাদ :

বিদেশে চাকরির ভিসা দেওয়ার কথা বলে প্রতারণা ও অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে রাজধানীর বনানীতে একটি প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালিয়ে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। এ সময় ওই অফিস থেকে ৫১টি বাংলাদেশি পাসপোর্ট, একটি ডিভিআর ও তিনটি স্মার্টফোন জব্দ করা হয়েছে।

এ ঘটনায় রোববার রাতে বনানী থানায় একটি মামলা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সিআইডি।

সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার সাখাওয়াত হোসেন জানান, বনানীতে অভিযান চালিয়ে কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অভিযানের বিষয়ে বিস্তারিত সোমবার জানানো হবে।

সিআইডি সূত্রে জানা গেছে, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা দুটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বিদেশে কর্মসংস্থানের বিজ্ঞাপন দিতেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কম খরচে সৌদি আরব, রাশিয়া ও কুয়েতসহ বিভিন্ন দেশে ভিসায় পাঠানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে তারা আগ্রহীদের সঙ্গে যোগাযোগ করতেন।

ভুক্তভোগীদের একজন মাহবুবুল আলম। তিনি জানান, সৌদি আরবে মাসে ২ হাজার ৫০০ রিয়াল বেতনের ড্রাইভিং ভিসার বিজ্ঞাপন দেখে তিনি সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। পরে বনানীর সৈনিক ক্লাবের কাছে একটি অফিসে গিয়ে প্রতিষ্ঠানের মালিক পরিচয় দেওয়া এক ব্যক্তির সঙ্গে তার কথা হয়।

সৌদি আরবে পাঠানোর জন্য ৩ লাখ ৭০ হাজার টাকায় চুক্তি হয়। চুক্তির পর বিভিন্ন সময়ে ব্যাংক ও বিকাশের মাধ্যমে ওই ব্যক্তিকে ১ লাখ ৭০ হাজার টাকা দেন মাহবুবুল। পরে ভিসা প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে জানিয়ে তাকে অফিসে ডাকা হয়। সেখানে আরও ৯৬ হাজার টাকা নেওয়ার পর তার হাতে তিন মাস মেয়াদি একটি ট্যুরিস্ট ভিসা দেওয়া হয়।

তবে ওই ভিসায় সৌদি আরবে পাঠানোর পর ড্রাইভিং ভিসায় চাকরি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি আর বাস্তবায়ন করা হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।

তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, গ্রেপ্তার পাঁচজন পরস্পরের যোগসাজশে বিভিন্ন ব্যক্তিকে বিদেশে পাঠানোর কথা বলে বড় অঙ্কের টাকা আদায় করেছেন। অভিযোগ রয়েছে, রাশিয়ায় পাঠানোর আশ্বাস দিয়ে একজনের কাছ থেকে ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা, সৌদি আরবে পাঠানোর কথা বলে আরেকজনের কাছ থেকে ৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা এবং কুয়েতে পাঠানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে অন্য একজনের কাছ থেকে ৯ লাখ টাকা নেওয়া হয়েছে।

অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে পাওয়া অভিযোগগুলো যাচাই করে ঘটনার সঙ্গে আরও কেউ জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখছে সিআইডি।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

বিদেশে পাঠানোর নামে প্রতারণা, বনানীর অফিসে সিআইডির অভিযান: গ্রেপ্তার ৫

আপডেট সময় ০২:৫০:৩৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬

বিদেশে চাকরির ভিসা দেওয়ার কথা বলে প্রতারণা ও অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে রাজধানীর বনানীতে একটি প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালিয়ে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। এ সময় ওই অফিস থেকে ৫১টি বাংলাদেশি পাসপোর্ট, একটি ডিভিআর ও তিনটি স্মার্টফোন জব্দ করা হয়েছে।

এ ঘটনায় রোববার রাতে বনানী থানায় একটি মামলা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সিআইডি।

সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার সাখাওয়াত হোসেন জানান, বনানীতে অভিযান চালিয়ে কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অভিযানের বিষয়ে বিস্তারিত সোমবার জানানো হবে।

সিআইডি সূত্রে জানা গেছে, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা দুটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বিদেশে কর্মসংস্থানের বিজ্ঞাপন দিতেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কম খরচে সৌদি আরব, রাশিয়া ও কুয়েতসহ বিভিন্ন দেশে ভিসায় পাঠানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে তারা আগ্রহীদের সঙ্গে যোগাযোগ করতেন।

ভুক্তভোগীদের একজন মাহবুবুল আলম। তিনি জানান, সৌদি আরবে মাসে ২ হাজার ৫০০ রিয়াল বেতনের ড্রাইভিং ভিসার বিজ্ঞাপন দেখে তিনি সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। পরে বনানীর সৈনিক ক্লাবের কাছে একটি অফিসে গিয়ে প্রতিষ্ঠানের মালিক পরিচয় দেওয়া এক ব্যক্তির সঙ্গে তার কথা হয়।

সৌদি আরবে পাঠানোর জন্য ৩ লাখ ৭০ হাজার টাকায় চুক্তি হয়। চুক্তির পর বিভিন্ন সময়ে ব্যাংক ও বিকাশের মাধ্যমে ওই ব্যক্তিকে ১ লাখ ৭০ হাজার টাকা দেন মাহবুবুল। পরে ভিসা প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে জানিয়ে তাকে অফিসে ডাকা হয়। সেখানে আরও ৯৬ হাজার টাকা নেওয়ার পর তার হাতে তিন মাস মেয়াদি একটি ট্যুরিস্ট ভিসা দেওয়া হয়।

তবে ওই ভিসায় সৌদি আরবে পাঠানোর পর ড্রাইভিং ভিসায় চাকরি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি আর বাস্তবায়ন করা হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।

তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, গ্রেপ্তার পাঁচজন পরস্পরের যোগসাজশে বিভিন্ন ব্যক্তিকে বিদেশে পাঠানোর কথা বলে বড় অঙ্কের টাকা আদায় করেছেন। অভিযোগ রয়েছে, রাশিয়ায় পাঠানোর আশ্বাস দিয়ে একজনের কাছ থেকে ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা, সৌদি আরবে পাঠানোর কথা বলে আরেকজনের কাছ থেকে ৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা এবং কুয়েতে পাঠানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে অন্য একজনের কাছ থেকে ৯ লাখ টাকা নেওয়া হয়েছে।

অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে পাওয়া অভিযোগগুলো যাচাই করে ঘটনার সঙ্গে আরও কেউ জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখছে সিআইডি।