ঢাকা ০৬:২৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬, ১৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পানি নামলেও শেষ হয়নি দুর্ভোগ: চট্টগ্রামে বন্যার ক্ষতচিহ্নে কান্না, হাজারো পরিবার নিঃস্ব

নিজস্ব সংবাদ :

টানা অতি ভারী বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের পর চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় বন্যার পানি ধীরে ধীরে কমতে শুরু করেছে। তবে পানি সরে গেলেও স্পষ্ট হয়ে উঠছে ভয়াবহ ধ্বংসযজ্ঞের চিত্র। ভেঙে পড়েছে অসংখ্য বসতঘর, ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে রাস্তাঘাট, তলিয়ে গিয়ে নষ্ট হয়েছে ফসলি জমি ও সবজিক্ষেত। মাছের ঘের, পোলট্রি খামার এবং কৃষি খাতে কোটি টাকার ক্ষতির মুখে পড়েছেন স্থানীয়রা। অনেক পরিবার এখন মাথা গোঁজার ঠাঁই হারিয়ে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছে।

সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত সাতকানিয়া ও বাঁশখালী উপজেলায় পানি কমার সঙ্গে সঙ্গে আশ্রয়কেন্দ্র থেকে বাড়ি ফিরছেন দুর্গত মানুষ। কিন্তু ঘরে ফিরেই তাদের সামনে ভেসে উঠছে নতুন বাস্তবতা। কোথাও ঘর কাদায় ভরে গেছে, কোথাও পানিতে নষ্ট হয়েছে আসবাবপত্র, আবার অনেকের বসতঘর সম্পূর্ণ ধসে পড়েছে। নিরাপদে বসবাসের মতো পরিবেশ না থাকায় চরম অনিশ্চয়তায় দিন কাটছে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর।

সাতকানিয়া উপজেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, বন্যার সময় প্রায় ১ হাজার ৫০০ মানুষ সরকারি আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছিলেন। পানি কমতে শুরু করায় তাদের মধ্যে প্রায় ১ হাজার ২০০ জন ইতোমধ্যে নিজ নিজ বাড়িতে ফিরে গেছেন। বাকিরাও পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে ফিরবেন।

সাতকানিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খন্দকার মাহমুদুল হাসান জানান, উপজেলার ১৮টি ইউনিয়নের প্রায় ৮৫ শতাংশ এলাকা বন্যার কবলে পড়েছে। কিছু এলাকায় পানি নেমে গেলেও অনেক সড়ক এখনও পানির নিচে রয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত মাটির ঘরের তালিকা প্রস্তুতের কাজ চলছে এবং বৃষ্টি না হলে আগামী কয়েক দিনের মধ্যে পরিস্থিতি আরও উন্নতির আশা করা হচ্ছে।

অন্যদিকে, বাঁশখালীর অনেক এলাকায় এখনও হাজার হাজার মানুষ পানিবন্দি। স্থানীয়দের অভিযোগ, বহু পরিবার ঘরে ফিরে দেখছেন তাদের একমাত্র আশ্রয়স্থলটিও আর নেই। অনেকেই পর্যাপ্ত ত্রাণ সহায়তা পাননি বলে দাবি করেছেন। কর্মহীন হয়ে পড়ায় দিনমজুর ও নিম্নআয়ের মানুষের সংকট আরও গভীর হয়েছে।

বাঁশখালী উপজেলা প্রশাসনের প্রাথমিক হিসেবে, বন্যায় চার হাজারেরও বেশি কাঁচা ও মাটির ঘর ধসে পড়েছে। এখনও প্রায় ৩০ হাজার মানুষ পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছেন। ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ তালিকা তৈরির পাশাপাশি পুনর্বাসনের প্রস্তুতিও চলছে বলে জানিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।

জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রাম মহানগরসহ জেলার ১৬টি উপজেলা বন্যা ও জলাবদ্ধতায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ১২২টি ইউনিয়ন বা এলাকা এ দুর্যোগে আক্রান্ত হয়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে বাঁশখালী ও সাতকানিয়ায়। পাহাড়ধস ও বন্যাজনিত ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১৩ জনের মৃত্যু এবং ১২ জন আহত হয়েছেন। বর্তমানে জেলার ৪১৫টি আশ্রয়কেন্দ্রে ১৬ হাজার ৮২১ জন মানুষ অবস্থান করছেন।

চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা জানিয়েছেন, দুর্গত মানুষের সহায়তায় ইতোমধ্যে ৬৮৪ টন চাল এবং ৬২ লাখ ৫০ হাজার টাকা বিতরণ করা হয়েছে। প্রয়োজন অনুযায়ী আগামী দিনগুলোতেও ত্রাণ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে তিনি জানিয়েছেন।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

পানি নামলেও শেষ হয়নি দুর্ভোগ: চট্টগ্রামে বন্যার ক্ষতচিহ্নে কান্না, হাজারো পরিবার নিঃস্ব

আপডেট সময় ০৪:১৪:৪৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬

টানা অতি ভারী বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের পর চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় বন্যার পানি ধীরে ধীরে কমতে শুরু করেছে। তবে পানি সরে গেলেও স্পষ্ট হয়ে উঠছে ভয়াবহ ধ্বংসযজ্ঞের চিত্র। ভেঙে পড়েছে অসংখ্য বসতঘর, ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে রাস্তাঘাট, তলিয়ে গিয়ে নষ্ট হয়েছে ফসলি জমি ও সবজিক্ষেত। মাছের ঘের, পোলট্রি খামার এবং কৃষি খাতে কোটি টাকার ক্ষতির মুখে পড়েছেন স্থানীয়রা। অনেক পরিবার এখন মাথা গোঁজার ঠাঁই হারিয়ে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছে।

সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত সাতকানিয়া ও বাঁশখালী উপজেলায় পানি কমার সঙ্গে সঙ্গে আশ্রয়কেন্দ্র থেকে বাড়ি ফিরছেন দুর্গত মানুষ। কিন্তু ঘরে ফিরেই তাদের সামনে ভেসে উঠছে নতুন বাস্তবতা। কোথাও ঘর কাদায় ভরে গেছে, কোথাও পানিতে নষ্ট হয়েছে আসবাবপত্র, আবার অনেকের বসতঘর সম্পূর্ণ ধসে পড়েছে। নিরাপদে বসবাসের মতো পরিবেশ না থাকায় চরম অনিশ্চয়তায় দিন কাটছে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর।

সাতকানিয়া উপজেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, বন্যার সময় প্রায় ১ হাজার ৫০০ মানুষ সরকারি আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছিলেন। পানি কমতে শুরু করায় তাদের মধ্যে প্রায় ১ হাজার ২০০ জন ইতোমধ্যে নিজ নিজ বাড়িতে ফিরে গেছেন। বাকিরাও পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে ফিরবেন।

সাতকানিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খন্দকার মাহমুদুল হাসান জানান, উপজেলার ১৮টি ইউনিয়নের প্রায় ৮৫ শতাংশ এলাকা বন্যার কবলে পড়েছে। কিছু এলাকায় পানি নেমে গেলেও অনেক সড়ক এখনও পানির নিচে রয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত মাটির ঘরের তালিকা প্রস্তুতের কাজ চলছে এবং বৃষ্টি না হলে আগামী কয়েক দিনের মধ্যে পরিস্থিতি আরও উন্নতির আশা করা হচ্ছে।

অন্যদিকে, বাঁশখালীর অনেক এলাকায় এখনও হাজার হাজার মানুষ পানিবন্দি। স্থানীয়দের অভিযোগ, বহু পরিবার ঘরে ফিরে দেখছেন তাদের একমাত্র আশ্রয়স্থলটিও আর নেই। অনেকেই পর্যাপ্ত ত্রাণ সহায়তা পাননি বলে দাবি করেছেন। কর্মহীন হয়ে পড়ায় দিনমজুর ও নিম্নআয়ের মানুষের সংকট আরও গভীর হয়েছে।

বাঁশখালী উপজেলা প্রশাসনের প্রাথমিক হিসেবে, বন্যায় চার হাজারেরও বেশি কাঁচা ও মাটির ঘর ধসে পড়েছে। এখনও প্রায় ৩০ হাজার মানুষ পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছেন। ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ তালিকা তৈরির পাশাপাশি পুনর্বাসনের প্রস্তুতিও চলছে বলে জানিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।

জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রাম মহানগরসহ জেলার ১৬টি উপজেলা বন্যা ও জলাবদ্ধতায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ১২২টি ইউনিয়ন বা এলাকা এ দুর্যোগে আক্রান্ত হয়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে বাঁশখালী ও সাতকানিয়ায়। পাহাড়ধস ও বন্যাজনিত ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১৩ জনের মৃত্যু এবং ১২ জন আহত হয়েছেন। বর্তমানে জেলার ৪১৫টি আশ্রয়কেন্দ্রে ১৬ হাজার ৮২১ জন মানুষ অবস্থান করছেন।

চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা জানিয়েছেন, দুর্গত মানুষের সহায়তায় ইতোমধ্যে ৬৮৪ টন চাল এবং ৬২ লাখ ৫০ হাজার টাকা বিতরণ করা হয়েছে। প্রয়োজন অনুযায়ী আগামী দিনগুলোতেও ত্রাণ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে তিনি জানিয়েছেন।