বন্যাদুর্গত চট্টগ্রামে প্রধানমন্ত্রীর প্রথম সফর, ত্রাণ বিতরণ ও ১০০টি নতুন ঘর হস্তান্তর
বন্যাকবলিত চট্টগ্রামের তিন উপজেলা—হাটহাজারী, ফটিকছড়ি ও বাঁশখালী—পরিদর্শনে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আগামী রোববার (৯ আগস্ট) এই সফর অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী জানিয়েছেন, সফরসূচি চূড়ান্ত হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে।
দায়িত্ব গ্রহণের পর এটি হবে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমানের প্রথম চট্টগ্রাম সফর। সফরকে ঘিরে জেলা প্রশাসন, স্থানীয় প্রশাসন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাগুলো মাঠপর্যায়ে প্রস্তুতি নিচ্ছে। একই সঙ্গে ক্ষমতাসীন দল ও সহযোগী সংগঠনগুলোও তাকে স্বাগত জানাতে নানা কর্মসূচি হাতে নিয়েছে।
সফরের অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য হচ্ছে সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো। প্রধানমন্ত্রী দুর্গত পরিবারগুলোর মধ্যে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করবেন এবং যেসব পরিবার ঘরবাড়ি হারিয়েছে তাদের জন্য সরকারি উদ্যোগে নির্মিত নতুন বাড়িগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করবেন।
প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, পুনর্বাসন কর্মসূচির আওতায় নির্মিত ঘরগুলোর কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। নির্ধারিত দিনে প্রধানমন্ত্রী নিজ হাতে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর কাছে ঘরের চাবি তুলে দেবেন। এছাড়া তিনি দুর্গত এলাকার মানুষের সঙ্গে কথা বলবেন এবং একটি সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তব্য দেওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।
সফরের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে প্রধানমন্ত্রী পশ্চিম বাঁশখালী এলাকা পরিদর্শন করবেন। সেখানে বন্যাদুর্গত মানুষের মধ্যে ত্রাণ বিতরণের পাশাপাশি সরকারি সহায়তায় পুনর্নির্মিত ১০০টি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে বলে জানা গেছে।
প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে সম্ভাব্য অবতরণস্থল নির্ধারণ করে হেলিপ্যাড প্রস্তুতের কাজও চলছে। প্রশাসনের বিভিন্ন বিভাগ সফর সফল করতে সমন্বিতভাবে কাজ করছে।
চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ইদ্রিস মিয়া জানিয়েছেন, সফরকে সামনে রেখে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা নিতে তাকে ও দলের সদস্য সচিবকে প্রধানমন্ত্রীর গুলশান কার্যালয়ে ডাকা হয়েছিল। স্থানীয় নেতাকর্মীদের ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রমে সহযোগিতা এবং সফর সফল করতে সক্রিয় থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
চট্টগ্রামের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোহাম্মদ শরীফ উদ্দিন বলেন, প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রাথমিক প্রস্তুতি গুছিয়ে রাখা হয়েছে। সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে বিস্তারিত সরকারি কর্মসূচি পাওয়ার পর পূর্ণাঙ্গ প্রস্তুতি চূড়ান্ত করা হবে।
বন্যার ক্ষত কাটিয়ে উঠতে চট্টগ্রামের দুর্গত মানুষের জন্য এই সফরকে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের আশা, প্রধানমন্ত্রীর সরেজমিন উপস্থিতি পুনর্বাসন ও সহায়তা কার্যক্রমকে আরও গতি দেবে।
























