ঢাকা ০৬:১৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা গড়তে ২৫ হাজার মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম, জুলাইয়ে মাদ্রাসা শিক্ষকদের বকেয়া বেতন পরিশোধের আশ্বাস

নিজস্ব সংবাদ :

দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর করে তুলতে বড় ধরনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে ২৫ হাজার মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম স্থাপন এবং শিক্ষকদের হাতে ট্যাব তুলে দেওয়ার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। একইসঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, আগামী জুলাই মাসের মধ্যেই মাদ্রাসা শিক্ষকদের সব বকেয়া বেতন পরিশোধ করা হবে।

রবিবার (২৮ জুন) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও প্রথম বাজেট অধিবেশনের ১৭তম কার্যদিবসে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব তথ্য তুলে ধরেন।

মন্ত্রী জানান, ‘ওয়ান টিচার, ওয়ান ট্যাব’ কর্মসূচির আওতায় দেশের শিক্ষকদের পর্যায়ক্রমে ট্যাব সরবরাহ করা হবে। এর মাধ্যমে ২৫ হাজার মাল্টিমিডিয়া শ্রেণিকক্ষ গড়ে তোলা হবে, যেখানে শিক্ষকরা ডিজিটাল পদ্ধতিতে পাঠদান, পাঠ পরিকল্পনা এবং শিক্ষার্থীদের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করতে পারবেন।

তিনি আরও বলেন, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা পর্যায়ে অতিরিক্ত ২০ হাজার মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম স্থাপনের পরিকল্পনাও বাস্তবায়নের পথে রয়েছে। পাশাপাশি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ভৌগোলিক ও সামাজিক বৈষম্য কমাতে ৫০০ প্রতিষ্ঠানের জিওগ্রাফিক ইনফরমেশন সিস্টেম (জিআইএস) ম্যাপিং করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে দেশের ১৫ হাজার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বিনামূল্যে ওয়াই-ফাই সুবিধা চালু হয়েছে এবং প্রতিটি শিক্ষার্থীর জন্য ইউনিক এডুকেশন আইডি চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, মুখস্থনির্ভর শিক্ষার পরিবর্তে আনন্দমুখর শিক্ষার পরিবেশ গড়ে তুলতে সরকার ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ কর্মসূচি চালু করছে। এ উদ্যোগের অংশ হিসেবে প্রাথমিকভাবে ৩০০ শিক্ষককে বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, জন্মের পর থেকেই যদি প্রত্যেক নাগরিকের জন্য সমন্বিত একটি পরিচয় নম্বর চালু থাকত, তাহলে আলাদা করে ইউনিক এডুকেশন আইডির প্রয়োজন হতো না। এ বিষয়ে তিনি প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন বলেও জানান।

পরিবেশ সুরক্ষায় শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ত করতে ‘ওয়ান চাইল্ড, ওয়ান ট্রি’ কর্মসূচির আওতায় প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে বছরে অন্তত একটি গাছ লাগানোর আহ্বান জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, কর্মসূচিটির বাস্তবায়ন ইতোমধ্যেই শুরু হয়েছে। এছাড়া আগামী সোমবার চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে স্টার্টআপ ইনোভেশন শোকেস উদ্বোধনের কথাও জানান তিনি।

মন্ত্রী জানান, আগামী বছর থেকে সারাদেশে বিএনসিসির কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করা হবে। একই সঙ্গে বান্দরবানের দুর্গম থানচি উপজেলার হিন্দু নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক বাম খিয়াং মিলানের আত্মত্যাগের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, আর্থিক সংকটের মধ্যেও বিদ্যালয়টি সচল রাখতে তিনি নিজেই ইঞ্জিনচালিত নৌকায় পর্যটক পরিবহন করেন এবং সেই আয়ের বড় একটি অংশ বিদ্যালয়ের পরিচালনায় ব্যয় করেন। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার পর বিদ্যালয়টি জাতীয়করণের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

মাদ্রাসা শিক্ষকদের বকেয়া বেতন প্রসঙ্গে শিক্ষামন্ত্রী জানান, সম্প্রতি এনটিআরসিএর মাধ্যমে প্রায় ১৭ হাজার শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এসব শিক্ষকের বেতন পরিশোধে প্রতি মাসে প্রায় ৫০১ কোটি টাকা প্রয়োজন হলেও পর্যাপ্ত বরাদ্দ না থাকায় চলতি মাসে বেতন দেওয়া সম্ভব হয়নি।

তিনি বলেন, অর্থমন্ত্রী জরুরি ভিত্তিতে ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দের ব্যবস্থা করেছেন। পাশাপাশি আগামী জুলাই মাসে প্রয়োজনীয় অবশিষ্ট অর্থ ছাড় দেওয়া হবে। ফলে মাদ্রাসা শিক্ষকদের বকেয়া বেতন সম্পূর্ণ পরিশোধ করা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

এ সময় অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের কল্যাণ ট্রাস্ট ও অবসরভাতার দীর্ঘদিনের জটিলতার বিষয়টিও সংসদে তুলে ধরেন শিক্ষামন্ত্রী। তিনি বলেন, ২০২০ সালের পর অবসরে যাওয়া অনেক শিক্ষক এখনও তাদের প্রাপ্য অর্থ পাননি। এ সমস্যা সমাধানে সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করছে।

বাজেট আলোচনায় তিনি শিক্ষা খাতে সরকারের চলমান সংস্কার, প্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি এবং বরাদ্দের কার্যকর বাস্তবায়নের বিষয়েও বিস্তারিত তুলে ধরেন।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা গড়তে ২৫ হাজার মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম, জুলাইয়ে মাদ্রাসা শিক্ষকদের বকেয়া বেতন পরিশোধের আশ্বাস

আপডেট সময় ০৫:৩৭:১৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬

দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর করে তুলতে বড় ধরনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে ২৫ হাজার মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম স্থাপন এবং শিক্ষকদের হাতে ট্যাব তুলে দেওয়ার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। একইসঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, আগামী জুলাই মাসের মধ্যেই মাদ্রাসা শিক্ষকদের সব বকেয়া বেতন পরিশোধ করা হবে।

রবিবার (২৮ জুন) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও প্রথম বাজেট অধিবেশনের ১৭তম কার্যদিবসে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব তথ্য তুলে ধরেন।

মন্ত্রী জানান, ‘ওয়ান টিচার, ওয়ান ট্যাব’ কর্মসূচির আওতায় দেশের শিক্ষকদের পর্যায়ক্রমে ট্যাব সরবরাহ করা হবে। এর মাধ্যমে ২৫ হাজার মাল্টিমিডিয়া শ্রেণিকক্ষ গড়ে তোলা হবে, যেখানে শিক্ষকরা ডিজিটাল পদ্ধতিতে পাঠদান, পাঠ পরিকল্পনা এবং শিক্ষার্থীদের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করতে পারবেন।

তিনি আরও বলেন, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা পর্যায়ে অতিরিক্ত ২০ হাজার মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম স্থাপনের পরিকল্পনাও বাস্তবায়নের পথে রয়েছে। পাশাপাশি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ভৌগোলিক ও সামাজিক বৈষম্য কমাতে ৫০০ প্রতিষ্ঠানের জিওগ্রাফিক ইনফরমেশন সিস্টেম (জিআইএস) ম্যাপিং করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে দেশের ১৫ হাজার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বিনামূল্যে ওয়াই-ফাই সুবিধা চালু হয়েছে এবং প্রতিটি শিক্ষার্থীর জন্য ইউনিক এডুকেশন আইডি চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, মুখস্থনির্ভর শিক্ষার পরিবর্তে আনন্দমুখর শিক্ষার পরিবেশ গড়ে তুলতে সরকার ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ কর্মসূচি চালু করছে। এ উদ্যোগের অংশ হিসেবে প্রাথমিকভাবে ৩০০ শিক্ষককে বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, জন্মের পর থেকেই যদি প্রত্যেক নাগরিকের জন্য সমন্বিত একটি পরিচয় নম্বর চালু থাকত, তাহলে আলাদা করে ইউনিক এডুকেশন আইডির প্রয়োজন হতো না। এ বিষয়ে তিনি প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন বলেও জানান।

পরিবেশ সুরক্ষায় শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ত করতে ‘ওয়ান চাইল্ড, ওয়ান ট্রি’ কর্মসূচির আওতায় প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে বছরে অন্তত একটি গাছ লাগানোর আহ্বান জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, কর্মসূচিটির বাস্তবায়ন ইতোমধ্যেই শুরু হয়েছে। এছাড়া আগামী সোমবার চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে স্টার্টআপ ইনোভেশন শোকেস উদ্বোধনের কথাও জানান তিনি।

মন্ত্রী জানান, আগামী বছর থেকে সারাদেশে বিএনসিসির কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করা হবে। একই সঙ্গে বান্দরবানের দুর্গম থানচি উপজেলার হিন্দু নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক বাম খিয়াং মিলানের আত্মত্যাগের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, আর্থিক সংকটের মধ্যেও বিদ্যালয়টি সচল রাখতে তিনি নিজেই ইঞ্জিনচালিত নৌকায় পর্যটক পরিবহন করেন এবং সেই আয়ের বড় একটি অংশ বিদ্যালয়ের পরিচালনায় ব্যয় করেন। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার পর বিদ্যালয়টি জাতীয়করণের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

মাদ্রাসা শিক্ষকদের বকেয়া বেতন প্রসঙ্গে শিক্ষামন্ত্রী জানান, সম্প্রতি এনটিআরসিএর মাধ্যমে প্রায় ১৭ হাজার শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এসব শিক্ষকের বেতন পরিশোধে প্রতি মাসে প্রায় ৫০১ কোটি টাকা প্রয়োজন হলেও পর্যাপ্ত বরাদ্দ না থাকায় চলতি মাসে বেতন দেওয়া সম্ভব হয়নি।

তিনি বলেন, অর্থমন্ত্রী জরুরি ভিত্তিতে ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দের ব্যবস্থা করেছেন। পাশাপাশি আগামী জুলাই মাসে প্রয়োজনীয় অবশিষ্ট অর্থ ছাড় দেওয়া হবে। ফলে মাদ্রাসা শিক্ষকদের বকেয়া বেতন সম্পূর্ণ পরিশোধ করা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

এ সময় অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের কল্যাণ ট্রাস্ট ও অবসরভাতার দীর্ঘদিনের জটিলতার বিষয়টিও সংসদে তুলে ধরেন শিক্ষামন্ত্রী। তিনি বলেন, ২০২০ সালের পর অবসরে যাওয়া অনেক শিক্ষক এখনও তাদের প্রাপ্য অর্থ পাননি। এ সমস্যা সমাধানে সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করছে।

বাজেট আলোচনায় তিনি শিক্ষা খাতে সরকারের চলমান সংস্কার, প্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি এবং বরাদ্দের কার্যকর বাস্তবায়নের বিষয়েও বিস্তারিত তুলে ধরেন।